Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ বৃহস্পতিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

মৌ খামার করে স্বাবলম্বী রফিকুর রহমান

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪০ PM
আপডেট: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪০ PM

bdmorning Image Preview


রাজীবুল হাসান, ভৈরব প্রতিনিধি:

রফিকুর রহমান (রিমন) ২০১৪ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করেছেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরের কলেজ পাড়া এলাকায়। লেখাপড়া শেষ করে বেশ কিছুদিন চাকরি খোঁজেছেন। চাকরির আশায় কতদিন বসে থাকবেন। বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে তাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তাই তিনি ভাবছিলেন চাকরি ছাড়া কি কাজ করা যায়। এক সময়ে ভ্রমণ করতে থাইল্যান্ড গেলেন। সেখানে গিয়ে মৌ চাষ খামার পরিদর্শন করে ভাবলেন দেশে এসে মৌ- খামার করবেন।

এসব দেড় বছর আগের কথা। ইন্টানেটে সার্চ দিয়ে মৌচাষের পদ্ধতিগুলি জানলেন কিন্ত অভিজ্ঞতা নেন রফিকুর। তারপর এক খামারির সাথে যোগাযোগ করে কিছুটা অভিজ্ঞতা নিলেন। কিন্ত পুঁজি লাগবে ৪/৫ লাখ টাকা। হাতের নিজের কিছু জমানো টাকা ছিল আর বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিলেন। সাহস নিয়ে মৌ-খামার গড়ে তুললেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ফসল যেগুলি থেকে মৌমাছিরা মধূ আহরণ করে সেখানে গিয়ে মধূ আহরণ শুরু করলেন। সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, লিচুর ফুল থেকে মৌমাছিরা মধূ সংগ্রহ করে। তাই যেখানে যে এলাকায় এসব ফসল হয় কৃষকের সাথে যোগাযোগ করে সেখানেই ছুটে যান রফিকুর রহমান।

বর্তমান রবি মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে মৌমাছিরা মধূ আহরণ করে থাকে। ভৈরবে এবার সরিষার আবাদ ভাল হওয়াই তিনি একমাস আগেই খামারের সরঞ্জামাদি নিয়ে ভৈরবে মৌ-খামারে মধূ আহরণ শুরু করেন। তবে অসময়ে বৃষ্টির জন্য কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে বলে তিনি জানান। ভৈরবের পৌর এলাকার জগনাথপুর গ্রামে অস্থায়ী মৌ-খামারটি গড়ে তোলেন। সরিষার মৌসুম শেষ হয়ে গেলে তিনি আবার অন্য কোন ফসলের খোঁজে ছুটে যাবেন অন্য কোন এলাকায়। তার খামারের নাম মিঃ বিঃ মৌ-খামার।

রফিকুর ভৈরবে মৌমাছির জন্য ১শ' ৭টি মৌ-পালার বক্স আমদানী করেছেন। মৌমাছিরা প্রতিদিন সরিষা ফুল থেকে মধূ আহরণ করে বক্সের বাসায় নিয়ে আসে। যেখানে তিনি বক্সগুলি রেখেছেন সেখানের আশেপাশে প্রায় ১শ' হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করেছে ভৈরবের কৃষকরা। এই সরিষার মৌসুমে তিনি সপ্তাহে একবার করে মধূ আহরণ করতে পারেন।

রফিকুর জানান, এই মৌসুমে ৪/৫ বার মধূ সংগ্রহ করা যাবে। গত সপ্তাহে তিনি খামার থেকে প্রায় ৭০ কেজি মধূ আহরণ করেছেন। প্রতি কেজি মধূর খুচরা মূল্য আনুমানিক ৫শ' টাকা। তবে প্রথম টানে মধূ কম হলেও দ্বিতীয় টানে আরও বেশি মধূ আহরণ করা যাবে। ভৈরব থেকে তিনি ৪/৫ শ কেজি মধূ আহরণ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা।

খামারি রফিকুর রহমান জানান, মধূ আহরণে কৃষরাও লাভমান। কারণ মৌমাছি মধূ আহরণের সময় পরাগায়নে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের ফুল থেকে বছরে ৪/৫ বার মধূ আহরণ করলে ২ হাজার কেজি থেকে ২ হাজার ৫ কেজি মধূ আহরণ সম্ভব। সুন্দরবন থেকেও তিনি মধূ আহরণ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে পুঁজি বেশি লাগলেও এখন তেমন একটা পুজি লাগে না। বক্স বাড়িয়ে খামার বড় করলে আরও পুঁজি লাগবে। প্রতিবছর মধূ আহরণ করে ১০/১৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে তিনি জানান। মৌ- খামার প্রতিষ্ঠিত করার পর রফিকুল ইসলাম এখন আর চাকরির চিন্তা করছে না। তিনি জানান, সরকারিভাবে কিছুটা সহযোগিতা করা হলে খামার বড় করে বেশি আয় করা সম্ভব।

ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন জানান, ভৈরবে এবার ৭শ' হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ ধরনের খামার আরও কয়েকটি হলে খামারিরা যেমন লাভবান হবে ঠিক কৃষরাও লাভবান হবে। মৌমাছির পরাগায়নে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি হয় বলে জানান তিনি।

Bootstrap Image Preview