Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৬ মঙ্গলবার, অক্টোবার ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'কবিরা কল্যাণের বার্তাবাহক'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৮:২৯ PM
আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৪৪ AM

bdmorning Image Preview


ইমাম হোসেন, মীরসরাই প্রতিনিধিঃ 

বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে মীরসরাইয়ে সম্পন্ন হলো দুই বাংলার কবি সমাবেশ। স্থানীয় পাক্ষিক খবরিকার ১৯ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গত ১২ এপ্রিল বৃহস্প্রতিবার মীরসরাই উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উক্ত কবি সমাবেশে কলকাতা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের গুণী কবিসহ চার শতাধিক কবি লেখক অংশগ্রহণ করেন।

উৎসবমুখর এই কবি সমাবেশের শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের কবি ও সাংবাদিক, সিইউজে সভাপতি নাজিদুদ্দিন শ্যামল। প্রথম পর্বে মহাকবি কাইয়ুম নিজামীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জাতিস্বত্তার কবি নুরুল হুদা।

এসময় তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐহিতাসিক মীর সাহেবের সরাইকে এখন কবিদের সরাই বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন কবিরা হলো দেশ জাতি ও পৃথিবীর শান্তি সম্প্রীতি, সত্য ও কল্যাণের বার্তা বাহক। কবিরাই পারে পুরো বিশ্বজগতের সকল সুন্দরের জয়গানকে জাগ্রত করতে। মীরসরাইয়ের মাটিতে দুই বাংলার এতো কবির আগমনকে তিনি একটি ঐতিহাসিক যাত্রা বলে আখ্যায়িত করেন।

আবার দুই বাংলার এই কবি সমাবেশ এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার ঘোষনা দেন তিনি। কামরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথীর বক্তব্য রাখেন দেশের প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক রফিকুল হক দাদু ভাই। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সহ সম্পাদক হিমেল চৌধুরী, শেখ আতাউর রহমান, এসময় ওপার বাংলা তথা কলকাতার অতিথিদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন কলকাতার ঝারখান্ড এসকে এম বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগের প্রধান বিশিষ্ট কবি ও লেখিকা ড. ছায়া গুহ, কবি ও লেখিকা দেবীস্মিতা দেব, রবীন্দ্র গবেষক কবি ড. মৌ ভট্টাচার্য, একালের ধূমকেতু পত্রিকার সম্পাদক পরিমল রায়, কবি সুব্রত দেব, কবি ফুল্লরা ধর, গল্পকার ও লেখক দৃপ্ত বর্মন রায়, শীলা রায় প্রমুখ।

খবরিকার সম্পাদক কবি মাহবুব পলাশ ও পুশকিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশেদা আক্তার মুন্নী। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদীর ফিচার এডিটর প্রদীপ দেওয়ানজী. চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অর্থসম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ওসি জামশেদ আলম, আয়েশা মুন্নি প্রমুখ কবিগন।

শিল্পকলা একাডেমীর শিশু শিল্পীদের সাথে অতিথী ও সকল কবি দর্শকদের সমবেত কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে দুই বাংলাক কবি সমাবেশ এর শুভ উদ্বোধন করেন  সকল অতিথী গুণী কবিগণ।

ড. মৌ ভট্টাচার্য্য এর কন্ঠে রবিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি ( রবীন্দ্র সংগীত), বাঁধন নাথ এর কন্ঠে আমার হৃদ মাঝারে ( লোক সংগিত), ইতি বড়–য়ার কন্ঠে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই, এশা গোলদার এর কন্ঠে জন্ম ভোরে একদিন ও তারে (লালন), অনন্য নীলিম দে এর কন্ঠে ওরে ‘কারে কি কি বা বলি ওরে ( লালন ),  জারিন তাছনিম শৈলী এর কন্ঠে ‘কে যাসরে ভাটি গাঙ্গে বাইয়া ( লোকগীতি), মহিবুল আরিফ এর কন্ঠে ভালো আছি ভালো থেকো (আধুনিক ) সবাইকে বিমুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন যথাক্রমে কবিতায় শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, আয়েশা মুন্নী ও মিনা উজ্জ্বল। আইন শৃংখলা সেবায় জাহিদুল কবির ও জামশেদ আলম। সমাজসেবায় আনোয়ার হোসেন, রেজাউল করিম মাষ্টার ও হাফেজ শহিদুল্লাহ মিয়াজী। শিক্ষা সেবায় মাষ্টার এনামুল হক ও জহুর আলম চৌধুরী। সংস্কৃতি সেবায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উত্তম কুমার বড়ুয়া, বাদল কান্তি নাথ ও মিনাক্ষী দেবী। সেরা সামাজিক সংগঠন অভিযান ক্লাব, সাংবাদিকতায় সৌমিত্র চক্রবর্তি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়ন কান্তি ধূম। আদর্শ মাতা হিসেবে সামছুন্নাহার ( মরণোত্তর), আদর্শ বাবা বদিউজ্জামান ( মরনোত্তর)।

কবি ও সাংবাদিক রাজিব মজুমদার, কেয়া চক্রবর্তি ও এরিকা চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে আবৃত্তি পর্বে বিশিষ্ট কবিগনের আবৃত্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবৃত্তি যথাক্রমে কবি সোহাগ সিদ্দিকী, আরিফ চৌধুরী, মাহমুদ নজরুল, শাহাদাত হোসেন লিটন, দেবাশিষ ভট্টাচার্য্য, বাবু সুভাষ সরকার, সেলিমুল ইসলাম খান, নির্দেশ বড়ুয়া, সুরাইয়া আরজুমান্দ সাফা,  নুরুল ইসলাম ইরান, নুর নাহার নিপা প্রমুখ।

Bootstrap Image Preview