Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

যুক্তরাষ্ট্রের এসডিজি-৬ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের স্যানিটেশন সাফল্য প্রশংসিত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৮, ০৮:৫৭ PM
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৮, ০৯:০৬ PM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক শহরে ১২ জুন অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-৬ (এসডিজি-৬) সম্মেলন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে বিশ্বের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামনে স্যানিটেশন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন এমিরেটাস প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ। প্রায় ২০ মিনিট ধরে স্যানিটেশন বিশ্বে বাংলাদেশের কৃতিত্ব উপস্থাপন করেন তিনি।

এসডিজি-৬ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব দলের সমন্বয়কারী ছিলেন আবুল কালাম আজাদ।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো থেকে এসডিজি-৬ সম্মেলন সম্পর্কে প্রফেসর ফিরোজ আহমেদ বিডিমর্নিংকে বলেন, বাংলাদেশের  উচ্চতর স্যানিটেশন কভারেজ দেখে বিশ্ব প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। কারণ বাংলাদেশের চেয়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে এখনো অনেক কম স্যানিটেশন কভারেজ রয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি ছোট্ট দেশ হয়েও শূন্য থেকে উচ্চতর স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনের ট্র্যাজেডি দেখে নেতারা বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছেন।

[caption id="attachment_405820" align="aligncenter" width="594"] সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল-৬ এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এমিরেটাস প্রফেসর ড. এম ফিরোজ আহমেদ (বায়ে)[/caption]

তিনি বিডিমর্নিংকে অারো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার স্যানিটেশন আন্দোলনের অগ্রদূতদের প্রথম উদ্যোক্তা হয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। ২০০৩ সালে ঢাকায় দক্ষিণ-এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ে স্যানিটেশন আন্দোলনের শুরু। তারপর থেকে বাংলাদেশের স্যানিটেশন রেকর্ড পরিবর্তন হতে শুরু করে। এই কৃতিত্ব শোনার জন্যে বিশ্বের অনেক দেশ আমন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশকে। বিশ্বের বিভিন্ন সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশের স্যানিটেশন অগ্রগতি নিয়ে আমি অনেক বক্তৃতা দিয়েছি।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৩ সালে স্যানিটেশন মুভমেন্ট তালিকাভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে ইউএন জয়েন্ট মনিটরিং কমিটির প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক ছিল না। সেই রিপোর্টে দেখা যায়, বাংলাদেশে উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ ৩৪ শতাংশ থেকে মাত্র ১ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশের উচ্চতর স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনের ট্র্যাজেডি তারপর থেকেই শুরু। আজকের এই সাফল্যের জন্যে যেকজন কাজ করেছেন, তাদের অন্যতম প্রফেসর ফিরোজ আহমেদ।

প্রফেসর ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাতুআইলে গারবেজ ডিসপোজালের জন্যে প্রথম স্যানিটারি ল্যাণ্ড ফিল্ড স্থাপন করা হয়। ট্যানারী ও টেক্সটাইল ডাইয়িং কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্য পরিশোধন, পানিতে আর্সেনিক সমস্যা কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চতর স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনের রেকর্ড সৃষ্টি করে বাংলাদেশ।

তবে স্যানিটেশন ক্ষেত্রে সাফল্য অাসলেও গ্রামাঞ্চলের অগভীর টিউবওয়েলের পানিতে এখনো আর্সেনিকের মাত্রা প্রায় ২২ শতাংশের বেশি। ফলে সামগ্রিক পানির ব্যবহার ও অর্ধেক পানির নিরাপত্তার মান পূরণে এখনো ব্যর্থ বাংলাদেশ। সরকারী সংস্থাগুলির পাশাপাশি  বিভিন্ন এনজিও সংস্থা স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনের জন্যে এখনো কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে শহরের ৮৬ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি পান করলেও গ্রামে এই সংখ্যা ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন খোলা জায়গায় মলত্যাগের অভ্যাস বন্ধ করার ক্ষেত্রে। নব্বইয়ের দশকে খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার ২৫ শতাংশ বা এর বেশি ছিল, এমন দেশগুলোর মধ্যে যারা সাফল্য অর্জন করেছে, তেমন প্রথম ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে আছে ভিয়েতনাম। দেশটিতে এখন খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার ২ শতাংশ। দেশটিতে এখন খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার ২ শতাংশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ৫৭ কোটি মানুষ খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করে। এই হার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ।

Bootstrap Image Preview