Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নির্ধারিত মূল্য তালিকা থাকা সত্বেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপন্য

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:২১ PM
আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:২১ PM

bdmorning Image Preview


রায়হান শোভন।।

রাজধানীর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত বাজারগুলোতে মূল্য তালিকার বোর্ড থাকলেও নেই মূল্য তালিকার হালনাগাদ। মূল্য তালিকার হালনাগাদ না হওয়ায় উক্ত মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করতে নারাজ বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা পণ্যের বাজারে কোনো কিছুর দাম স্থায়ী থাকে না। বাজারে পণ্যের দাম নির্ভর করে সরবরাহের উপর।

রাজধানীর হাতিরপুল, কারওয়ানবাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মূল্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি কেজি সরু চালের পাইকারি মূল্য দেওয়া আছে ৪৮-৫৯ টাকা এবং খুচরা মূল্য দেওয়া আছে ৫০-৬২ টাকা। মাঝারি সরু চালের মূল্য দেওয়া আছে ৩৮-৪২ এবং খুচরা মূল্য দেওয়া আছে ৪১-৪৪ টাকা। মোটা চালের মূল্য দেওয়া আছে ৩৭-৩৮ টাকা এবং খুচরা মূল্য দেওয়া আছে ৩৯-৪০ টাকা।

আজ সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪৬ টাকা। যা এক মাস আগে ৪০-৪২ টাকা ছিল। পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা। যা এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৪৪ টাকায়। চিকন চালের মধ্যে মিনিকেট ও নাজিরশাইল বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৫৬ টাকায়। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায় যা এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়।

কারওয়ানবাজারের চাল বিক্রেতা আলমগীর বিডিমর্নিংকে, বাজারে যে মূল্য তালিকা দেওয়া আছে সে মূল্য তালিকা ঠিকমতো পরিবর্তন করা হয় না। আমরা বেশি দামে চাল কিনে তো আর কম দামে বিক্রি করে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ব্যবসা করতে বসিনি।

এদিকে বাজারে প্রতি কেজি আটার খুচরা মূল্য দেওয়া আছে ২৩-২৪ টাকা। অথচ প্রতি কেজি আটা বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩২ টাকা। মোটা মশুরের ডালের খুচরা মূল্য ৫৩-৫৫ দেওয়া থাকলেও প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। আর দেশি উন্নত মানের মশুর ডালের খুচরা মূল্য ৭৮-৮১ টাকা দেওয়া থাওলেও বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯৫ টাকায়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ৮২-৮৩ দেওয়া থাওলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। প্রতি কেজি চিনির খুচরা মূল্য দেওয়া আছে ৫৫-৫৬ টাকা। অথচ প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬২ টাকায়।

প্রতি  কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। কিন্তু বাজারের মূল্যতালিকায় দেওয়া আছে ৩৯-৪৪ টাকা। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৩৮ টাকায়। অথচ মূল্যতালিকায় দেওয়া আছে ১৮-২২ টাকা।

মূল্যতালিকার সাথে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রিত মূল্যের মিল না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরপুল বাজারের ব্যবসায়ী মনসুর বিডিমর্নিংকে বলেন, মূল্য তালিকা দুই মাসে একবার ঠিক করে। বাজারে সব কিছুর দাম প্রতি নিয়ত বাড়তে কমতে থাকে। তাই মূল্য তালিকার সাথে মিল রেখে বিক্রি করতে গেলে তাদের লোকসানে পণ্য বিক্রি করতে হবে।

তবে বাজারে অন্যান্য সবজির কোনো মূল্যতালিকা পাওয়া যায়নি। যেসব পণ্যের মূল্য তালিকা  দেওয়া আছে সেগুলো অনুযায়ী বাজারে পণ্য বিক্রি করার কোনো নজির পাওয়া যায়নি। যেসব পণ্যে মূল্য তালিকায় নেই সেগুলো ইচ্ছেমত দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে  প্রতি কেজি ঢেঁড়সে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, কহি ৪০ টাকা, ওস্তা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি কাকরোল ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৮ টাকায় এবং পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের খুচরা মূল্য ২২-২৮ টাকা দেওয়া থাকলেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ প্রায় ৫০ টাকা বেশি দামে অর্থাৎ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুনের দাম ১৭-১৯ টাকা দেওয়া থাওলেও বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।

তবে আজ গতকালের বিক্রিত মূল্যের সাথে ১০-২০ টাকা বেশি মূল্য সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ রতন বিডিমর্নিংকে বলেন, বৃষ্পতিবারের বাজারের সাথে শুক্রবারের বাজারের কখনোই মিল থাকবে না। সপ্তাহে একটা দিনই কাস্টমার বেশি থাকে বাজারে। তাই দামেও কিছুটা পরিবর্তন আসে।

এদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারের মূল্য তালিকায় দেওয়া আছে ১৩৭-১৪২ টাকা।

হাতিরপুল কাঁচা বাজারের বাজার করতে আসা ক্রেতা নাসরিন সুলতানা বিডিমর্নিংকে বলেন, মূল্য তালিকা অনুযায়ী বাজারে কখনোই সবজি বা অন্যান্য পণ্যদ্রব্য বিক্রি করতে দেখিনি। তাছাড়া মূল্য তালিকা বিক্রি করার ব্যাপারে বাজার নিয়ন্ত্রক সংশ্লিষ্টদের তেমন চোখে পরার মতো কোনো উদ্যেগ নেই।

Bootstrap Image Preview