Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ঈদ যাত্রার চতুর্থ দিনেও ১২ টি ট্রেন ছাড়লো দেরিতে!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৮, ০৬:১৯ PM
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, ০৬:১৯ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন আজ। গত দুই দিনের তুলনায় আজ ভোর থেকেই স্টেশনে মানুষের ভিড় বেশি ছিল। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ঘর মুখি মানুষের ঢল নামছে।  কিন্তু ঢাকা ছাড়ার জন্যে সারাদিনে ১২টি ট্রেন দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোর থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩০টি ট্রেন কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। আজ ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ সারা দিনে মোট ৫৯টি ট্রেন ছাড়বে কমলাপুর থেকে। রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় স্টেশন।

সড়কপথে যানজটের ঝক্কি এড়াতে অনেকে বিকল্প হিসেবে রেলপথে ভ্রমণ করছেন। গত তিন দিন বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে প্ল্যাটফর্ম ছেড়েছিল। তবে আজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে যাওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন। তিনি রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘শুধু একটি ট্রেন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দেরিতে ছেড়েছে। সেটি হচ্ছে সুন্দরবন এক্সপ্রেস। মাত্র ৫৫ মিনিট দেরি করেছে। বাকি সব ট্রেনই যথা সময়ে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের সেবা দেওয়া।’

প্রতিদিন তিন লাখ যাত্রী ট্রেনে আসা-যাওয়া করছে বলে রেলমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেবা দিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সতর্ক রয়েছে। ট্রেনের ছাদে কিন্তু কোনো যাত্রী নেই। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাত্রীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে ছাদে ওঠা আইনবহির্ভূত। এ বছর যাত্রীরা ছাদে কেউ ওঠেননি। ঈদে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতের জন্য।’ তবে কমলাপুর স্টেশন থেকেই কোনো কোনো যাত্রীকে ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। ছাদে ভ্রমণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ছাদে ওঠা আইনে নেই। আমরাও সমর্থন করি না। যাঁরা ওঠেন, তাঁরা নিজ দায়িত্ব উঠছেন। যাঁরা উঠছেন, তাঁদের নিবৃত্ত করা হচ্ছে।’

রেলমন্ত্রী বেলা ৩টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যান। একই সময়ে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসের স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু উপকূল এক্সপ্রেস ৩৭ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছাড়ে।

রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, এবার ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী উঠছেন না। অথচ এভাবে ঝুঁকি নিয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা যায়।

যে ১২টি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে সেগুলো হলো সকালে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৫৫ মিনিট, ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস ৪৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে নয়টায়। তবে তা ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর।

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাড়ার সময় সকাল আটটায়। তবে ট্রেনটি আধা ঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে আটটায় গেছে। লালমনিরহাটের লালমণি ঈদ স্পেশাল ট্রেন বেলা সোয়া নয়টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। এটি ছাড়ে বেলা ১১টায়।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল নয়টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে নয়টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে নয়টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধা ঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া নয়টায় ছেড়েছে।

দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়েছে। ৩টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসের। এটি ছাড়ে ৩৭ মিনিট দেরিতে।

রাজশাহী এক্সপ্রেস ১২টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশন ছেড়েছে বেলা দুইটার দিকে। জামালপুর কমিউটার ট্রেন ৩টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা। এটিকে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যেও ছাড়তে দেখা যায়নি।

কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আজ ভোর থেকে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেশি হয়েছে। কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরি করেছে, এটা বড় কিছু নয়। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি ট্রেন দেরি করে গেছে। বাকিগুলো সময়মতো গেছে, দু-একটি হয়তো ৫ থেকে ১০ মিনিট দেরি করেছে। তবে ঈদের সময় ১৫-২০ মিনিট দেরি করে যাওয়াও বড় কিছু নয়। এটা ঠিক হয় যাবে।

Bootstrap Image Preview