Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইলিশ বিক্রেতাদের মুখে হতাশার ভাঁজ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৫৮ PM
আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৫৮ PM

bdmorning Image Preview


রায়হান শোভন।।

উৎসব প্রিয় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের বাজারে বইছে বৈশাখী ঝড়।বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশের সরবারাহ থাকার পরও কোনো কারণ ছাড়াই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। তবে ক্রেতারাও সময়ের পরিবর্তনে হয়েছে সচেতেন।বৈশাখে বছর তিনেক আগে যে পরিমাণ ইলিশ বিক্রি হতো তা অনেকাংশেই কমে গেছে।এজন্য বিক্রেতাদের মুখ পরেছে হতাশার ভাঁজ।

পহেলা বৈশাখের দিন সারাদেশেই শুরু হয় পান্তা-ইলিশের বেচাকেনা ও খাওয়া-দাওয়ার ধুম। এ ধরনের একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে পান্তা-ইলিশ অপরিহার্য। যতদূর জানা যায়, ১৯৮৩ সালে বা ১৩৯০ বঙ্গাব্দ উদযাপনের সময় রমনা এলাকায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে পান্তাভাত ও ইলিশ বিক্রির দোকান দেওয়া হয়।

বর্ষবরণ উৎসবের ক্রমবিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পান্তা-ইলিশের কেনাবেচাও বাড়ে। গত দুই দশকে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সময় এর বিস্তার এত বেড়েছে যে, ইলিশের দামও এ সময় আকাশ ছুঁইছুঁই করে। যদিও লোক-গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার সঙ্গে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং বৈশাখ মাসে এই বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইলিশ ধরার কারণে মাছটির সারাবছরের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আজ বড় আকারের এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৩২০০ থেকে  ৪ হাজার টাকায়।গত সপ্তাহে এই আকৃতির ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়। ৮০০ গ্রাম ওজনের এক পিস বিক্রি হয় ২ হাজার টাকায়, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৮০০ টাকায়। ৭০০ গ্রাম ওজনের এক পিস ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫’শ টাকায়।এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের এক পিস ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

এদিকে  ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির দৈনিক বাজার মূল্যতালিকায় সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বাড়তে দেখা গেছে। সেখানে মঙ্গলবার এক কেজি ইলিশের দাম দেয়া আছে ৭০০ থেকে ১২শ’ টাকা, যা গত সপ্তাহে দাম ছিল ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা। আর এক মাস আগে এর দাম দেয়া আছে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা।

ইলিশ কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সায়মন আহমেদ বলেন, বৈশাখকে কেন্দ্র করে মাছ বিক্রেতারা আগেভাগেই ইলিশের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে বড় ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও মাঝারি আকারে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

গত দুই বছর আগে জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় নববর্ষ উদযাপনের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ এর খাদ্য তালিকা থেকে ইলিশ বর্জন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

অধিকাংশ ব্যবসায়ী ইলিশ মাছ কেজি দরে বিক্রি না করে হালি হিসাবে বিক্রি করছেন। হালি হিসাবে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে হাশেম মিয়া আরও বলেন, অধিকাংশ মাছ বেশ ছোট। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের। মাঝেমধ্যে দু-একটা মাছ ওজনে বেশি হয়। ছোট মাছ হালিতে বিক্রি লাভ বেশি। আর দুই থেকে তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছ আট থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে টাউনহল বাজারের মৎস্য বিক্রেতা আলী হোসেন বিডিমর্নিংকে বলেন,বছরে এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হতো বিগত কয়েক বছর আগে। কিন্তু এখন আর আগের মত বেচাবিক্রি নেই।ক্রেতারা আগের মত ইলিশ ক্রয় করছেন না।ক্রেত্রারা অনেকটাই ইলিশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর ৬নং বাজারের মৎস্য বিক্রেতা শের মোহাম্মদ বিডিমর্নিংকে বলেন, তাঁর দোকানের বড় ক্রেতা রাজনৈতিক দলের নেতা, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা এবার আর আগের মতো ইলিশ কিনছেন না। কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি ইলিশ খেতে নিষেধ করেছেন। এ কারণে কেউ নেতাদের বাসায় বা সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় ইলিশ পাঠাচ্ছেন না।

কাটাসুর নামার বাজারের মৎস্য বিক্রেতা খালেক বিডিমর্নিংকে বলেন, আমাদের ইলিশ বেচাকেনা নেই বললেই চলে।যেমনটা আশা করেছিলাম তার ২০ ভাগও বিক্রি হচ্ছে না।আমাদের লোকসানে বিক্রি করতে হবে মাছ।

ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ পিন্টু বিডিমর্নিংকে বলেন,'পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের প্রচলন গড়ে তুলেছে নতুন মধ্যবিত্ত সমাজ। বৈশাখে কোনো ফসল ওঠে না, সাধারণ কৃষকদের পক্ষে ইলিশ কিনে খাওয়ার মতো টাকাও থাকে না। ফলে পান্তার সঙ্গে ইলিশের সুযোগ নেই।আমিও এবার খাচ্ছি না পান্তা-ইলিশ।

হাতিরপুল বাজারে বাজার করতে আসা সাংস্কৃতিক সুতপা আহমেদ বিডিমর্নিংকে বলেন, বাঙালির সংস্কৃতির কোথায় লেখা আছে যে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খেতে হবে। আমাদের দেশে বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশকে আনা হয়েছে মুলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নিয়ে।সুতারাং আমাদের উচিত পান্তা-ইলিশকে বর্জন করে অপসংস্কৃতির কালিমা থেকে আমাদের জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা।

Bootstrap Image Preview