Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, অক্টোবার ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিমান 'হারিয়ে' সংকটে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:০৭ PM
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:০৭ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বিমান 'হারিয়ে' ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কারণ ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজগুলোও চলে যাচ্ছে খুব শিগগির। এ সুযোগে বাজার দখল করছে আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো।

জানা যায়, উড়োজাহাজের অভাবে বিভিন্ন রুট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে চাহিদা সত্ত্বেও বাড়ছে না ফ্লাইটের সংখ্যা। উপরন্তু ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্য খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে ভাড়ায় আনা দুটি ড্যাশ উড়োজাহাজের প্রতিটির জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ ছাড়াই শুধু মাসিক ভাড়া বাবদ ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার। এ পরিস্থিতিতে কানাডার বোমবারডিয়ার ইনক ডট লিমিটেড থেকে ৩টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এনজি টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ৭০-৮০ আসনের এ উড়োজাহাজ কেনা হলে বাড়তি ব্যয়ের সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে আপাতত ৩টি টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে জিটুজি ভিত্তিতে। কানাডা থেকে এগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে অর্থনীতিসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। নতুন করে উড়োজাহাজ কেনার কার্যাদেশ দিলেও এগুলো সরবরাহে সময় লাগে কয়েক বছর।

বিমান সূত্রমতে, জিটুজি পদ্ধতিতে ৩টি ড্যাশ এয়ারক্রাফট কেনার বিষয়টি ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর অনুমোদন দিয়েছে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। এর পর অগ্রগতি হচ্ছে, তবে ধীরে ধীরে। ড্যাশ টার্বোপ্রপ জাহাজ সরবরাহে এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে কানাডার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিসিসি-কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন।

তাই বাংলাদেশ সরকার ও কানাডার পক্ষে সিসিসির মাধ্যমে জিটুজি পদ্ধতিতে ৩টি এয়ারক্রাফট কেনার ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি উড়োজাহাজ ক্রয়ের যৌক্তিকতা ও বিমানবহরের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে বিমান কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়, টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ কেনা হলে ভাড়ায় বিমানের ব্যয়ের সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিমান বা দেশীয় সম্পদের উন্নয়ন হবে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, জিটুজি পদ্ধতিতে এ উড়োজাহাজ কেনায় কানাডা সরকারের প্রতিষ্ঠান এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডা (ইডিসি) বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। পরে যাতে ক্রয়-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে না পারে, তাই যাচাই এবং অর্থ বিভাগসহ অন্য মন্ত্রণালয়-সংস্থার মতামতকে দেওয়া হচ্ছে প্রাধান্য।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, যাত্রী চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বাড়াতে ৩টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যাত্রীসেবা বাড়বে। এতে কমবে ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজের ওপর নির্ভরতা। জাতীয় সংস্থা বিমানে বর্তমানে ১৩টি উড়োজাহাজ আছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ২টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর, ১টি এয়ারবাস ৩৩০-২০০ এবং ২টি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এই ৬টি উড়োজাহাজ নিজস্ব; বাকি ৭টি ভাড়ায় আনা।

'ভাড়ায় পরিচালিত ২টি ড্যাশ-কিউ৪০০ উড়োজাহাজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার অভ্যন্তরীণ রুটে এবং ঢাকা, কলকাতা, কাঠমান্ডু ও ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক রুটে চলছে। কিন্তু ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজের মধ্যে ১টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর আগামী বছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া আরেকটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর একই বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহে বিমানবহর থেকে বিদায় নিচ্ছে।'

'এ ছাড়া ১টি এয়ারবাস ৩৩০-২০০ আগামী ফেব্রুয়ারিতে বহর থেকে সরানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয় ২টি ড্যাশ এয়ারক্রাফট ২০২০ সালের এপ্রিলে এবং ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ফেরত চলে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় উড়োজাহাজের ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে।'

Bootstrap Image Preview