Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিমানবন্দরের টয়লেটে ধরা পড়ল ‘স্বর্ণমানব’ মোশারফ!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ০৫:৩৪ PM আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ০৫:৩৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ ভোরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অবতরণ করেন স্বর্ণমানব’ মোশারফ! বিমানবন্দরে মোশারফের হাঁটাচলা দেখে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা সন্দেহ করে। একপর্যায়ে তাকে শুল্ক কর্মকর্তারা চ্যালেঞ্জ করেন এবং উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করান। এক্স-রের রিপোর্টে শুল্ক গোয়েন্দাদের সন্দেহ সত্যি রুপ নেয়।তারপর কর্মকর্তাদের সামনেই টয়লেটে বসে পায়ুপথ দিয়ে বের করেন সাতটি সোনার বার এবং তার মানিব্যাগ থেকে আরো একটি বার উদ্ধার করা হয়।

এভাবে সোনা বহন করায় শুল্ক গোয়েন্দারা মোশারফের নাম দিয়েছেন ‘স্বর্ণমানব’। মোশারফ হোসেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগ তাদের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছে, মোশারফের চোখে কালো দাগ ও হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে শুল্ক গোয়েন্দারা তাকে সন্দেহ করে। কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গ্রিন চ্যানেল পেরিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দার দল। মোশারফকে শুল্ক গোয়েন্দার অফিস কক্ষে এনে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।তবে মোশারফ কোনোভাবেই তাঁর পেটে সোনা থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না।এদিকে, মোশারফের শরীরে সোনা থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ায় কর্মকর্তারা অনমনীয় থাকেন। পরে আর্চওয়ে মেশিনে হাঁটিয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে মোশারফকে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়। ওই এক্স-রে প্রতিবেদনে তাঁর তলপেটে সোনার অস্তিত্ব সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হয় শুল্ক গোয়েন্দার দল। ওই ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসকও তা উল্লেখ করেন।

এরপর মোশারফকে বিমানবন্দর এনে মোশারফকে কলা ও প্যাকেট জুস খেতে দেওয়া হয়। লুঙ্গি পরে শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে সাতটি সোনার বার বের করে আনেন এবং পরে তাঁর মানিব্যাগ থেকে আরো একটিসহ মোট আটটি সোনার বার পাওয়া যায়।

জানা যায়, বিমানে থাকা অবস্থাতেই টয়লেটে গিয়ে এসব সোনা রেক্টামে প্রবেশ করান মোশারফ। শুল্ক গোয়েন্দাদের নজরদারির হাত থেকে বাঁচার জন্য এই পদ্ধতি গ্রহণ করেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক হওয়া সোনা কাস্টমস গুদামে জমা করা হবে। পরে তা বিশেষ পাহারায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে।আটক মোশারফ হোসেনকে চোরাচালানের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পাসপোর্ট পরীক্ষায় দেখা যায়, চলতি বছর মোশাররফ ৫০ বার কুয়ালালামপুর ভ্রমণ করেছেন। তবে প্রতিবার সোনা বহন করেছিলেন কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।

Bootstrap Image Preview