Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাড়ছে রডের দাম, হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় আবাসন খাত

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৫১ AM
আপডেট: ৩০ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৫১ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক:

এক মাসের ব্যবধানে টন প্রতি বিভিন্ন মানের রডের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এতে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে আবাসন খাত। বিক্রি কমেছে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও। কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ ও ডলারে দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যাকে দুষছেন মিল মালিকরা।

এদিকে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মনিটরিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে দেশের শীর্ষ স্টিল মিলসগুলো প্রতিদিন প্রায় শত টনেরও বেশি রড উৎপাদন করছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে কয়েক ধাপে বেড়েছে বিভিন্ন মানের রডের দাম।

এক মাসেরও কম সময়ে প্রতি টন রডের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। কাঁচামালের সাথে এ বছর ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ মিল মালিক ও সংগঠন জানায় নানা সমস্যার কথা।

বিএআরএসএমএ'র সভাপতি মনোয়ার হোসেন বলেন, কোয়ালিটি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না তারওপর এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। বিদ্যুৎ গেলে ফ্যাক্টরি ভেদে বার থেকে ষাট হাজার টাকা করে নেট লোকসান হয়ে যাচ্ছে।

বিএআরএসএমএ'র সাবেক সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, আগে যেখানে একটা গাড়ি ২০ থেকে ২২ টন মাল বহন করতো সে এখন ১০ টনের বেশি বহন করতে পারবে না। এইভাবে প্রায় দশ হাজার টাকা প্রাইজ কস্ট বেড়ে গেছে আমাদের।

ব্যক্তি বা আবাসন শিল্পে বড় একটি অংশ ব্যয় হয় রড ব্যবহারে। কিন্তু যখন তখন দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বাড়বে বলে অভিযোগ রিহ্যাবের। কয়েক বছর ধরে থমকে থাকা আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই হোঁচট খাচ্ছে বলে মনে করেন আবাসন নেতৃবৃন্দ।

রিহ্যাবের পরিচালক প্রকৌশলী মাসুদা সিদ্দিক রোজী বলেন, একটা কনস্ট্রাকশনে রডের জন্য টাকা বেশি যায়। আর রডের দাম যদি এভাবে দিনে দিনে বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের কনস্ট্রাকশন একেবারে স্থবির হয়ে যাবে। আমার মনে হয় সরকারের এটা একটু দেখা উচিৎ।

খুচরা বাজারেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাক্তি ও বেসরকারি খাতে শুধু নয়, সরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নেও প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতি গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে তারচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে। এটার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোন ব্যবসায়ী এটার দাম আরও বেশি নিচ্ছেন কিনা সেই মনিটরিংটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের করার জায়গা আছে।

পণের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে অতি লাভের সুযোগ নেন মালিকরা। আর দাম বাড়াতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে আর কারো ক্ষতি না হলেও বলির পাঠা হন ভোক্তারাই। বিষয়টি নজরদারির পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

Bootstrap Image Preview