Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

উদ্বোধনের পরেও তালাবদ্ধ যাত্রাবাড়ীর বিশেষায়িত মৎস্য বাজার

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৩২ AM আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৫৬ PM

bdmorning Image Preview


রায়হান শোভন।।

উদ্বোধনের পরেও তালাবদ্ধ যাত্রাবাড়ীর বিশেষায়িত মৎস্য বাজার। উদ্বোধনের বেশ কয়েকদিন পার হলেও এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নির্মিত দেশের প্রথম সরকারি বিশেষায়িত মাছের বাজারের।  ইতিমধ্যে ভবনের নিচতলা, প্রথমতলা ও দ্বিতীয়তলার স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও সেখানে মাছ বেচাকেনা শুরু করেনি ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সব শ্রেণীর ব্যবসায়ী এখানে স্থান বরাদ্দ পায়নি। বড় ব্যবসায়ীরা একাধিক স্থান বরাদ্দ নিয়েছে। পরে তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি মূল্যে ভাড়া দেয়ার অফার দিচ্ছে। আর এসব কারণে এখন পর্যন্ত এ বাজারের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ীতে নির্মিত ঢাকা মহানগর মৎস্য বিপণন সুবিধা কেন্দ্র নামে ছয়তলা বিশিষ্ট এ বিশেষায়িত মাছের বাজারের মূল ফটকে তালা ঝোলানো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব তাড়াতাড়ি এ মাছের বাজারের কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী মাছ আড়তের ব্যবসায়ী শেখ করিম বলেন, সব শ্রেণীর ব্যবসায়ী এ বিশেষায়িত মাছের বাজারে স্থান বরাদ্দ পায়নি। বড় ব্যবসায়ীরা আগেভাগে দুই থেকে চারটি স্থান বরাদ্দ নিয়েছে। এরপর তারা তা বেশি মূল্যে ভাড়া দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সাধারণ আড়তে ব্যবসা করতে আমার প্রতিদিন ভিট ভাড়া আসে ৩০০ টাকা। তবে সরকারের বিশেষায়িত মাছ আড়তে ব্যবসা করতে গেলে অনেক বেশি খরচ হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (ক্রয়) একেএম নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা কয়েক দফায় পত্রিকায় টেন্ডার আহ্বান করেছি। যে বা যারা আগে দরপত্র জমা দিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে স্থান বরাদ্দ পেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অনেকেই স্থান বরাদ্দ পায়নি।

তিনি বলেন, যারা ইতিমধ্যে স্থান বরাদ্দ নিয়েছেন এবং বেশি টাকায় ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করছেন এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) পরিচালনায় যাত্রাবাড়ীতে ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি বিশেষায়িত মাছের বাজারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে মৎস্য বিপণন সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘ঢাকা মহানগর মৎস্য বিপণন সুবিধা কেন্দ্র’ নামক ছয়তলাবিশিষ্ট এ মৎস্য মার্কেটে আড়ত সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে বেজমেন্টে রয়েছে ২৩টি। নিচতলায় ১৮টি। প্রথমতলায় ২০টি; যা সম্পূর্ণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এখানেই মূলত আড়তদাররা মাছ বেচাকেনা করবে। এছাড়া দ্বিতীয়তালা, তিনতলা ও চারতলায় রয়েছে ১৩২টি গদিঘর। যার মধ্যে ভবনের দ্বিতীয়তলায় ৩৬, তৃতীয়তলায় ৩২, চতুর্থতলায় ২৮ ও পঞ্চমতলায় ৩৬টি গদিঘর রয়েছে। সেখানেও প্রায় অনেকাংশে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মৎস্য অবতরণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণন পদ্ধতির আধুনিকায়নই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। কেন্দ্রটিতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে মৎস্য অবতরণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণনকার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যাতে ঢাকা মহানগরে ফরমালিনমুক্ত মাছ সরবরাহ সম্ভবপর হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বিএফডিসি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অব্যবহত ১৫ শতক জমি ক্রয় করে এ মৎস্য বাজার নির্মাণ করা হয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের সুবিধার্থে ভবনে একটি ব্যাংক এবং একটি খাবার হোটেলও স্থাপন করা হয়েছে। আর এখানে মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বছরে ৮০ লাখ টাকা ভাড়াবাবদ আয় হবে। অবশিষ্ট আড়তঘর ও গদিঘর বরাদ্দ প্রদান করা হলে বার্ষিক ২ কোটি টাকা ভাড়া পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। ভবনের নিচতলার ভাড়া হচ্ছে প্রতি বর্গফুট ৬ টাকা। বেজমেন্ট ও দ্বিতীয়তালা প্রতি বর্গফুট ৫ টাকা। গদিঘরগুলোর ভাড়া দ্বিতীয় থেকে ছয়তলা পর্যন্ত প্রতি বর্গফুট ৩ টাকা।

নূর মোহাম্মদ বলেন, ২০১২ সালে একটি ভাড়া নির্ধারণ কমিটির মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কমিটির মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের একজন প্রতিনিধি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। রাজধানীতে বাসাবাড়ি ভাড়া কমিটির প্রতিনিধি। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন প্রতিনিধি ও মৎস্য অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি রয়েছে; যারা আলোচনার মাধ্যমে এ বাজারের স্থানের ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।

Bootstrap Image Preview