Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৬ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি লাখো মানুষ, চরম দুর্ভোগ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮, ০৯:৪৯ PM আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, ০৯:৪৯ PM

bdmorning Image Preview


রিদুয়ান হাফিজ (চকরিয়া) কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢলের পানি। রবিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ নীচু এলাকাই পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারনে অন্তত এক লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত ও গ্রামীণ সড়ক ও উপসড়কগুলোও। ডুবে গেছে চকরিয়া কোট সড়ক।

থানার সামনে হাটু পরিমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে এখনো। বেড়ে চলছে জনদুর্ভোগ। তবে এ যাবত কোথাও কোন প্রান হানির ঘটনা ঘটেনি। চকরিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র বশিরুল আইয়ুব বলেন, ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। গতকাল সকালের দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মজিদিয়া মাদরাসা পাড়া, ভাঙ্গারমুখ, দিগরপান খালী, ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া, ছাবেত পাড়া, কাজীর পাড়া, ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী সেতুর পাশের কয়েকটি গ্রামের অন্তত শতাধিক বসতঘর পানিতে ডুবে গেছে।

৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর কাহারিয়াঘোনা খোন্দকারপাড়া, ঘাট পাড়াসহ আশ পাশের এলাকা গুলোর মানুষও এখন চরম ভোগান্তিতে। কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান বলেন, দুইদিনের ভারী বর্ষণে কাকারা ইউনিয়নের বেশিরভাগ নীচু এলাকা রোববার থেকে পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে আভ্যন্তরিক বেশ কটি সড়ক। ছিকলঘাট-কাকারা-মাঝেরফাড়ি সড়কের উপর দিয়ে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুইদিন ধরে কাকারা বারআউলিয়া নগর গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষ কলা গাছের ভেলা ব্যবহার করছেন। চলাচলে দুর্ভোগের রয়েছে স্কুল কলেজ মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরাও।

চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ও কোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, ভারী বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারনে বিভিন্ন ছড়া খাল ও স্লইচ গিয়ে দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। গতকাল সকাল থেকে পানির প্রবল স্রোত পড়েছে লোকালয়ের নীচু এলাকা গুলোতে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতে ঢলের পানির গতিও আরো্ বাড়বে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করবে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানিয়েছেন, ঢলের প্রভাবে গোবিন্দপুর, পহরচাঁদা অংশে বেড়িবাধেঁর ক্ষতিগ্রস্থ অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে ঢলের পানি। গতকাল থেেকেই ইউনিয়নের বেশির ভাগ নীচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার বলেন, ভারী বর্ষণে রোববার থেকে নীচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বর্তমানে চকরিয়া কলেজ, আমজাদিয়া মাদরাসা এখনো হাটু পরিমান পানিতে রয়েছে। হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন,  মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের নদীর তীর এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক বসতঘর নদীতে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক জানিয়েছেন,  পানির প্রবল স্রোতে বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় নদীর কাছের এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এদিকে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম জানান, উপজেলার  লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ফাঁশিয়াখালী, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী অধিকাংশ এলাকা বন্যার শিকার হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন পানিতে তলিয়ে গেছে।

চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, কেবি জালাল উদ্দিন সড়ক ও বরইতলি-মগনামা সড়কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের উপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গ্রামীন সড়কে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। তিনি বলেন, আমি আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বন্যা কবলিত পরিবার গুলোকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিতে সকল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। চকরিয়ার বন্যার ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

Bootstrap Image Preview