Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মিডিয়ায় কোন মেয়েকে জোর করে রেপ করা হয় নাঃ প্রসূন আজাদ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:১১ PM
আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:১৮ PM

bdmorning Image Preview


মিষ্টি মুখের স্নিগ্ধ হাসির মেয়ে প্রসূন আজাদ। দেশীয় মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নাম লিখিয়েছেন জনপ্রিয়তার খাতায়। পর্দার প্রসূনের চেয়ে বাস্তবের প্রসূন একটু বেশি মায়াবী। তার সাবলীল ব্যবহার সহজেই আপনাকে মুগ্ধ করবে। সম্প্রতি তার কাজের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তি প্রসূনকে নিয়ে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

নতুন বছর কেমন যাচ্ছে?

প্রসূন আজাদঃ খুব ভালো যাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা হয়েছে। নতুন একটা সিরিয়াল শুরু করলাম। ২০১৭ পর্যন্ত কাজে এত সিরিয়াস ছিলাম না। কিন্তু এ বছরটা আমি খুব সিরিয়াসলি কাজ করছি।

কোন নাটকের কাজ করছেন?

প্রসূন আজাদঃ ‘কর্পোরেট’ নামের একটি নতুন সিরিয়াল শুরু করলাম। রহমতউল্লাহ্‌ তুহিনের ‘যখন কখনো’ করছি।

এ বছর কাজের প্রত্যাশা কেমন?

প্রসূন আজাদঃ আমি ব্যস্ত থাকতে চাই। মাসে অন্তত একটা কাজ হলেও যেন করতে পারি।

‘ভোলা’র কাজ কতদূর?

প্রসূন আজাদঃ গানের শুটিং এখনো শেষ হয়নি। বাপ্পীর সাথে ডেট মিলছে না।

ছবিতে দর্শক আপনাকে কি রূপে দেখবে?

প্রসূন আজাদঃ আমি খুব সাধারণ একটা মেয়ে। আমার ভাই থাকে বাপ্পী। গুলশানের আদি নাম ছিলো ভোলা। জায়গা জমির যারা মালিক ছিলো অনেকেই সেখান থেকে বঞ্চিত হন। ওইটা নিয়েই আমাদের স্টাডি।

আপনি দুই পর্দাতেই কাজ করছেন, কোন জায়গাটা কমফোর্টেবল?

প্রসূন আজাদঃ সব জায়গাই কমফোর্টেবল। অভিনয় যেখানে করতে পারি সেটাই আসলে কমফোর্টেবল। তবে আমার পছন্দ বড় পর্দা।

চলতি বছর নতুন কোন ছবিতে আপনাকে দেখা যাবে?

প্রসূন আজাদঃ কথাবার্তা চলছে। কিন্তু ফিল্ম পছন্দ হচ্ছে না। আমাকে নিয়ে কাজ করবে এমন পরিচালক খুব কম। আমাকে নিয়ে যেভাবে গুজব ছড়ায় তাতে তারা চিন্তায় থাকে। অনেকেই মনে করে আমি হয়তো ঠিকঠাক কাজ করবো না। যারা ভয় পায় তাদের বলতে চাই, আমি ঠিকঠাক কাজ করবো, আমাকে নিয়ে টেনশন করার কিছু নাই।

কোন নায়কের সাথে কাজ করার ইচ্ছা আছে?

প্রসূন আজাদঃ শাকিব খান। তবে অবশ্যই গল্প পছন্দ হলে কাজ করবো।

মিডিয়ায় প্রচলিত আছে শাকিব খানের সাথে কাজ করলে ‘স্যাক্রিফাইস’ করতে হয়...

প্রসূন আজাদঃ আমার মনে হয়, মিডিয়া মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। কারণ এখানে কোন মেয়েকে জোর করে রেপ করা হয় না। একটা মেয়ে যদি চায় সে যে কোন স্টেপ নিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি না চায়, তাকে কেউ জোর করবে না। মিডিয়া খারাপ সেটা মেয়েদের জন্যই। মেয়েরা সুযোগ না দিলে বিষয়টা এতদূর যেতো না।

আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন?

প্রসূন আজাদঃ হ্যাঁ। কিন্তু আমি হাসিমুখে সেগুলো হেন্ডেল করেছি। আমি বলেছি, আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি এত খারাপ মানুষ পাইনি, যারা আমাকে জোর করেছে।

একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে নিষিদ্ধকালীন সময়টা কেমন?

প্রসূন আজাদঃ এটা নিয়ে আমার কোন ঝামেলাই নেই। ওই সময়টা আমার খুব ভালো গেছে। আমি পেইন্টিংয়ে মনোযোগ দিয়েছি। অনেক বই পড়েছি। অনেক সিনেমা দেখেছি। তখনও আমার কাজ থামেনি। শর্টফিল্ম করেছি, সিনেমার কাজ করেছি। আমাকে ডিরেক্টর গিল্ড খুব একটা ঝামেলায় ফেলতে পারেনি।

বিয়ের খবরের আগে ডিভোর্সের খবর, সেটা কেন?

প্রসূন আজাদঃ বিয়ের কথা প্রকাশ করতে আমার হাজব্যান্ড আমাকে না করেছিলো। কারণ ও পড়াশোনা করে। আমার বাবা রাজি ছিলো না, ওকে পছন্দ করতো না। এজন্যই তখন কাউকে বিয়ের খবর জানানো হয়নি।

শুধু কি তার পড়াশোনার জন্য নাকি নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তা করে বিয়ের খবর গোপন করেছেন?

প্রসূন আজাদঃ আমার ক্যারিয়ারের কথা না, আমি ওর ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করেছি। আমি চেয়েছি ওর পড়াশোনাটা শেষ করুক।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?

প্রসূন আজাদঃ আমাদের লং ডিসটেন্স রিলেশনশীপ। ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকে, আমি বাংলাদেশে। আমার মনে হয়েছিলো ও হয়তো অন্য কারো সাথে আছে। সে আমার বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে সন্দেহ করতো। আমারও কিছু ভুল ছিলো। আমাদের যোগাযোগে অনেক ঝামেলা ছিলো। যেহেতু ও চাপ নিতে চাচ্ছে না, আমার সাথে হ্যাপী না। একটা মানুষকে তো জোর করে রাখা যায় না। ও যখন ডিভোর্সের কথা বললো, আমার মনে হয়েছে ও ডিভোর্সে কমফোর্টেবল তাই আমি রাজি হয়ে গেছি।

ডিভোর্স হয়েছে কতদিন?

প্রসূন আজাদঃ এখনো হয়নি।

ডিভোর্স প্রক্রিয়া এখনো প্রসেসিংয়ে?

প্রসূন আজাদঃ জানিনা। বাংলাদেশে যখন আসবে তখন হবে। যে কোনদিন এসে হয়তো বলবে ডিভোর্স হয়ে গেছে।

আপনাদের প্রেমের শুরুটা কিভাবে?

প্রসূন আজাদঃ ২০১৫ তে আমি অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিলাম ‘মৃত্যুপুরীর’ শুটিংয়ে। মালয়েশিয়াতে প্লেন চেঞ্জ হলো। আমার পাশের সিটে ও বসেছিলো। সেখান থেকেই পরিচয়। আট ঘন্টা কথা বলেছি প্রেম হয়ে গেছে।

রিলেশন ছিলো কতদিন?

প্রসূন আজাদঃ ২ বছর।

বিয়েটা কোথায় হয়েছিলো?

প্রসূন আজাদঃ অস্ট্রেলিয়া।

ডিভোর্সের প্রক্রিয়াও কি সেখানে?

প্রসূন আজাদঃ সেখানে হবে কিনা আমি শিওর না। হয়তো সে বাংলাদেশে আসবে।

তার সাথে এখন আপনার যোগাযোগ আছে?

প্রসূন আজাদঃ না। আমি মাঝে মাঝে আননোন নাম্বার থেকে কল দিলে কথা হয়।

তাহলে আপনি চাচ্ছেন যেন বিচ্ছেদ না হয়...

প্রসূন আজাদঃ না। এখন আমি চাচ্ছি না। ও ওর মতো থাকুক। আমি আমার বাবা-মাকে হ্যাপি করতে চাই।

বাবা-মা আপনাকে কিভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে?

প্রসূন আজাদঃ বাবা-মা চায় এখন আমি কাজ করি। কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকি। বিয়ের কথা বলে, কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।

বিয়ের প্ল্যান নেই?

প্রসূন আজাদঃ না, এখন নেই। তবে সেরকম কোন লোক যদি আসে যাকে দেখে আমি প্রেমে পরতে পারি তখন হবে বিয়ে।

গোপনে বিয়ে, বিচ্ছেদের খবরটি বাসায় জানার পর কেমন পরিস্থিতি ছিলো?

প্রসূন আজাদঃ আমি খুব মনমরা হয়ে থাকতাম। কোন বন্ধুবান্ধবের সাথে মিশতাম না। একা একা  ঘরে বসে থাকতাম। আসলে বই, সিনেমা যাদের কাছে আছে তারা কখনো একাকী অনুভব করে না।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রসূন আজাদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Bootstrap Image Preview