Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবি গবেষণা সংসদের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:২৭ PM
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:২৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সংগঠনটি যাত্রা শুরু করলেও বর্ষপূর্তি উদযাপন করে ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার।

টিএসসিতে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদ, সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ এন্ড সোসাল সায়েন্স এর পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ছিলো ‘উন্নয়ন গবেষণা’ ওপর প্যানেল আলোচনা। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক, গবেষক,  এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনজুরুল করিম।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় সেশন ছিলো তরুণ গবেষকদের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের  ওপর বিশেষ সেমিনার।  সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন কারাসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো কাজী সামিও শীষ, ওপেন একসেস বাংলাশের প্রতিষ্ঠাতা কনক মনিরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুস সামাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক গোলাম রাব্বানি, টিআইবির রিসার্চ এন্ড পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবু সায়েদ মো: জুয়েল মিয়া, এটুআই এর গবেষক (বিসিএস শিক্ষা) রাকিব রোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডার্ন ল্যাংগুয়েজেস ইনস্টিটিউটের কোরিয়ান ভাষার শিক্ষক শিউলি ফাতেহা এবং তরুণ গবেষক ও লেখক আরিফ রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান গবেষণা সংসদের উদ্যোগের  প্রশংসা করে বলেন, খুব বেশি মানুষ গবেষণা করবে, পৃথিবীর কোথাও এরকম দৃষ্টান্ত নেই। যাদের মধ্যে ক্রিটিকাল আউটলুক থাকবে তারাই গবেষণা করতে পারবে এবং তাদের মধ্যে গবেষণার চেতনা সৃষ্টি হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিটিকাল আউটলুক থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক কাঠামোর মধ্যে গবেষণা মনোভাব নিয়ে আসতে হবে। এই যে ক্রিটিকাল ইন্টারপ্রিটেশন এটাই তাদেরকে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া কখনো একটি সমাজ বা দেশের প্রবৃদ্ধি হয় না। গবেষণা সংসদ যেভাবে তার কর্মপ্রয়াস চালাচ্ছে এই কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার চেতনা নিয়ে আসতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবেন বলে জানান উপাচার্য।

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গবেষণা কখনো একা একা করা যায় না। সাহায্য লাগে। সামাজিক ঊদ্যোগটা খুব জরুরি। এক্ষেত্রে গবেষণা সংসদের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন,  বাংলাদেশ আজকে অনেক উন্নতি করেছে কিন্তু এখানে জ্ঞানের বিকাশ ঘটেনি। বাংলাদেশের বর্তমান ভয়াবহ সমস্যা বেকারত্ব। জ্ঞান ছাড়া আমরা বিকশিত হতে পারবো না। আমাদের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আগেও আমাদের অনেক মেধা পাচার হয়েছে। মেধা পাচার বন্ধে আমাদের কাজ করতে হবে।

এসময় গবেষণার ক্ষেত্রে মার্তৃভাষাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি। বলেন,  অন্যান্য সব ক্ষেত্র থেকে পার্থক্যকরণ গবেষণার ক্ষেত্রে জরুরি। জ্ঞানগুলো নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকছি এবং ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হচ্ছি। গবেষণার মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্নতা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, তরুণরা এখন গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত হচ্ছে।  এর মাধ্যমে তারা জানবে পৃথিবীকে। তারা বিশ্বাস করে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে হবে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন,  ব্যক্তিগতভাবে একা কাজ করলে আমরা হতাশ হয়ে যাই। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে না পারলে আমরা আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না। এক্ষেত্রে গবেষণা সংসদের উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে। তরুণদের নতুন কিছু দেখাতে পারবে।

বিশেষ অতিথি বক্তৃতায় একে আজাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ সম্পূর্ণ একটি নতুন আইডিয়া। প্রতিষ্ঠার  একবছর পার করে ফেলেছে সংগঠনটি। সাইফুল্লাহ সাদেক সহ যারা এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি এসময় সামনে গবেষণা সংসদ জার্নাল প্রকাশ সহ যেকোন আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তোমরা তোমাদের গবেষণা কাজ চালিয়ে যাও। যেকোন জায়গায় ঠেকে গেলে আমরা পাশে আছি। তোমাদের  যেকোন প্রয়োজনে সবসময় সহযোগিতা করবো।

এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে এবং তাদের যেকোন উদ্যোগে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং যাবে উল্লেখ করে বলেন,  আমরা যতই জাঁকজমকভাবে শতবর্ষ উদযাপন করি না কেনো,এটি সত্য যে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মান ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এর কারণ গবেষণা কমে যাওয়া। এক্ষেত্রে গবেষণা সংসদ ছাত্রছাত্রীদের গবেষণায় সচেতন করে যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

এর আগে কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এবং একে আজাদ। এসময় সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সহযোগিতায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল্লাহ সাদেক।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর  Research for a Better World স্লোগান নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের গবেষণায় উদ্বুব্ধ করা, শিক্ষার্থীদের গবেষণা ক্যারিয়ারের দিকে ধাবিত করে একটি সুন্দর সমাজ, দেশ ও পৃথিবী বিনির্মাণের ভিশন নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ। শুরু থেকে ব্যতিক্রমধর্মী সব উদ্যোগ গ্রহণ করে গবেষণা সংসদ। এটি এখন বিশ্বব্যিালয়ের স্বীকৃত একটি সংঠন। প্রায় ৫শ সদস্য নিয়ে ১টি কেন্দ্রীয় গবেষণা টিম এবং ১৮ টি বিশেষায়িত গবেষণা টিম নিয়ে নানা বিষয়ে গবেষণা কাজ পরিচালনা করছে ঢাবি গবেষণা সংসদ। প্রত্যেকটি টিমে সুপারভাইজার হিসেবে সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষক।

Bootstrap Image Preview