Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৬ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

রমজানের আগেই বেগুনে সেঞ্চুরি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৮, ০৪:০৫ PM আপডেট: ১৬ মে ২০১৮, ০৪:০৫ PM

bdmorning Image Preview


রায়হান শোভন।।

রোজায় কিছু কিছু নিত্যপণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বাজারে সরবারাহ কম এই অজুহাতে রাজধানীতে বেড়েই চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।রোজায় অধিক ব্যবহৃত বেগুনের দাম সরবারাহ থাকার পরও কোনো কারন ছাড়াই বেগুনের দাম ৫০ টাকা বেড়ে হাকিয়েছে সেঞ্চুরি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় এবং আগামীকাল থেকে রমজান উপলক্ষে বাজারে সবরকম সবজির চাহিদা বেশি কিন্তু সে অনুযায়ি বাজারে সবরমকম সবজি ও নিত্যপ্রয়জনীয় দ্রব্যের জোগান নাই তাই দাম কিছুটা দাম বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন বাজারে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি বেগুন। যা গত এক সপ্তাহ আগে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

কারন জানতে চাইলে কারোয়ানবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আলামিন বিডিমর্নিংকে বলেন, প্রত্যেক বছরই রোজার আগে বেগুনের দাম বাড়ে। কারন রোজার সময় বেগুনের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে কিন্তু সে অনুযায়ি বাজারে বেগুনের সরবারাহ না থাকায় দাম বেড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।পটলের দাম আগের সপ্তাহের মত ৬০ টাকাই আছে। প্রতি কেজি কাঁচা আমা ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, পেঁয়াজ(দেশি) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, পেপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, কহি ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা।

পবিত্র রমজান মাসে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেনাবেচার চাপ তৈরি হওয়ার পরই চিনির দর কেজিপ্রতি ৫ টাকা, পেঁয়াজ ১০-১৫ টাকা, রসুন ২০ টাকা ও আদার দর ২০ টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক বাজার দর কমে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতাদের মূল্যছাড় দিয়েছে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। কিন্তু ক্রেতাদের তাতে কোনো লাভ হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে লবণের ক্ষেত্রেও। ছোলার দর গত বছরের চেয়ে কম। কিন্তু পণ্যটির যে দর হওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি পাইকারি ব্যবসায়ীদের।

আসন্ন রমজান মাসে ৭০ টাকা কেজি দরে ছোলা বিক্রি করবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ছোলার পাশাপাশি চিনি, ভোজ্য তেল, মসুর ডাল ও খেজুর বিক্রি করবে সংস্থাটি। আগামী রোববার থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় মিলবে টিসিবির পণ্য।

ভোক্তাদের দুর্ভোগ কিছুতা লাগব করতে টিসিবি  বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, টিসিবির পরিবেশকেরা প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, প্রতি কেজি দেশি চিনি ৫৫ টাকা, মশুর ডাল (মাঝারি) ৫৫ টাকা ও খেজুর ১২০ টাকা দরে বিক্রি করবে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহের পাঁচ দিন নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য মিলবে। একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, চার কেজি মশুর ডাল, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল, পাঁচ কেজি ছোলা ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় ৩২টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পাঁচটি করে এবং বাকি জেলা সদরগুলোতে দুটি করে স্থানে ট্রাকে যোগে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া সংস্থাটির নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ও ২ হাজার ৭৮৪ জন পরিবেশকের কাছ থেকেও ভোক্তারা পণ্য কিনতে পারবেন। টিসিবি পরিবেশকদের প্রতিদিন প্রতি ট্রাকে বিক্রির জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি চিনি, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা এবং ৩০ থেকে ৫০ কেজি খেজুর বরাদ্দ করবে।

ঢাকায় সচিবালয়ের গেট, প্রেসক্লাব, কাপ্তান বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সায়েন্স ল্যাব মোড়, নিউমার্কেট/নীলক্ষেত মোড়, শ্যামলী/কল্যাণপুর, জিগাতলা মোড়, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কচুক্ষেত, আগারগাঁও, তালতলা ও নির্বাচন কমিশন অফিস, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, উত্তরা, মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোড, শান্তিনগর বাজার, মালিবাগ বাজার, বাসাবো বাজার, আইডিয়াল স্কুল, বনশ্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বর, মহাখালী কাঁচাবাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, শাহজাহানপুর বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও আইডিয়াল জোন, মতিঝিল বক চত্বর, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর, আশকোনা হাজিক্যাম্প, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির পণ্য মিলবে।

শাকিল নামের এক ক্রেতা বিডিমর্নিংকে বলেন, প্রত্যেকবার রমজানকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ে। প্রত্যেকবার সরকার কিছু না কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য। কিন্তু কথা হচ্ছে সেটা কতটুকু কার্যকর হয়। সরকারের পাশাপআশা আমাদেরও সচেতন হতে হবে। তাহলে ভালো কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে।

সাম্মি আরা বেগম নামের এক ক্রেতা বিডিমর্নিংকে বলেন, কারন ছাড়াই দাম বারছে নিত্যপ্রয়োজনীর দ্রব্যের। দাম বাড়লে আর কি করার দাম বাড়লেও আমাদের খেতে হবে আর কমলেও আমাদের খেতে হবে। না খেয়েতো আর থাকা যাবে না।

Bootstrap Image Preview