Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বৃষ্টির অভাবে ব্যহত চারা রোপণ, দিশাহারা মীরসরাইয়ের আমন চাষিরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৮, ০২:০৪ PM
আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৮, ০২:০৪ PM

bdmorning Image Preview


ইমাম হোসেন, মীরসরাই প্রতিনিধিঃ

বর্ষার ভরা মৌসুমেও আশানুরুপ বৃষ্টি নেই। ফলে বৃষ্টির পানির অভাবে মীরসরাইয়ে উপজেলার আমন চাষীদের সেচ পাম্পের পানিই এখন একমাত্র ভরসা। আমন চাষের আশায় জমি তৈরি করে বৃষ্টির পানিতে চারা রোপণের আশায় থাকলেও কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি নেই।

ফলে এখন গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে সেচ দিয়ে আমন চারা রোপণ করতে বাধ্য হচ্ছে উপজেলার কৃষকরা। এতে করে শুরুতেই আমন চাষের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কৃষকদের।

শ্রাবণের এই মুহুর্তে গ্রামের তেপান্তর থৈ থৈ করে পানিতে। কিন্তু এবার পানি সামান্য। ভরা শ্রাবণের এই কদিনে ও ফোটা ফোটা বৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে। যা মাটি ভিজিয়ে দিলে ও কৃষকের জমির জন্য পর্যাপ্ত নয়। একদিকে আউশ নিয়ে যেমন উৎকন্ঠায় আছে কৃষকরা আবার আমনের বীজতলা নিয়ে ও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রাবণের ভরা বর্ষা মৌসুমেও পুরোপুরি খরা পরিস্থিতি বলা না গেলে ও পানি সংকটে মাঠের কৃষকরা। আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির আলম বললেন বীজতলা প্রস্তুত হয়ে গেলেও পানির অভাবে বীজ রোপণ করতে পারছে না অনেকে।

আবার অনেকে আগাম বীজতলায় আমনের ধান সিটিয়ে চারা উঠে গেলে ও সেখানে পানির অভাবে চারা হলদে রংয়ের হয়ে যাচ্ছে। গত ১৮ জুলাই বুধবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ঘাটে এমন পরিস্থিতির চিত্র সরেজমিনে দেখা যায়।

হিঙ্গুলী গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল মিয়া বলেন, ২ কানি জমিতে আমন আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এ জন্য ১০ গন্ডা জমিতে বীজতলাও তৈরি করেছেন। প্রতিবছর শ্রাবণের শুরুতেই তিনি আমন রোপণ শুরু করেন। কিন্তু এবার জমিতে পানি না থাকায় আমন রোপণ শুরু করতে পারছেন না। আবার বীজতলা ও এখন হুমকীর মুখে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে বীজতলাও শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমন আবাদ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তিনি।

আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল আলম বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরেই লাগাতার খরায় পেয়ে বসেছে। সামান্য বৃষ্টি থেমে থেমে হলে ও মাটি শুকনো থাকায় তা দ্রুত চুষে নিচ্ছে। কিন্তু এখন প্রয়োজন রিমঝিম লাগাতার বৃষ্টি। অন্তত কয়েক মুহুর্তের ভালো বৃষ্টিপাতই পরিস্থিতির উন্নতি বয়ে আনতে পারে।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি বিভাগের সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম জানান, এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৪শত হেক্টর। ইতিমধ্যে ৮৫ শতাংশ বীজতলা হয়ে গেছে। বাকি ১৫ শতাংশ ও শীঘ্রই হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি।

অনাবৃষ্টিতে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা ও উৎকন্ঠা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, এবার আগাম বৃষ্টিপাত বেশি হয়ে যাওয়ায় এখন হয়তো কিছুটা কমে গেছে। তবে আশা করছি শীঘ্রই ভারি বৃষ্টিপাতের মধ্য দিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তার অবসান হবে।

Bootstrap Image Preview