Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

যুক্তরাষ্ট্রে যুবলীগ নেতাকে খুন করে ৭২ ঘণ্টা পর ঘাতকের আত্মসমর্পণ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৮, ০৬:০৬ PM
আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৮, ০৬:০৬ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা আইয়ুব আলীকে খুনের ৭২ ঘণ্টা পর আত্মসমর্পণ করেছেন সন্দেহভাজন ঘাতক টাইরন ফিল্ডস জুনিয়র (১৯)।

গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় নর্থ লডারডেল সিটিতে আন্ট মোলিজ ফুড স্টোরে কর্মরত অবস্থায় ডাকাতের গুলিতে নিহত হন ৬১ বছর বয়সী আইয়ুব আলী।

আইয়ুব আলীর স্টোরের সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের পর স্থানীয় পুলিশ ৩ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ঘাতকের সন্ধানদাতার জন্যে।

ভিডিওতে দেখা যায় যে, বন্দুকধারি ঘাতক স্টোরে প্রবেশের পর আলীর কাছে থেকে কিছু নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আবার সে স্টোরে ঢুকে আইয়ুবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে বেড়িয়ে যায়।  ব্রাওয়ার্ড মেডিকেল সেন্টারে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান যে, আইয়ুব আলী বেঁচে নেই। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

ফোর্ট লডারডেল পুলিশ জানায় যে, শুক্রবার বেলা ঠিক সাড়ে ১২টায় টাইরন ফিল্ড আত্মসমর্পণ করে। ২১ জুলাই শনিবার সকালে তাকে ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করা হয়। তাকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে ব্রাউয়ার্ড কাউন্টি জেলে পাঠিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি এবং হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার বাদ জুমআ দক্ষিণ ফ্লোরিডা এলাকায় একটি মসজিদে জানাজার পর আইয়ুব আলীকে দাফন করা হয়।

এদিকে দুপুরে গুলি করে আইয়ুব আলীকে হত্যার সংবাদে ক্ষুব্ধ গোটা কমিউনিটি। নেতারা বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ দুর্বৃত্ত আইয়ুব আলীর মাথা তাক করে গুলি করেছে। এ থেকেই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ডাকাতি নয়, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্ত এসেছিল। অর্থাৎ এটি হেইট ক্রাইম। তা হতে পারে জাতিগত বিদ্বেষ অথবা ধর্মীয় বিদ্বেষ। কারণ স্টোরের ক্যাশবাক্স অক্ষত রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত এক দশকে দুর্বৃত্তের গুলিতে ফ্লোরিডায় ২৫ জনের বেশি বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সবকটি হত্যাকাণ্ডের জন্যই দুর্বৃত্তদের শাস্তি হয়েছে। তবে কর্মরত অবস্থায় নিহত হওয়া সত্ত্বেও ভিকটিমের পরিবার/স্বজনেরা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানোপুর গ্রামের সন্তান আইয়ুব আলী ১৯৯৪ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। ১০ বছর আগে তিনি এই স্টোর কেনেন। পার্কল্যান্ড এলাকায় নিজের বাড়িতে তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং স্ত্রী ফারহানাকে নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন।

Bootstrap Image Preview