Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ সোমবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ব্যাপারে আজই সিদ্ধান্ত!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:৪৩ PM
আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৩:৪২ PM

bdmorning Image Preview


আরিফ চৌধুরী শুভ।।

ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের ব্যাপারে আজই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শিক্ষামন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী পরিষদ একাধিক সূত্রে ঠিক এমনটিই জানা গেছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এ বিষয়ে বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে রোববার আন্দোলনকারী শিক্ষকনেতাদের ডেকে খোলাখুলি কথা বলা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবেন শিক্ষকদের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, এখনো সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া নেই। তাই মরলেও এখানেই থাকবেন। দাবি পূরণ ছাড়া এবার বাড়ি যাবেন না। একই কথা জানালেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষক সমতিরি সভাপতি মাও. আবদুর রহিম।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুই ধরনের শিক্ষকেরা আন্দোলন করছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন পাওয়া সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষকেরা ১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থানের পর ৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন করছেন। আজ অনশনের ৬ষ্ঠ দিন চলছে।

গতকাল শনিবার ছিল অনশন কর্মসূচির পঞ্চম দিন। গতকাল পর্যন্ত আরও ১৮ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে প্রায় দু’শতাধিক  শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৩টি। এগুলোতে শিক্ষক আছেন ১৫ হাজার ২৪৩ জন। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টির ৪ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষককে অনুদান হিসেবে মাসে কিছু টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকেরা পান মাসে আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারি শিক্ষকেরা পান মাসে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বাকিরা বিনা বেতনেই শিক্ষকতা করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা বলছেন, মাদ্রাসা বোর্ড থেকে নিবন্ধিত ১৮ হাজার ১৯৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মধ্যে চালু আছে ১০ হাজারের মতো।

বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী আছে। এদের বেতন বাবদ মাসে প্রতি শিক্ষার্থীর গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়।

জাতীয়করণ হলে সরকারি নিয়মে মাসে ২০ থেকে ৫০ টাকার মতো খরচ হবে। এতে ওই সব শিক্ষার্থীর পরিবারের খরচ কমে সাশ্রয় হবে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনবৈষম্যও দূর হবে।

Bootstrap Image Preview