Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ শনিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

পায়েল হত্যাকাণ্ড: নদীতে লাশ ফেলার পর বন্ধুদের মিথ্যা বলে হানিফের লোকজন

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৮, ১১:০৪ PM আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৮, ১১:০৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার, চালক ও হেলপারই নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকে (২১) রক্তাত্ত জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে হত্যা করেছে। এরপর বাসে ফিরে এসে পায়েলের বন্ধুদের কাছে মিথ্যা বলেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার পায়েল হত্যা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, চট্টগ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে দুই বন্ধু শান্ত ও আদরের সঙ্গে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসে চড়ে গত ২১ জুলাই শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র পায়েল। ভোর ৪টার দিকে গজারিয়ার ভাটের চর ব্রিজের কাছে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে নামেন পায়েল। তখন বন্ধুরা ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙার পর তাঁরা সুপারভাইজার মো. জনির কাছে পায়েলের কথা জানতে চান। পায়েল পরের বাসে আসবে বলে জানান বাসচালক, হেলপার ও সুপারভাইজার। পায়েলের পরিবারের সদস্যরা পরের দিন সকালে তাঁর সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৩ জুলাই সোমবার সকালে গজারিয়ার ফুলদি নদীতে পায়েলের মরদেহ ভেসে ওঠে। এই ঘটনায় বাসের চালক জামাল হোসেন, হেলপার ফয়সাল ও সুপারভাইজার জনিকে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব- ৯৬৮৭ নম্বরের সেই বাসটিকে জব্দ এবং হানিফ পরিবহনের মালিকপক্ষকে পায়েল হত্যা মামলায় জড়িত করা হবে।

এ ব্যাপারে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-উর-রশীদ জানান, বাসচালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর সুপারভাইজার ফয়সাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

কোর্ট ইন্সপেক্টর হেদায়তুল ইসলাম পায়েল হত্যার আসামিদের নিয়ে জানান, বুধবার ফয়সালকে আমলি আদালত গজারিয়া কোর্টে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে ফয়সাল বলেছেন, ‘ঘটনার দিন রাতে বাস যানজটে আটকা পড়লে বাসযাত্রী পায়েল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাস থেকে নামেন। পরবর্তীতে যানজট নিরসন হলে বাসটি দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় বাসের দরজায় সজোরে ধাক্কা লাগে পায়েলের। এতে পায়েলের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাসচালক, চালকের সহযোগী ও সুপারভাইজার পায়েলকে মৃত ভেবে ভয়ে ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়ে চলে আসে।’

এ সময় নিহতের সহপাঠী নর্থ-সাউথ ৫ম বর্ষের ছাত্র হাকিমুর রহমান আদর কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা বাকরুদ্ধ। আমাদের সহপাঠীকে এভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বাস থেকে নেমে আহত হতেই পারে একজন যাত্রী। কিন্তু তারা একটু সহায়তা করলে আজ এই বন্ধুকে আমরা হারাতাম না। আমরা আমাদের সহপাঠি পায়েল হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই গ্রামের বাড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে হানিফ পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পায়েল। পথে রাত ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় গিয়ে যানজটে পড়ে বাসটি। এ সময় বাস থেকে নিচে নামেন পায়েল। পরে তাকে আর পাওয়া যায়নি। গত সোমবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলার ভাটেরচর এলাকার সেতুর নিচের খাল থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পায়েলের মামা গোলাম সরওয়ার্দী বিপ্লব বলেন, ‘শনিবার রাতে পায়েল তার বন্ধু আকিবুর রহমান আদরের  (২১) সাথে হানিফ পরিবহনের (৯৬৮৭) বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় পায়েল।

পথে মেঘনা ব্রিজের কাছে গাড়িটি যানজটে পড়ে। একপর্যায়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাস থেকে নামে পায়েল। কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা না করে গাড়িটি ছেড়ে দেয়, ফলে সে গাড়িতে উঠতে পারেনি। এমনকি তার মোবাইলও গাড়িতে রয়ে যায়। এরপরে ঘটনার তদন্তে বাস চালকসহ ৩ জনকে গজারিয়া থানা পুলিশ আটক করলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পায়।

Bootstrap Image Preview