Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'কিসের সাংবাদিক আপনি, সরকারি জমিতে ঘর করছি তাতে আপনার কি?'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৮, ০৫:২৬ PM
আপডেট: ১৭ মে ২০১৮, ০৫:২৬ PM

bdmorning Image Preview


মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া সেড মসজিদ এলাকায় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।সরেজমিনে (১৭ মে) বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, পারুলিয়ার সেড মসজিদ সংলগ্ন সরকারি সম্পত্তিতে তড়িঘড়ি করে দোকান ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি জমি দখল করে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নির্মান কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আর এটি তদারকি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মাদ।

খোঁজ দিনে জানা গেছে, উক্ত সরকারি জমিতে পাকা ঘর নির্মান করছেন পারুলিয়া সেড মসজিদ রোডের আনোয়ার ভ্যারাইটি স্টোরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন, জামান ফিসের পরিচালক নুর মোহাম্মাদ, ঝিলমিল স্টোরের পরিচালক মোজাফ্ফর রহমান, মদিনা ওয়ার্চ এর পরিচালক সেলিম হোসেন। বর্তমান উক্ত স্থানে ছাদ ঢালাই দিয়ে ২য় তলার পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

সরকারি জমিতে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যস্থতম এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় দিবালোকে এমন কাজ করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিবালোকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দ্রুত গতিতে দোকাঘর নির্মানের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মনে হয় একশতক কি দেড় শতক জমি কেনা আছে। আমি ও নুর মোহাম্মাদ, মোজাফ্ফর রহমান তিন জনে পাকা ঘর নির্মাণ করছি। তবে উক্ত জমির কেনার বিষয়ে কাগজপত্র ও বৈধ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

অপর এক ব্যবসায়ী ঝিলমিল স্টোরের পরিচালক মোজাফ্ফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১২/১৩ বছর আগে ৩ জন মোট তিন শতক জমি ক্রয় করি স্থানীয় বাসিন্দা মাফুজার রহমানের কাছ থেকে। আমরা যে খানে ঘর নির্মান করছি সেখানে বেনা জমি ছাড়া সরকারি কিছু জমি ভবনের ভিতরে রয়েছে।

এদিকে, অবৈধ স্থাপনার হোতা ব্যবসায়ী নুর মোহম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার বাড়ি কোথায়? কিসের সাংবাদিক আপনি? সরকারি জমিতে ঘর করছি তাতে আপনার কি? আপনার সাথে আমি কোন কিছু বলতে পারব না।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল-আসাদ জানান, বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। সরকারি জমি দখল করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, কয়েক মাস আগে নুর মোহাম্মদ বিভিন্ন ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে পারুলিয় টু বদরতলা রোডে কাশেম পার্কেও উত্তর পার্শ্বে ইতিপূর্বে সরকারি জমিতে ২য় তলা ভবন নির্মান করেছে। তারই জোর ধরে আবারো সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলছে। শুধু নুর মোহম্মদ নয় তার মত আরো অনেকে পারুলিয়া বাজার এলাকায় সরকারি জমিতে অবৈধ্য স্থাপনা নির্মান করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই সরকারি অবৈধ্য স্থাপনা উচ্ছেদ করেতে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষেও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।

Bootstrap Image Preview