Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সাড়ে ৩ লাখ লোকের জন্য ডাক্তার মাত্র ৩ জন!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৩৭ PM
আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৩৭ PM

bdmorning Image Preview


শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ

যশোরের শার্শা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাড়ে ৩ লক্ষ লোকের জন্য মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসার কাজ। ৫০ শয্যার এই হাসপালটি এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

বর্তমানে পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, এখানে মেডিক্যাল অফিসারের পদ সংখ্যা ২২টি থাকলেও খাতা কলমে রয়েছে ৮জন, এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩জন। বাকিরা কেউ ছুটিতে, আবার কারোর ডে-অফ। গত ৩ মার্চ থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কোন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বহিঃর্বিভাগে রোগীদের টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ডাক্তার না থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালটিতে একমাত্র এক্সরে মেশিনটি প্রায় ১ বছর যাবৎ নষ্ট। নেই কোন গাইনি বিভাগ। অপারেশন থিয়েটার আজীবন নষ্ট থাকায় দূর-দুরান্ত থেকে আসা গরীব ও অসহায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ডাক্তারদের পছন্দের বাইরের কোন ক্লিনিকে অথবা ৩৬ কিলোমিটার দূরে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকা স্বত্তেও রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার সময় অফিস শুরুর নিয়ম থাকলেও ডাক্তার আসেন সকাল সাড়ে ১০টায়। উপজেলার এক মাত্র এ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীরা সকাল ৮টার সময় লাইনে দাড়িয়ে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে থাকলেও ১০টার আগে বহিঃর্বিভাগে টিকিট দেওয়া হয় না। অনেক কষ্টের পর টিকিট সংগ্রহ করার পর রোগীরা ডাক্তারের দেখা পায় না। সকাল ৯টার সময় হাসপাতালে গিয়ে একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছাড়া আর কোন ডাক্তারকে দেখা যায়নি।

শনিবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাঃ আক্তার মারুফকে সকাল ৮টা থেকে ডিউটি করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এ সময় খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাগআঁচড়া বাজারে অবস্থিত তার আল-মদিনা নামে একটি প্রাভেট হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি সকাল সাড়ে ১০টার সময় হাসপাতালে আসেন।

এ বিষয়ে ডাঃ আক্তার মারুফ’র নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে আমার ডিউটি করার কথা ছিল কিন্তু এ সময় আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ এনাম উদ্দিনকে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। আমি বেলা ২টার সময় আসব।

এ ব্যাপারে  আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ এনাম উদ্দিন বলেন, জরুরি বিভাগে আমার কোন ডিউটি করার কথা ছিল না। আসলে কি জানেনা? জরুরি বিভাগে কোন মেডিক্যাল অফিসারের ডিউটি করার নিয়ম নাই। আমরা যেটুকু করি তা অনুরোধক্রমে। সেখানে শুধুমাত্র একজন সহকারী মেডিক্যাল অফিসারের ডিউটি করার নিয়ম আছে।

হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী তাসলিমা জানান, সকাল থেকে লাইনে দাড়িয়ে থেকে ৫টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে বসে আছি। এখন বেলা ১১টা বাজলেও ডাক্তার দেখাতে পারিনি।

আলমগীর হোসেন জানান, আমার ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে এসে অনেক সময় লাইনে দাড়িয়ে টিকিট কেটে ডাক্তারের কাছে গেলে বাইরের ক্লিনিক থেকে এক্সরে করার জন্য লিখে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অশোক কুমার সাহা জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় খাতা-কলমে উন্নীত হলেও কোন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবলের অভাবে আমরা জনগনকে তাদের চাহিদামত সেবা দিতে পারছি না।

Bootstrap Image Preview