Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

রায়পুরায় ভয়ংকর টেটাযুদ্ধ; ৩৮ বছরে নিহত ৫৪, আহত ২ হাজার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:২১ PM
আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:২৬ PM

bdmorning Image Preview


সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা চরাঞ্চলীয় নিলক্ষায় বাঁশগাড়ীসহ ৬টি ইউনিয়নে ১৯৮১ সাল থেকে দু’দলের অব্যাহত টেটাযুদ্ধে প্রায় ৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২ হাজারের বেশি।

এ টেটাযুদ্ধে অবস্থানরত কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিলক্ষা, বাঁশগাড়ীসহ অন্যান্য ইউনিয়নের ক্ষমতায় থাকা চেয়ারম্যান ও পরাজিত সাবেক চেয়ারম্যান এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দীর্ঘদিনের বিরোধের অংশ হিসেবে এভাবে টেটাযুদ্ধ শুরু করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, তাদের আধিপত্ত বিস্তারের জন্য গত কিছুদিন পূর্বেও উভয় দলের মধ্যে টেটাযুদ্ধ হয়েছে। তাদের বিদ্যমান টেটাযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ৫০ জন। গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির মাঝে বিকেলে আরো ১ ব্যক্তির নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল।

এইভাবে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দল ও পুলিশসহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলি ও টেটার আঘাতে আহত হয়েছেন তৎকালীণ রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম সরকার, এসআই আসাদুজ্জামান আসাদ, জিয়াউর রহমান, এএসআই তোফাজ্জল হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, কনষ্টেবল জিল্লুর রহমান ও সাইদুর রহমানসহ ৭ পুলিশ ও উভয় দলের প্রায় ৫০ ব্যক্তি।

রায়পুরা থানা ও নরসিংদীর পুলিশ লাইনের দাঙ্গা পুলিশ একত্রিত হয়ে এ টেটাযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করলে দাঙ্গাবাজ লাঠিয়ালরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। আহতরা স্থানীয় নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী বি-বাড়িয়া জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় রায়পুরা থানা পুলিশ উভয় পক্ষের ১৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

অব্যাহত টেটাযুদ্ধে নিহতরা হলেন, আমিরাবাদ গ্রামের আলতাফ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া (৪৫), সোনাকান্দী গ্রামের আরব আলীর ছেলে খোকন মিয়া (৩২) ও একই গ্রামের মঙ্গল মিয়ার ছেলে মো. মামুন মিয়া (২২)। নিহতদের পরিবারের দাবি পুলিশের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান সরকারের দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে বিগত কিছুদিন পূর্বে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে উভয় পক্ষ পুণঃরায় দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ূন কবিরের উপস্থিতিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এসময় গ্রামবাসীরা পুলিশের উপর ককটেল ও টেটা নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন গনমাধ্যম কর্মীদেরকে জানায়, নিলক্ষা, বাঁশগাড়ীসহ ৬টি ইউনিয়ন পুলিশ সুপার, (আমেনা বেগম) বিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের নজর দারীতে আছে এবং উক্ত ৬টি ইউনিয়নের জন সাধারনকে সুশৃংখল রাখার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Bootstrap Image Preview