Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'গায়ে হাত দিতো, আমি মলি আপুকে বলতাম আপু বলত কিছু হবেনা'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০১৮, ০৭:২৮ PM আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, (সিরাজদিখান) মুন্সীগঞ্জ:

সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের খাসকামরায় বোলতলী স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছে ধর্ষক।

ঘটনার ৯ মাস পরে সিরাজদিখান থানায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২ জনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

ধর্ষিতা জানান, আমি ঐ ছেলেকে চিনতাম না। প্রায় ১০ মাস পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আঃ সালাম অসুস্থ্য থাকায় তার আপন ভাগনি মলি আক্তার ভারপ্রাপ্ত উদ্যোগতার দায়িত্ব নেন। মলি আক্তার আমাকে প্রায় কম্পিউটার শিক্ষার কথা বলত। তাই আমি মলি আপুর সাথে কম্পিউটার শিক্ষার জন্য তার সাথে ইউনিয়ন পরিষদে যেতাম। কম্পিউটার শিক্ষার সময় ঐ ছেলে আমার সাথে নানা দুষ্টামি করত আমার গায়ে হাত দিতো, আমি মলি আপুকে বলতাম মলি আপু বলত কিছু হবে না। কয়েকদিন পর মলি আপু আমাকে বলেন ঐ ছেলেসহ কয়েকজনের খাবার রান্না করে দিতে। তারা আমাকে অনেক টাকা দিবে।

তিনি আরো বলেন, তোর মা আয়ার কাজ করেন তুই ওদের খাবার রান্না করে দিলে সমস্যা কি? ওরা তোকে ভাল বেতন দিবে। তোকে ভালো মোবাইল কিনে দিবে। এরপর আমি রান্নার কাজ শুরু করি। তখন ঐ ধর্ষক সাজিদ আমাকে ভালো ভালো কথা বলত এবং আমার সাথে প্রেম করত। প্রায় সময় সাজিদ আমাকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলত আর এরই মধ্যে একদিন আমার সাথে এসব ঘটনা ঘটায়।

এসব ঘটনার সাথে সাথে আমি মলি আপুকে সব বলি মলি আপু বলেন, আর কারো কাছে যেন না বলি, তারপর থেকে আমি আর কোনদিন ঐখানে যাই নাই। সাজিদ আমাকে ফোন দিতো আমি ওকে বলেছি আপনে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছেন আপনে আমাকে আর কোনদিন ফোন দিবেন না। সে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে, তাই বাড়িতে বলিনি। তার পরে আমি আমার ফোন নাম্বার বন্ধ করে দেই।

ধর্ষিতা র মা বলেন, মলির সহযোগিতায় চেয়ারম্যানের খাসকামরায় আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করে দিল ঐ লম্পট সাজিদ, মলি ও চেয়ারম্যান সব জানে, কিন্তু এখন আমার মেয়ের সর্বনাশ হয়ে গেল। আমি এর বিচার চাই, মলি আমার মেয়েকে চেয়ারম্যান অফিসে বার বার ডেকে নিয়ে এই সর্বনাশ করল, চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত রুমে এই লোকদেরকে থাকতে দিয়েছে। চেয়ারম্যানের অফিসে আমার মেয়ের এই সর্বনাশ হলো আমি এর বিচার চাই। তাই আমি সাজিদ ও মলিকে আসামি করে থানায় মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসি অনেকেই বলেন, ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন ও মলির সহযোগিতায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ব্যপারে কোলা ইউপি চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলী বলেন, আমি এসব ব্যাপারে এখন আপনাদের কাছ থেকে জানলাম, ইতিপূর্বে আমি এ সব ঘটনা শুনিনি বা জানিও না।

তিনি আরো বলেন, এই ছেলেকে পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স কাটার জন্য পাঠিয়েছে একটি সংস্থা যারা কাজ পেয়েছে। এখানে এই ছেলেকে যে পাঠিয়েছে আমার সাথে তার ডিট ডুকুমেন্ট আছে। সাজিদকে এখানে পাঠান মুন্সীগঞ্জ সদরের ব্রজযোগীনির গোলাম মোর্শেদ।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানা অফিসার ইনর্চাজ আবুল কালাম বলেন, মামলা করা হয়েছে এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Bootstrap Image Preview