Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

গর্ভকালীন সময়টা আমি খুব আত্মতৃপ্তি নিয়ে করেছিঃ মৌসুমী হামিদ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪৫ PM
আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪৫ PM

bdmorning Image Preview


ছোটবেলায় লুকিয়ে অন্যের বাসায় টিভি দেখতে যাওয়ার অপরাধে বকা খাওয়া মেয়েটিই আজকের অভিনেত্রী। শিল্পমনা মন নিয়েই বেড়ে উঠেছেন তিনি। ছোট পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নাম লিখিয়েছেন জনপ্রিয়তার খাতায়। বড় পর্দায়ও রয়েছে তার বিচরণ। তিনি মিষ্টি মুখের স্নিগ্ধ হাসির মেয়ে মৌসুমী হামিদ। প্রিয় অভিনেত্রীর চলমান ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তি মৌসুমীকে জানতে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

মৌসুমী হামিদঃ ভালো।

ব্যস্ততা কেমন চলছে?

মৌসুমী হামিদঃ বেশ কিছু সিরিয়ালের কাজ করছি। এছাড়া সিঙ্গেল নাটক তো আছেই।

আপনার পছন্দের সিরিয়াল কোনটি?

মৌসুমী হামিদঃ এস এ হক অলিক ভাইয়ের একটা সিরিয়ালের কাজ শুরু করেছি। যেটা হয়তো কোন টেলিভিশন চ্যানেলে যাবে না, ওয়েব বা অনলাইন কোন চ্যানেলে যাবে। সিরিয়ালের নাম এখনো ঠিক হয়নি। তবে এতে সম্পর্কটাকে দেখানো হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সামাজিক যে পরিস্থিতি, যেখানে আমরা নিজেদের মতো থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু এই সিরিয়ালে এমন সম্পর্ককে দেখানো হচ্ছে না। যে কোন সম্পর্কই যে গুরুত্বপূর্ণ সেটিই এখানে দেখানো হয়েছে। এখানে চারটা ফ্যামিলিকে দেখানো হয়েছে। নাটকের গল্পটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আমি মনে করি এটি ভালো একটি কাজ হবে।

নতুন বছরে কাজের প্রত্যাশা কেমন?

মৌসুমী হামিদঃ এই বছর আমি বেছে বেছে কাজ করবো না। অবশ্যই স্ক্রিপ্ট পড়বো, গল্প ভালো না লাগলে তো আর কাজ করবো না। গত বছর আমি খুবই বেছে বেছে কাজ করেছি। তবে এই বছরটা আমার জন্য নিরীক্ষণের বছর বলা চলে। আমি আসলে নিজেকে নিরীক্ষণ করতে চাই। খুব সাধারণ একটি গল্প হলেও আমি আমার সর্বোচ্চটা দিবো। এটা আমার অভিনয়ের প্রশিক্ষণ বলতে পারেন। আমার অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এই বছর আমি সব ধরণের কাজ করতে চাই।

বড় পর্দায় কাজের পরিকল্পনা...

মৌসুমী হামিদঃ প্রতি বছরই তো বড় পর্দায় কাজের পরিকল্পনা থাকে। ‘জালালের গল্প’ রিলিজ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, থাক আমি এখন বাণিজ্যিক সিনেমায় না যাই। বাণিজ্যিক সিনেমায় দর্শকরা আমাকে গ্রহণ করবে কিনা সেটা বুঝার জন্য সিনেমাটা করা। আমি দেখেছি সবাই আমাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

জালালের গল্পের কোন স্মৃতি বেশি মনে পড়ে?

মৌসুমী হামিদঃ অভিনয় হচ্ছে ছোট ছোট প্রতিক্রিয়া। জালালের গল্পের কিছু কিছু জায়গা আমার খুব পছন্দের। যখন ছেলেটা আমার চুল আঁচড়ে দেয়, আবার বাচ্চা যখন আমার পেটে লাথি মারে তখন আমি যে ওর হাত দিয়ে ধরে দেখি সেই অনুভূতিটা। তবে একজন গর্ভবতী মেয়ের অনুভূতি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আমাদের শুটিং হয়েছে টাঙ্গাইলে। মহিলাদের সেই অনুভূতি দেখার জন্য আমি সেখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঘুরেছি। আমার মাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতাম, আমি যখন তোমার পেটে ছিলাম তোমার কেমন লাগতো? সেই সময় মেয়েদের কেমন অবস্থা থাকে, তারা কেমন অনুভব করে সবকিছু জেনে নিতাম। যখন প্রসব ব্যাথায় মেয়েটা মারা যাবে সেই সিনটা কেমন হবে সেটা জানার জন্য যাদের আত্মীয় প্রসবকালে মারা গেছে তাদের জিজ্ঞাসা করেছি। ‘জালালের গল্প’ করে আমি আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। বিশেষ করে গর্ভকালীন সময়টা আমি খুব আত্মতৃপ্তি নিয়ে করেছি।

এক রকম গল্প শুনে শুটিংয়ে গিয়ে দেখলেন ভিন্ন গল্প, সেই বিষয়গুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন?

মৌসুমী হামিদঃ বিরক্ত হই, কাজটা হয়তো ততোটা ভালো হয় না। অনেক সময় কস্টিউম (পোশাক) জটিলতা থাকে। কিন্তু কিছু করার নাই, আমাকে কাজটা করে দিয়ে আসতে হবে। এমনও হয়েছে, আমি একটা চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছি, শুটিংয়ে গিয়ে দেখলাম সেই চরিত্রটা অন্য কাউকে দিয়ে করানো হচ্ছে। আমাকে অন্য চরিত্র করতে বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শুটিং সেট থেকে চলে আসে, কিন্তু আমি কখনো এমন করিনি।

দুই পর্দায় কাজের পরিধি কতটুকু?

মৌসুমী হামিদঃ দুই জায়গার পরিধি দুই রকম। নাটক একটা পরিবারের মতো, আর সিনেমা দাওয়াত খেতে যাওয়ার মতো।

বড় পর্দায় কাজের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা আছে?

মৌসুমী হামিদঃ আমি যখন প্রথম সিনেমা করে গিয়েছি তখন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। দেখা যায়, নাটকে যারা কাজ করে তাদের প্রধান চরিত্র করে কেউ সিনেমা বানাতে চায় না। তবে আমি বাণিজ্যিক সিনেমা করতে চাই। তবে অবশ্যই ভালো গল্প, ভালো সহ-অভিনেতা, ভালো ব্র্যান্ড হতে হবে। এক কথায় আমি ব্র্যান্ড সিনেমা করতে চাই।

কোন নায়কের বিপরীতে কাজ করতে চান?

মৌসুমী হামিদঃ আরিফিন শুভ।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মৌসুমী হামিদঃ এখনো শিখছি। সাত বছরে আমি অনেক দক্ষ হতে শিখেছি। আমার ভাষা, উচ্চারণ, দ্রুত কথা বলা এসব আমার আয়ত্তে এনেছি। আমরা অভিনয়ের পুংখানুপুংখু জায়গাটা পাই না। অভিনয়ের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে খুব কম পরিচালক কাজ করে। আমি অভিনয়ের খুঁটিনাটি বিষয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আমি আরো ভালো ভালো জিনিস শিখে যেতে চাই।

প্রচলিত আছে মিডিয়ায় কাজ করতে গেলে ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়। আপনি কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন? কিংবা এখান থেকে উত্তরণের উপায় কি?

মৌসুমী হামিদঃ শুধু মিডিয়া নয়, প্রত্যেকটা কর্মক্ষেত্রেই নারীরা যৌন হেনস্থার শিকার হয়। আপনি যদি স্মার্ট হোন, আপনি খুব সুন্দর করে নিজের সম্মান বজায় রেখে কাজ করতে পারবেন। আমরা আমাদের মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে শিখেছি। আমাদের উপর সাধারণ মানুষের আশাটাই অন্যরকম। তারা আমাদের আইডল মনে করে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সংযত হওয়া উচিত। আমার যদি নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতাই না থাকে তাহলে আমার এখানে কাজই করা উচিত না। আমার দর্শকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আমরাও রক্তে-মাংশে গড়া মানুষ। সকলকে বিনোদন দেয়ার জন্য আমরা কাজ করি। আমরা আরো ভালো কাজ করতে চাই কিন্তু আমাদের দর্শকদের অনেক সাপোর্ট লাগবে।

মিডিয়ায় প্রচলিত আছে মৌসুমী হামিদ স্পষ্টভাষী। এজন্য কি কখনো কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

মৌসুমী হামিদঃ কোন একটা কথা আমি সরাসরি বলি, কিন্তু এমনভাবে বলি সেটা যেন বেয়াদবি না হয়। আমি সবাইকেই বলি, সিনিয়র শিল্পিদেরও বলি। যেমন- আমার মনে হয়েছে এই কথাটা উনাকে সরাসরি বলা উচিত আমি তাকে বলি, কিন্তু খেয়াল রাখি কথাটা যেন তার খারাপ না লাগে। তার যদি ভুল থাকে সে যেন তার ভুলটা বুঝতে পেরে আমাকে উৎসাহিত করে। আমি সেভাবে কথা বলতে পারি। আমি মানুষকে বুঝাতে পারি ভালো।

সাত বছরে প্রাপ্তি কতটুকু?

মৌসুমী হামিদঃ এই যে, আমি মৌসুমী হামিদ (মুখে হাসি)। এই সাত বছরে পরিচয়টাই আমার প্রাপ্তি। আমি কখনো ভাবিনি ঢাকায় একা থাকবো, নিজে গাড়ি চালিয়ে ঘুরবো, এমন ব্যাক্তি স্বাধীনতা পাবো। আমি মফস্বল থেকে এসেছি। যেখানে আমি বড় হয়েছি সেখানে দেখা যায়, একটা মেয়ে পড়াশোনা করে, চাকরি করে, বিয়ে করে সংসারী হয়ে যায়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমি আজকের মৌসুমী হামিদ হবো সেটা কখনো কল্পনাও করিনি। এই সাত বছরে আমি সেটা অর্জন করেছি।

কোন কথাটা ভাবলে এখনো কষ্ট লাগে?

মৌসুমী হামিদঃ লাক্সে আমি যখন খুলনা জোন থেকে নির্বাচিত হই, তখন আব্বু আমাকে ঢাকায় আসতেই দিবে না। আমার দাদু খুবই রক্ষণশীল প্রকৃতির লোক ছিলেন। আব্বুকে অনেক কষ্ট করে রাজি করিয়েছিলাম। এজন্য দাদু আমার সাথে, আব্বুর সাথে অনেকদিন কথা বলেননি। ২০১৪ সালে দাদু মারা যায়। দাদুর অসুস্থতার খবর শুনে আমি বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। দাদুকে ঢাকা নিয়ে এসে সিএমএইচে ভর্তি করিয়েছি। দাদুর কাছ থেকে আমি মাফ চেয়ে নিয়েছি।

অভিনেত্রী নয়, পরিবারের মৌসুমী হামিদ কেমন?

মৌসুমী হামিদঃ আম্মুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মতো। কিন্তু আব্বুর সঙ্গে কখনোই আমি বন্ধুত্বসুলভ ছিলাম না। কিন্তু এখন দেখা যায়, আব্বু-আম্মু যদি কোন ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া করে বা তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে তখন সব নালিশ আমার কাছে আসে। আমাকে আবার তাদের দু’জনকে মিলিয়ে দিতে হয়। পরিবারে এখন আমি এই ভূমিকা পালন করি, যেটা আমার খুবই মজা লাগে। আমার ছোট ভাইকে আমি খুবই ভালোবাসি। ও আমাকে যথেষ্ট সম্মান করে। আমি বাড়ি গেলে আমাকে ঘিরে ওর অনেক পরিকল্পনা থাকে। ও অপেক্ষা করে কবে ছুটি হবে, কবে ঢাকায় আসবে। ঢাকায় এসে ও আমার সাথে শুটিংয়ে শুটিংয়ে ঘুরতে খুব পছন্দ করে।

আমি যখন প্রথম ঢাকায় আসি, আব্বু আমাকে বলেছে ‘দেখো আমরা মফঃস্বল এলাকায় থাকি এবং বেশ মান-সম্মান নিয়েই থাকি। মফঃস্বলের লোকজন কেমন হয় তুমি জানো। তোমাকে আমি একা একা পাঠাচ্ছি। তাই আমি যেন এমন কিছু না শুনি যেটা নিয়ে লোকজন আমাকে প্রশ্ন করবে এবং আমাকে সেই উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে চলে আসতে হয়।’

আমার উপর আমার বাবা-মার শতভাগ বিশ্বাস ছিলো এবং তাদের সেই বিশ্বাসটা আমি এখনো রেখেছি। আমাকে নিয়ে কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন স্ক্যান্ডাল আসেনি।

গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়?

মৌসুমী হামিদঃ হ্যাঁ, দুই ঈদে। তবে এবার বেশ কয়েকবার গিয়েছি। গ্রামে আব্বু-আম্মুকে আমি বাড়ি বানিয়ে দিচ্ছি।

বিয়ে করছেন কবে?

মৌসুমী হামিদঃ ভালো ছেলে পেলে আমি এখনই বিয়ে করে ফেলবো।

বিয়ের জন্য কেমন ছেলে পছন্দ?

মৌসুমী হামিদঃ অবশ্যই ছেলের উচ্চতা ভালো হতে হবে। দেখতে অনেক সুন্দর না হলেও চলবে। একজনকে যখন আমি বিশ্বাস করবো তখন আমার পুরোটা দিয়েই বিশ্বাস করবো। আমি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাই যে আমাকে এবং আমার কাজকে সম্মান করবে।

মৌসুমী হামিদের কোন সিক্রেটটি ভক্তদের জানাতে চান?

মৌসুমী হামিদঃ আমি অনেক লক্ষী মেয়ে। আমার সেই লক্ষী মেয়ে চেহারাটা খুব কম মানুষ দেখেছে।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মৌসুমী হামিদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Bootstrap Image Preview