Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৫ শনিবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো অভিযান 'অপারেশন টোয়ালাইট' সমাপ্ত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০১৭, ১০:২৩ PM
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০১৭, ১০:২৩ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

অবশেষে সিলেটের জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে চলমান জঙ্গি বিরোধী অভিযান অপারেশন টোয়ালাইট এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত আটটায় সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযানের অানুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন সেনা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

সিলেট মহানগরের শিববাড়ির ‘জঙ্গি আস্তানা’ আতিয়া মহলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমান্ডোরা অভিযান চালায়, বলে জানিয়েছেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনার আলোকে সেনাবাহিনী অপারেশন পরিকল্পনা করে। অপারেশনে মূলত দু’টি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রথমত ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া ও জঙ্গিদের নির্মূল করা।

সেনাবাহিনী সোমবারই জঙ্গিদের দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় উল্লেখ করে ফখরুল আহসান আরও বলেন, সোমবারের মধ্যেই জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করতে সমর্থ হয় ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ এ অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা। তবে আতিয়া মহল জুড়ে জঙ্গিরা বিস্ফোরক পেতে রাখায় পুরো ভবনটিই ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সোমবার অভিযানের পর থেকে মঙ্গলবার সারাদিন ভবনটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক ও বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত করে মঙ্গলবার বিকেলে তা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়া হয়।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আরও বলেন, দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অপারেশন টোয়ালাইটের প্রথম পর্বটি ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কমান্ডোরা জীবন বাজি রেখে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ২৫ মার্চ দুপুরের মধ্যে নারী-শিশুসহ ওই ভবনের বাসিন্দা ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পুরো ভবনের পাঁচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ অত্যন্ত সন্তর্পনে করা হয়। নিচতলার উদ্ধার অভিযান ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে কমান্ডো সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অভিনব পন্থা অবলম্বন করে সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল আরও বলেন, অভিযানের দ্বিতীয় পর্বে জঙ্গিদের নির্মূলের কাজ শুরু হয়। এ পর্বে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের পাশাপাশি স্নাইপার দলসহ বিশেষায়িত অনেক সদস্য নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। তিন দিন বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে সোমবার বিকেলের মধ্যেই চার জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়।

তিনি বলেন, গত ২৪ মার্চ রাত দেড়টার দিকে পুলিশ সদস্যরা সিলেটের শিববাড়ির পাঠানপাড়া সড়কের পাশের আতিয়া মহলটি ঘিরে ফেলে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে তারা নিশ্চিত হন আতিয়া মহলের নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে। পুলিশ সদস্যরা তখন আতিয়া মহলের নিচতলার ছয়টি কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় এবং ভবনের মূল প্রবেশ পথের কলাপসিবল গেইটে তালা লাগিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। তখন জঙ্গিদের দক্ষতা ও আটাশটি পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াতের সহায়তা কামনা করে সিলেট পুলিশ।

এর মধ্যে জঙ্গিরা তাদের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে বের হয়ে ভবনের মূল ফটকে বিশাল আকৃতির বিস্ফোরক স্থাপন করে। এমনকি একটি ফ্রিজ ও মোটরসাইকেলে বিস্ফোরক লাগিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরক স্থাপন করে পুরো ভবনটিকে অতিমাত্রায় বিপদজনক করে ফেলে, বলেও জানান তিনি।

Bootstrap Image Preview