Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ রবিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

৩৫ কোটি টাকার পাতানো টেন্ডার নিয়ে লক্ষ্মীপুরে তোলপাড়

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৫:৩৫ PM
আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৫:৩৫ PM

bdmorning Image Preview


অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার নিয়ম রক্ষার পাতানো টেন্ডার দাখিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে তেমনি সাধারন ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ নিতে পারেননি। টেন্ডারকে কেন্দ্র করে জেলাব্যাপি ঠিকাদারের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে

১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে লক্ষীপুর গনপূর্ত কার্যালয়ের সামনে সাধারন ঠিকাদারেরা জড়ো হয়ে এর প্রতিবাদ জানান।

তারা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা কাজটি পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য নিয়ম রক্ষার পাঁতানো টেন্ডার দাখিল করছেন। এ অবস্থায় নোয়াখালীতে দুটি ও লক্ষীপুরে একটি সহ মাত্র তিনটি দরপত্র জমা পড়েছে। এতে অন্য কোন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করতে পারেননি।

সূত্র জানায়, গেল বছরের ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুর এসে সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সম্প্রতি তা বাস্তবায়নে গণপূর্ত বিভাগ প্রায় ৩৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করে। দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি)।

অভিযোগে আরো জানা যায়,  নোয়াখালীর এক ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেওয়ার জন্য  ওই নেতারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতে সোমবার সকাল থেকে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নোয়াখালীত গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও আশপাশ এলাকায় সর্তক অবস্থন নেয়। এ অবস্থায় অন্য ঠিকাদাররা দরপত্র দাখিল করতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের কাজের জন্য দরপত্র বিক্রি হয়েছে ২০টি। এর মধ্যে নোয়াখালীতে দুটি ও লক্ষ্মীপুরে একটিসহ জমা পড়েছে  মাত্র তিনটি। নিয়ম রক্ষার জন্য মেসার্স এম এম বিল্ডার্স, রূপালী জি এম সন্স কনসোর্টিয়াম ও ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডেভেলেপমেন্ট লিমিটেডের নামে কৌশলে ৩টি পাঁতানো দরপত্র দাখিল করা হয়। এ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা সিন্ডিকেটটি নিজেদের মধ্যে যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে দরপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন সাংবাদিকদের জানান, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আমি অবগত নই। এর সঙ্গে আমি ও আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নেই।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, টেন্ডার নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে কোন কিছু ঘটেনি। বাইরে কি হয়েছে, না হয়েছে সেটি আমার দেখার বিষয় নয়। এ নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। চট্টগ্রামে দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে তা বলা যাবে।

এদিকে পাতানো টেন্ডারের ঘটনাটি জেলার 'টক অব দ্যা টাউনে' পরিনত হয়েছে।

Bootstrap Image Preview