Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সুন্দরবনে পশুর নদে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে, উদ্ধার হয়নি এখনো!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪০ AM
আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪০ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সুন্দরবনের পশুর চ্যানেলে ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে গিয়েছে লাইটার জাহাজ। শনিবার রাতে ডুবে যাওয়ার দুদিনেও উদ্ধার করা হয়নি জাহাজটি। তবে জাহাজটি উদ্ধারে মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় উদ্ধারকারী ও ডুবুরিরা কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন কয়লা আমদানিকারক এবং ডুবে যাওয়া লাইটার মালিক।সুন্দরবনে পশুর নদে কয়লাবোঝাই ওই জাহাজডুবির ঘটনায় বন ও নদের জীববৈচিত্র্য ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার পরীক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার রাতে হাড়বাড়িয়া এলাকায় ডুবোচরে আটকে এম ভি বিলাম নামের কয়লাবোঝাই লাইটার জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। হাড়বাড়িয়ার ৬ নম্বর অ্যাংকরে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজ থেকে কয়লা নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে গত তিন বছরে (২০১৬ সাল থেকে) সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মোট চারটি কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল। ডুবন্ত কয়লার জাহাজ থেকে যাতে কোনো ধরনের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য সদ্য কেনা বন্দরের নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ পশুর ক্লিনার-১ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শাহিন কবির বলেন, ‘আজ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জোয়ারের সময় নৌযানটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ভাটার সময় জাহাজের মাস্তুলের কিছু অংশ দেখা যায়। নৌযানের মূল অংশ ভাটার সময়ও পুরোটা পানির নিচে নিমজ্জিত থাকছে। আমরা তদন্তকাজ শুরু করেছি।’

মো. শাহিন কবির বলেন, জাহাজের চালক ও মালিকপক্ষ নৌযানটির ফিটনেস সনদ, ধারণক্ষমতাসহ অন্য কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁরা দাবি করছেন, ডুবে যাওয়া জাহাজেই সব কাগজপত্র ছিল। সব কাগজের কপি এনে দিতে হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

জাহাজ ডুবির ঘটনায় রোববার রাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাগেরহাটের মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়লা আমদানিকারক ও ডুবে যাওয়া জাহাজের মাস্টার পৃথক দুটি জিডি করেছেন। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, বন বিভাগ ছাড়াও কয়লার আমদানিকারক সাহারা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. লালন হাওলাদার ও লাইটার জাহাজের মাস্টার ফরিদ মিয়া দুটি জিডি করেছেন। এতে বলা হয়েছে, লাইটারটিতে ৯০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা ছিল; যা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে আছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

পরিবেশ অধিদপ্তর বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আজ সকালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ডুবে থাকা জাহাজটির ভেতর কয়লা বন্ধ অবস্থায় আছে। তা ছড়িয়ে যায়নি।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘একটি ইকো-সিস্টেমে বাইরের যেকোনো কিছুই ক্ষতিকর। কয়লা তো বাইরের জিনিস।’

Bootstrap Image Preview