Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মিম ও রাজিবের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিতেই হবে

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১২ PM
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১২ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী মিম ও রাজিবের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষকে।

আজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত।

এর আগে গত ৩০ জুলাই এক সপ্তাহের মধ্যে ওই দু’জনের পরিবারকে তাৎক্ষণিক পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনেরও আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার ক্ষতিপূরণের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষ। শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত ওই আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেননি। অর্থাৎ পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষকে ওই ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতেই হবে।

আদালতে জাবালে নূরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জাবালে নূর আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের উপর ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) আদেশ দেন। এর ফলে ১০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশ বহাল রইলো।

এর আগে গতকাল বুধবার (৮ আগস্ট) শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাসচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাসটির চালক মাসুম বিল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য তিনটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ছাত্ররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।’

জবানবন্দিতে মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চালক আমি। গত ২৯ জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদের গুরুতর জখম করি। গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৮-১০ জন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষিতে এক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী।

ঘটনার দিনই নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৩ (৭) ১৮।

এরপর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাসটির চালক, হেলপার মালিককে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।তদন্ত করছেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।

বর্তমানে জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া জাবালে নূর পরিবহনের অপর দুই বাসের চালক সোহাগ আলী ও জুবায়ের এবং হেলপার এনায়েত হোসেন ও রিপন রিমান্ডে আছেন।

অপরদিকে এই দুর্ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এরপর ৯ দফা দাবিতে টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী।

Bootstrap Image Preview