Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ শুক্রবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নানা অভিযোগে তালতলীতে ভূমিহীনদের মানববন্ধন

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২৩ PM
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২৩ PM

bdmorning Image Preview


খাইরুল ইসলাম আকাশ, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

নানা অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া আমতলী-তালতলী মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভূমিহীনরা।

আজ সকাল ১১তার দিকে এ মানববন্ধন করে তারা। এ সময় বক্তাব্য রাখেন ৫নং বড়বগী ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামরুল আহসান জলিল, মিঃ মংতাহান, মিঃ উথান, কড়ইবাড়িয়া ইউপির সাবেক সদস্য সেকান্দার আলী খান, জাকির হোসেন, মিঃমংচিন খান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা নানা অভিযোগ তুলে বলেন- তলতলী উপজেলার মানুষ আজ দিশেহারা। ভূমি সন্ত্রাসীদের বৈরী আচরণে তারা টিকে থাকতে পারছে না। ভূমিহীনরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের হয়রানী শিকার, বৈরী আচারণ, জাল জালিয়াতিসহ নানা রকম চক্রান্তের পরে ভূমিহীনরা আজ নিজ ভূমিতে পরবাসী। তারা নানা রকম অবজ্ঞা আর হয়রানী শিকার হচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা এদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

রাখাইনদের প্রবীন নেতা মিঃ মংতাহান জানান, রাখাইনরা এ অঞ্চলে প্রায় ২০০ শত বছর অধিক ধরে বসবাস করে আসছে। শুরুতে এই অঞ্চল ছিল জঙ্গল আর জীব-জন্তুতে ভরপুর। রাখাইনদের পূর্ব পুরুষেরা সেইসব জঙ্গল পরিস্কার করে ভয়ংকর জীব জন্তুর সঙ্গে অসীম সাহসের সাথে তীব্র লড়াই করে অনাবাদি পতিত এলাকায় টিকে কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আবাদযোগ্য ভূমিতে পরিণত করে। তাদের আত্ম-ত্যাগের মহিমায় আজ অত্র এলাকায় ফলে সোনালী ফসল। এর পরই ভূমিদস্যুরা নজর দেয় ভূমিহীনদের দখলি জমি জমার উপর। ভূয়া কাগজ বন্ধবস্ত দেখিয়ে জবর দখল করে লোভি মহল বসতি স্থাপন করে এবং পরে আস্তে আস্তে রাখাইন ও ভূমিহীনদের সম্পত্তি অবৈধ দখল করার চেষ্টা চালায়। রাখাইনদের সম্পত্তি অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ঐ লোভি মহল আমাদেরকে নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে।

তালতলী উপজেলার ভূমিহীন সমবায় সমিতির সভাপতি মো. চানমিয়া গাজী জানান, ভূমি জালিয়াতির চক্র ১৯৬০-৬১ সনের বন্দোবস্তের অনুমোদন এবং ১৯৭১-৭২ সনের রিভিউ দেখিয়ে বন্দোবস্ত অনুমোদন ও ২০১৩-১৪ সনের ৩.০০ একর ভূমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত সম্পাদন করেন। ২০১১-২০১২ সনের প্রায় ২৫০০ একর জমি জাল জাতিয়াতির মাধ্যমে নামে বেনামে বন্দবস্ত করা হয়।

হাইকোর্ট রিভিসনের ২০১৭/২০১৬নং রিট মামলার সংক্রান্তে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, বন্দোবস্ত কেসের আদেশ পত্রে ও সহি মহরের কপি পর্যালোচনাআন্তে বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আমতলী উপজেলা ভূমিঅফিসের তৎকালীন সার্ভেয়ার আহসানুল হক রুবেল, তৎকালীন চেইন ম্যান রফিকুল ইসলাম ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবেন্দ্র নাথাউরাও আমতলী এর সাক্ষর জালকরিয়া ভূয়া বন্দোবস্ত কেস রেজিষ্ট্রি করেছে।

বিগত ২০১৫ সালে তালতলী উপজেলা ভূমি অফিস বিভাজন হওয়ায় তালতলী উপজেলা ভূমি অফিসে রেকর্ডপত্র প্রেরণ করা হয়। জাকির সার্ভেয়ার ও সংঘবদ্ধ ইউসুফ বাহিনীর যোগসাজসে তালতলীতে দীর্ঘদিন ধরে রাখাইনদের জমি জমা ও বন্দোবস্তের উপর জাল জালিয়াতি কাগজ তৈরী করে যা এখন বর্তমান। ১৯৬২-৬৩ সনের দলিলে মূল ভলিয়াম বহিখানা বন্যায় আংশিক নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে পটুয়াখালী জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে অসৎ কর্মচারী যোগসাযোসে উক্ত জালিয়াত চক্র ১৯৬৩ সনের জাল দলিল সৃষ্টিা করে বহু রাখাইন ও সাধারণ পরিবারের জমি জমা বেদখল করে দেশান্তর করছে।

জালিয়াত চক্র থেকে রক্ষা পাবার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি কামনা করছেন বক্তারা।

Bootstrap Image Preview