Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

অনুকরণ নয় অনুসরণে তিনি শ্রীদেবী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০১৮, ১০:১২ PM আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮, ১০:১২ PM

bdmorning Image Preview


নিয়াজ শুভ।।

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের প্রথম নারী সুপারস্টার শ্রীদেবী। তিনি যখন কাঁদতেন সেটিও দর্শককে আনন্দ দেয়ার জন্য। তিনি হাসলে গোমড়া মুখের প্যাঁচাও না হেসে থাকতে পারতো না। এ যেন এক মায়া জাদু।

শ্রীদেবীকে শ্রদ্ধা জানাতেই তার সাজে সেজেছিলেন ঢাকা অ্যাটাক খ্যাত অভিনেত্রী নওশাবা। শ্রীদেবীর প্রতি নওশাবার শ্রদ্ধার কমতি না থাকলেও হারানোর ব্যাথা ঠিকই আছে। তার কাছে শ্রীদেবী এমনই এক ব্যাক্তিত্ব যার চোখের দ্যুতি ৫৪ বছরেও কমেনি।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়ে। কিন্তু শ্রীদেবী নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখার যে স্পীহা দেখিয়েছেন তা সত্যিই চোখে লাগার মতো। তার নিস্পাপ মুখের শিশুসুলভ চাহনি মায়ার ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে। স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে চলেছেন। পক্ষান্তরে নওশাবা নায়িকা তকমার দোহায় দিয়ে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অপরাধ মাড়িয়ে যেতে পারেন না। অন্যায়, অবিচার কিংবা অনৈতিক কোন কর্মকাণ্ড দেখলেই প্রতিবাদের দূত হয়ে আসেন নওশাবা।

নওশাবা ছোটবেলা থেকেই কল্পনায় শ্রীদেবীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়েন। তার মন খারাপ হলেই তিনি শ্রীদেবীর মোহে ডুবে যেতেন। শ্রীদেবীর দুষ্টমী, শিশুসুলভ আচরণ নওশাবার মনে শক্তি জোগাত। এক শিশুর কাছে কোন নায়িকার মুখচ্ছবির এমন প্রভাব খুবই বিরল। কোন অভিনেত্রীর জীবনে হয়তো এটিই সাফল্য।

কোন বিদায়ই সুখের না। তবে বিদায় যেন হয় সুন্দর, স্মরণীয়। শ্রীদেবীর একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় তার চলে যাওয়াতে নওশাবার মনে কষ্টের পরশ বুলিয়ে গেলেও এটি ভেবে নিজেকে শান্তনা দিয়েছেন যে, গৌরবোজ্জ্বল থাকতে থাকতেই শ্রীদেবী বিদায় নিয়েছেন। ওই চোখটা যতদিন মরে যায়নি, দ্যুতিটা আড়ালে গেলেও সেই চেহারাটাই চোখে ভাসবে। একজন অভিনেত্রীর এমনই বিদায় হওয়া উচিত।

নওশাবার মতে প্রকৃতি কখনো অন্যায় করে না। প্রকৃতি কখনো অবিচার করে না। প্রকৃতির বিচারেই উনি পরপারে চলে গেছেন। প্রত্যেক মানুষেরই ভালো-খারাপ দুটি দিক থাকে। দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়ার জন্য একজন নায়িকাকে তার জীবনের অনেক সুখ, হাসি, আনন্দ বিসর্জন দিতে হয়। তাই আমরা শ্রীদেবীর সেই মুখচ্ছবি মনে রাখি যেটি আমাদের আনন্দ দিয়েছে।

শ্রীদেবী কখনো নওশাবা হতে পারবে না, নওশাবা কখনো শ্রীদেবী হতে পারবে না। নওশাবা অনুকরণ নয়, অনুসরণ প্রিয়। যেহেতু নওশাবা অনুসরণ প্রিয় তাই তিনিও শ্রীদেবীর মতো আনন্দ দিয়ে যেতে চান। শ্রীদেবীর পথেই চলতে চান। নওশাবা হয়ে উঠুক শ্রীদেবী।

Bootstrap Image Preview