Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মন্ত্রী এলো, ট্রেন গেল

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮, ০৯:৫৯ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, ০৯:৫৯ PM

bdmorning Image Preview


নিজস্ব প্রতিবেদক।।

স্টেশনে ঘরেফেরা মানুষের ভিড়। ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষার প্রহর গুণছেন অনেকেই। এ সময় রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্টেশন সংশ্লিষ্টদের বেড়ে গেল তৎপরতা। জানা গেল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে আসছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের খোঁজ-খবর নেবেন মন্ত্রী।

[caption id="attachment_385934" align="aligncenter" width="691"]                                                                   এক নারী যাত্রীর সাথে কথা বলছেন রেলমন্ত্রী[/caption]

বেলা আড়াইটার সময় স্টেশনে উপস্থিত হন রেলমন্ত্রী। চলে যান ৫ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়ানো রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেসের সামনে। ট্রেনের জানালা দিয়ে কথা বললেন যাত্রীদের সঙ্গেও। খোঁজ নিলেন ঈদযাত্রার সার্বিক বিষয়ে। এ সময় যাত্রীদের রেলওয়ের প্রশংসা শোনান তিনি। এর মধ্যে বেজে উঠলো হুইসেল, ছেড়ে যাচ্ছে সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস। যার ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২টা ৪০ মিনিট। সঠিক সময়েই ছেড়েছে ট্রেন। মন্ত্রীও হাত নাড়িয়ে যাত্রীদের বিদায় জানালেন। চালক (এলএম) হামিদুর রহমান মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, স্যার আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ-সুন্দরভাবে পৌঁছাতে পারি।

[caption id="attachment_385937" align="aligncenter" width="668"]                                                          ঘরমুখী যাত্রীর সাথে কুশল বিনিময় করেন মন্ত্রী[/caption]

এরপর ট্রেনটির অতিরিক্ত বগি ৩ এ ঢোকেন মন্ত্রী। সেখানে নরুল ইসলাম নামের এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রেলের সার্বিক সেবা ভালো লাগছে কি-না তা জানতে চান। উত্তরে যাত্রীও ট্রেনের সেবার প্রশংসা করে আরও সেবা বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এরপর কমলাপুর ছেড়ে যেতে থাকে ট্রেনটি। এই ট্রেনটিও নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে কমলাপুর।

[caption id="attachment_385938" align="aligncenter" width="750"]                                                                                         মন্ত্রীকে দেখে উচ্ছ্বাসিত যুবক[/caption]

মন্ত্রী আসার পরই সঠিক সময়ে ট্রেন দুটি ছেড়ে যাওয়ায় স্টেশনে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রীই বলছিলেন, মন্ত্রীও আসলেন, আর সঠিক সময়ে ট্রেনও ছেড়ে গেল স্টেশন। কিন্তু সকাল থেকে অনেক ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি।

বুধবার সকাল থেকেই যাত্রী উপস্থিতিতে ভরপুর ছিল কমলাপুর রেল স্টেশন। অনেক ট্রেনে তো ভেতরে পা ফেলার জায়গাই ছিল না। আর ছাদেও ছিল মানুষ আর মানুষ। গত ৪ জুন যারা কাউন্টারের দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারাই আজ কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছেন। অগ্রিম টিকিট বিক্রি অনুযায়ী চতুর্থ দিনের মতো আজ কমলাপুর ছাড়ছেন মানুষ। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত হাজারো বিড়ম্বনা যেন পিছু ছাড়ে না ঈদে ঘরমুখো মানুষদের।

[caption id="attachment_385939" align="aligncenter" width="679"]                                                          ট্রেন ছাড়ার আগ মুহুর্তে বাহির থেকে এক যাত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন মন্ত্রী[/caption]

মোট ৫৯টি ট্রেন বুধবার ছাড়বে কমলাপুর থেকে। যদিও সকালের ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৫৫ মিনিট দেরিতে যাত্রা শুরু করে। সকাল থেকে বেশকটি ট্রেনই কিছুটা বিলম্বে কমলাপুর ছেড়ে যায়। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ে। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে ৯টায়, ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে একঘণ্টা পর।

লালমণি ঈদ স্পেশাল ট্রেন সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা কিন্তু ছাড়ে বেলা ১১টায়। অন্যদিকে রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়। তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছাড়ে।

দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যায়। এ ছাড়া রাজশাহী এক্সপ্রেস ১২ টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক পরে স্টেশন ছাড়ে।

[caption id="attachment_385940" align="aligncenter" width="647"]                                               যাত্রীদের বিদায় দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যান মন্ত্রী[/caption]

এদিকে সকাল থেকে বেশকিছু ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছেড়ে যাওয়া বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি শিডিউল ঠিক রাখতে কিন্তু সকাল থেকে যাত্রীদের ভিড় থাকায় কিছু কিছু ট্রেন বিলম্বে এসেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটা ট্রেন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় একটা স্টেশনে উঠানামা করতে যেখানে দুই মিনিট অপেক্ষা করার কথা সেখান পাঁচ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনটি পৌঁছাতেও কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন সঠিক সময়ে সব ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে।

তবে ট্রেন বিলম্বে ছাড়েনি বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সব ট্রেন প্রায় নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে, শুধু সুন্দরবন এক্সপ্রেসের প্রায় ৫৫ মিনিটের মতো বিলম্ব হয়েছে। আগামীকাল থেকে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের সেবা দেয়া। প্রতিদিন রেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিন লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করে। আমাদের যে সম্পদ আছে তা দিয়েই যাত্রীদের শতভাগ সেবা দিচ্ছি।

[caption id="attachment_385941" align="aligncenter" width="656"]                                                গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীদের হাত নাড়িয়ে বিদায় দেন মন্ত্রী[/caption]

তিনি বলেন, ট্রেনের ছাদে উঠা আইনে নাই, যারা ছাদে উঠে তারা তাদের নিজ দায়িত্বে উঠে। আমাদের সকল কর্মকর্তা তৎপর আছে, যেনো কেউ ছাদে না উঠতে পারে। আশা করা যায়, আগামী ঈদ থেকে রেলযাত্রীদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে রেলওয়ে মহাপরিচালক, সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Bootstrap Image Preview