Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২২ বৃহস্পতিবার, নভেম্বার ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

যে কারণে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করতে পারেনি সেনাবাহিনী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০১৭, ০৯:৪৩ PM
আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৭, ০৯:৪৩ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সিলেটের শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভেতরে অবস্থানরত চার জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, এখনই আমারা অভিযান শেষ করছি না। ভেতর থেকে দুই জনের লাশ বের করা হয়েছে। চার জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী। তবে তারা কখন মারা গেছে, এর ঠিক সময় বলা কঠিন।

সোমবার সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে অভিযানস্থলের কাছে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান অভিযান পরিচালনাকারী সেনা কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

তিনি আরো জানান, দুজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী, একজন পুরুষ। শরীরে বোমা থাকায় অন্য দুজনের লাশ এখনি বের করা হচ্ছে না।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান, ওই ভবনে আর কেউ জীবিত নেই। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বিস্ফোরক থাকায় অভিযান চলবে।

ফখরুল আহসান বলেন, ভেতর থেকে তারা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা সুইসাইডাল ভেস্ট পরা ছিল। পুরো বাড়ি কমান্ডোরা তল্লাশি করে দেখেছেন। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, নিহতরা কারা, এটা পুলিশ-র‌্যাব পরে বুঝতে পারবে। পুরো ভবন তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও করা হবে।

পুরো ভবনটা যে অবস্থায় আছে সেটা বেশ ঝুকিপূর্ণ উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। যে চারজন এখানে ছিল, তারা বেশ ভালো প্রশিক্ষিত। তাদের খুঁজে বের করে মারা হয়েছে। এটা কিন্তু বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য একটা বড় সফলতা বলে মনে করি। আমাদের অভিযান এখনও চলমান আছে। আরও হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখান থেকে যখন সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, তখন আমরা স্থানটা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব। নিহতদের মধ্যে শীর্ষ কোনও জঙ্গি আছে কিনা, জানতে চাইলে বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সেটা র‌্যাব বা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারবে। আমরা ভেতর থেকে ডেড বডি নিয়ে এসেছি। আস্তানা থেকে তারা কেউ বের হতে পারেনি। অপারেশন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা নিহত হয়েছে। তবে, তারা কখন নিহতে হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে তার সময় বলা যাচ্ছে না।

বিস্ফোরণের পর আগুন লেগেছিল বলে মনে হয়েছে। ধোঁয়া দেখা গেছে। এটা আসলে কী ধরণের বিস্ফোরণ ছিল?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জঙ্গিরা। তারই একটি বড় শব্দ হয়েছে।

আগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে গ্রেনেড চার্জ করা হয়েছে, ফায়ার করা হয়েছে। টিয়ার গ্যাস ফায়ার করেছি। এর ভেতরে বাসিন্দাদের ব্যবহৃত কাঁথা-বালিশসহ কাপড়চোপড় ছিল। সেজন্য ধোঁয়া দেখা যেতে পারে। আগুন লাগলে সেটা আরও বিপজ্জনক হতো। সেজন্য সঙ্গে-সঙ্গে আমরা নিভিয়ে ফেলেছি। পুরো ভবন আমরা মোটামুটি তল্লাশি করেছি। প্রয়োজন হলে আরও করব।

জঙ্গিদের শক্তিমত্তার ধারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফখরুল আহসান বলেন, প্রথম দিনের ঘটনা। বাড়িটির কলাপসিবল গেটের সামনে একটি বড় বালতির মধ্যে বিস্ফোরক ছিল। ওটা যখন ডেটোনেট করেছে তখন পুরো কলাপসিবল গেটটা উড়ে এসে পাশের বিল্ডিংয়ে পড়েছে। ওখানে আমাদের তিন চারজন সদস্য ছিলেন, তারা ছিটকে গেছেন। পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠেছে। এ রকম এক্সপ্লোসিভ তো ভেতরে আরও থাকতে পারে। অভিযানের কোনও ছবি আজ দিতে পারবেন না বলে জানান তিনি। জঙ্গিদের সর্বশেষ প্রতিরোধ কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এক্সপ্লোসিভ ফাটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, স্মল আর্মস ব্যবহার করেছে। তাদের যা ছিল সব ব্যবহার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনও সদস্য কেউ আহত হয়নি, কোনও ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ি এলাকায় ‘আতিয়া মহল’-এর নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াতকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ধ্যা থেকে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল। পরদিন তারা ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনে।

Bootstrap Image Preview