Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কুড়িয়ে পাওয়া ওড়না নিয়ে যা ঘটলো

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:২১ PM আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:২১ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক- 

পথে কুড়িয়ে পাওয়া ওড়না ফেরত দিতে গিয়ে জেলে যেতে হয়েছে মা ও মেয়েকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ভুক্তভোগী দুই নারী কল্পনা ও রাজিয়া বিনা অপরাধে জেল খাটছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। ভ্রাম্যমান আদালত সাতদিনের সাজা দেন তাদের।  পরিবারের অভিযোগ, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী বাইন হীরা ও তার গোপনীয় সহকারী মো. কামরুল ইসলাম বিনা অপরাধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের জেল দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তার গোপনীয় সহকারী বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসরের একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এই সাজা দেয়া হয়। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে কামরুল ইসলাম প্রতিবেদন না করতে বলেন সাংবাদিকদের। ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, পিতৃহীন শ্রমিক কন্যা ১১ বছরের শিশু লিপা উপজেলার পাশেই একটি স্কুলে পড়ে। সেই সুবাদে বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় তার যাওয়া আসা আছে। এছাড়াও তার বোন কল্পনা ও মা রাজিয়া বেগম উপজেলার বিভিন্ন অফিসারের বাসায় কাজ করেন। কয়েকদিন আগে উপজেলার অফিসারদের গেজেটেড কোয়ার্টারের পাশেই একটি ওড়না পড়ে থাকতে দেখে শিশু নিপা সেটি নিয়ে নেয়। পরে নিপা সেটি তার বোন কল্পনাকে দিয়ে দেয়। এই ওড়না পড়ে রবিবার কল্পনা আশুগঞ্জ বাজারে গেলে উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিন সেটি দেখতে পেয়ে ওড়নাটি তার বলে দাবি করেন। মানবিক কারণেই সোমবার দুপুরে ওড়নাটি ফেরত দিতে উপজেলার অফিসারদের গেজেটেড কোয়ার্টারে যান নিপা, কল্পনা ও তার মা রাজিয়া বেগম। পরে ওড়না দেয়া নিয়ে সেখানে রোকসানা পারভিনের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় রোকসানা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তাদের ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গোপনীয় সহকারী মো. কামরুলের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কামরুল বিষয়টি নিয়ে একটি অভিযোগ দিতে বলেন রোকসানা পারভিনকে। রোকসানা একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারে বরারবর দাখিল করেন। সন্ধ্যায় এই অভিযোগের কোন সত্যতা যাচাই না করেই কামরুলের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী বাইন হীরা তাদের প্রত্যেককে সাতদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে এসময় চুরি করার বিষয়ে কোন সত্যতা যাচাই করা হয়নি বলে দাবি করেছেন কল্পনার পরিবারের পক্ষ থেকে। এদিকে এই সব বিষয় অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী বাইন হীরা, একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিন ও গোপনীয় সহকারী কামরুল ইসলাম। তারা জানান, চুরি করার সময় হাতেনাতে তাদের ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এসময় লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যেকের সাতদিনের সাজা দেয়া হয়। পাশাপাশি নিপা ১৮ বছরের কম বয়সের হওয়ায় মানবিক কারণে তাকে ক্ষমা করা হয়। কল্পনার ভাই শফিকুল ও শাহজাহান অভিযোগ করেন, আমার বোন ও মা চুরি করেনি। আমার ছোট বোন নিপা ওড়নাটি উপজেলায় কুড়িয়ে পেয়ে আমার বোন কল্পনাকে দিয়েছিল দুই দিন আগে। চুরির কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে আমার মা ও বোনকে সাতদিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ আপিল করার কোন সামর্থও আমাদের নেই। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে গোপনীয় সহকারী কামরুল আমাদেরকে বাহিরে কারো সাথে কোন কথা বলার জন্য নিষেধ করেন। তিনি আরও জানান, কোনো কারণ ছাড়াই কামরুলের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই সাঁজা দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গোপনীয় সহকারী মো. কামরুলের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এই বিষয়ে সংবাদ না করার জন্য বলেন। পাশাপাশি তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিন জানান, ‘সোমবার দুপুরে নিপা, কল্পনা ও তার মা রাজিয়া বেগমকে আমার কোয়ার্টারে দেখতে পাই। এসময় তাদের ওড়নাসহ ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গোপনীয় সহকারীর নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমি তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কল্পনা ও তার মা রাজিয়ার সাতদিন করে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী বাইন হীরা জানান, সোমবার বিকালে একাডেমিক সুপারভাইজার রোকসানা পারভিনের বাসা থেকে থ্রি পিসসহ ওড়না চুরি ও তার সাথে হাতাহাতির অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিপার মা রাজিয়া বেগম ও বড়বোন কল্পনা বেগমকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তাদের থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Bootstrap Image Preview