Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

গরু-ছাগল পালন করে মীরসরাইয়ের আসাদ এখন স্বনির্ভর

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪৩ PM
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪৩ PM

bdmorning Image Preview


ইমাম হোসেন, মীরসরাই প্রতিনিধিঃ

গরু-ছাগলের খামার করে স্বাবলম্বী মীরসরাইয়ের যুবক আসাদুজ্বামান। পিতার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে আজ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এখন স্বনির্ভর। দিনে দিনে শুধু পরিবার নয় সমাজের অনন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আসাদ।

মীরসরাই উপজেলার ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের স্বনির্ভরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত মোঃ আসাদুজ্জামান (২৬)। ৪ বছর পূর্বে মৃত্যবরণ করে পিতা মুক্তিযোদ্ধা কবির হোসেন। তখন কলেজে পড়ছিল আসাদ। পিতার মৃত্যুর পর মা, ভাই বোন নিয়ে সংসার এর হাল ধরতে পৈত্রিক পুকুর পাড়ের জমি ভরাট করে একটি শেড নির্মান করে।

১০ টি ছাগল আর কয়েকটি গরু নিয়ে শুরু হয় একটি গবাদি খামার। সর্বসাকুল্যে দুই লক্ষ টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করা সেই খামার এখন বার লক্ষাধিক টাকার গরু ও ছাগল রয়েছে। যাবতীয় ব্যয় সংকুলান করে ধীরে ধীরে খামারের শেড বৃদ্ধি, খাবার শেড, প্রহরী শেড, ব্যবস্থাপনা ও কবুতর এবং টার্কি মুরগি পালনের ও উদ্যোগ নিচ্ছেন।

পাশাপাশি খামারের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে চারদিকে নিরাপত্তা প্রাচীর ও গড়ে তুলছে। ধীরে ধীরে খামারের আয় থেকেই সকল উন্নয়ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে এলাকায় বড় কোন উৎসব বা বিয়ে পার্টি হলে ছাগল সরবরাহ করছে আসাদ। পরিবারের ছোট ভাই বোন এর পড়ালেখাসহ সংসারের দুর্দিন কাটিয়ে সকলের মুখে হাসি ফুটাতে আসাদ এর সংগ্রামী জীবন যেন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি উক্ত যুবকের গল্প শুনে এই প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভরদ্দাজহাট বাজার থেকে আধা কিলোমিটার উত্তর পার্শ্বের উত্তর দুর্গাপুরে নিজ বাড়ির পাশেই উক্ত যুবক গড়ে তুলেছে এই খামার।

কেন এই খামার গড়ে তুললো আর লক্ষ্য কি জানতে চাইলে আসাদ বলে আমার পিতার মৃত্যুর পর কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা বাবা বলতেন কখনো কারো কাছে হাত পাতবে না। সবসময় নিজে কিছু করার চেষ্টা করবে। ঠিক সেসময় পার্শ্ববর্তি এলাকায় জনৈক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বার বার বিদেশ যেতে ব্যর্থ হবার পর একটি গরুর খামার করে এখন সফল। উনার মতো একজন শিক্ষিত লোক চাকরি ও পেলেন না, বিদেশ ও না গিয়ে এভাবে খামার করছেন দেখে আমি ও বেকারত্ব লাঘব করতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে এই ছাগল গরু পালন শুরু করি।

এই খামারের বিষয়ে সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে আসাদ বলে, পশু বিভাগ থেকে আমাদের খোঁজ খবর নেয়া হয়। এছাড়া কোন সহযোগিতা চাইলে ও উনারা সেবা দেন।

তবে তিনি বলেন সম্প্রতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে বিদ্যুত সংযোগ চাইতে গিয়ে সত্তর হাজার টাকার চাহিদাপত্র আমায় আহত করে। আমার মতো যুবক এখনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ ও করছি ধীরে ধীরে। সেক্ষেত্রে আমাদের মতো বেকারদের কাছে খামারকে বাণিজ্যিক কোটায় ফেলার চেষ্টা অনেকটা নিরুৎসাহিত করার মতো। তিনি এই বিষয়ে সংস্লিষ্ট বিভাগের কাছে গ্রামীণ সুবিধার দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানান।

দুর্গাপুর গ্রামের স্থানীয় সমাজসচেতন আনোয়ারুল হক নিজামী বলেন, আসাদ এর মতো দেশের প্রতিটি গ্রামে বেকার যুবকরা খামার গড়ে তুললে দেশে নিরাপদ আমীষের অভাব গুছে যাবে খুব সহজেই।

মীরসরাই উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি পোদ্দার বলেন, এমন খামারী উদ্যোক্তাদের আমাদের বিভাগ সব সময়ই সচেতন। উক্ত খামারির সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার বিষয়ে আমরা সকল বিভাগের সহযোগিতা কামনা করছি।

Bootstrap Image Preview