Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৩ রবিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

চট্টগ্রামে ক্যাবের উদ্যোগে 'পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্প শীর্ষক' অ্যাডভোকেসি সভা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮, ১০:৩৪ AM আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮, ১০:৩৪ AM

bdmorning Image Preview


চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম'র উদ্যোগে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে 'পোল্ট্রি সেক্টরে সুশাসন প্রকল্প শীর্ষক' এক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সোমবার (১২ মার্চ) চট্টগ্রামের খুলসীস্থ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশনেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, পাঁচলাইশ থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সেতু ভুষন দাস, কোতোয়ালী থানা প্র্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরমিন আকতার, সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ আবুল হাসেম, ক্যাব চট্টগ্রামের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মশিউর রহমান প্রমুখ।

সভায় আলোচকরা বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, অর্থনীতি লাইফ লাইন। বিদেশ থেকে অনেক খাদ্যপণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। আমদানি-রপ্তানি সুবিধা থাকায় অনেকগুলি পোল্টি ফিড উৎপাদনকারী যেমন গড়ে উঠেছে একই ভাবে পোল্ট্রি ফিডসহ খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় অনেক সুযোগ সুবিধা চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ভেটেইরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা ছাড়াও প্রাণী সম্পদ বিভাগের কোয়ারেন্টাম, কৃষি বিভাগের কোয়ারেন্টাম, বিএসটিআই ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের খাদ্যপণ্য পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠিত হলেও খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে কার্যকর যোগাযোগ সৃষ্ঠি হয়নি। মান পরীক্ষার পর সে বিষয়ে ফলাফলও জনসাধারণের মাঝে পৌঁছানের সেরকম কার্যকর নেটওয়াকিং তৈরী হয়নি।

অন্যদিকে জনগণেরর মাঝে প্রকৃত তথ্য পৌঁছাতে এখাতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ের সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোন উদ্যোগ গঠিত হয়নি। সে কারণে খাদ্য-পণ্যের মান পরীক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং এখাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের মাঝে অধিকতর সমম্বয় জোরদার করার জন্য একটি থিমেটিক গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেখানে খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণী সম্পদ, মৎস্য, বিশেষজ্ঞ, ক্যাব ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অর্ন্তভুক্ত থাকবে। এই থিমেটিগ্রুপ নিয়মিত ভাবে আলাপ আলোচনা করে জনগণের মাঝে খাদ্যপণ্যের মান বিষয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধারার প্রয়াস চালাবেন।

সভায় আরো বলা হয় পোল্ট্রি শিল্প দেশের সাধারণ ভোক্তাদের চাহিদার কারণে পরিধি বিস্তৃতি লাভ করেছে, সেকারনে পোল্ট্রি শিল্পের ফিড তৈরীতে বেশ কিছু  পণ্য  বিদেশ থেকে আমাদানি করা হচ্ছে। আমদানিকতৃ উপকরণ ও কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনির্ভাসিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টারের ল্যাবে পরীক্ষার পরে খালাসের অনুমতি পায়। সে কারণে এ ল্যাবের সুবিধাগুলির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পের ফিডের মান নিশ্চিত করা, খাদ্যপণ্য পরীক্ষন ও সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিক সুযোগ সুবিধাগুলির যথাযথ ব্যবহার ও এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃ সমন্বয় জোরদার এবং ভোক্তা সংরক্ষন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সাথে কার্যকর নেটওয়াকিং সম্পর্ক জোরদারে আহবান জানানো হয়।

সভায় বলা হয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণীজ আমিষের সিংহভাগ পোল্ট্রি শিল্প যোগান দিলেও প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে জনগণের কাছে এ শিল্পের বিষয়ে সঠিক তথ্য পোৗঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণীত হলেও বিধিমালা তৈরীসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক জঠিলতায় জনগণের কাছে কাংখিত সেবা পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে না দেশের প্রাণী সম্পদ বিভাগ।

অন্যদিকে কিছু মানহীন পোল্ট্রি ফিড বাজারজাত, খুচরা পোল্ট্রি বিক্রেতারা যত্রতত্র অপরিস্কারাছন্ন ভাবে পোল্ট্রি জবাই ও বিক্রি করলেও তার যথাযথ নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ খাদ্য ও পোল্ট্রি বিষয়ে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকায় এখাতে উদ্যোক্তারা ন্যায্য মুনাফা হতে কিছু কিছু জায়গায় বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেক পোল্ট্রি শিল্পে জড়িত উদ্যোক্তা ও খামারীরা খামার মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আর শিল্প উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হলে দেশীয় প্রাণীজ আমিষের যোগান হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশীয় প্রাণীজ আমিষের যোগান ঠিক রাখতে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত পোল্ট্রি ফিড উৎপাদক, ডিলার, খামারী ও ব্রয়লার উৎপাদকদের নিরাপদ ও মানসম্মত পোল্ট্রি খাবার, উৎপাদন, সরবরাহ এবং খুচরা পর্যায়ে লাইভ বার্ড বিক্রিতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তা-ক্রেতা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স ইউনিভার্সিটির পোল্ট্রি রিচার্স ও ট্রেনিং সেন্টার ও ক্যাব যৌথ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অ্যাডভোকেসি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ সাহিদা আকতার।

Bootstrap Image Preview