Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ শনিবার, অক্টোবার ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

২৫টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোক্তারা পেল ২২ হাজার টাকা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:৫১ PM
আপডেট: ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:০৬ PM

bdmorning Image Preview


রায়হান শোভন।।

পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২৩ দিনে ২৫ প্রতিষ্ঠানকে ২৫টি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই লাখ ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে  জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।১৪টি অভিযানের মাধ্যমে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এসব জরিমানা করা হয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা পুরষ্কার হিসেবে পেয়েছে ২২ হাজার টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে পুরোদমে জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা।আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তদের ফায়দা লুটছেন।কিন্তু বসে নেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মেলায় যেকোনো অভিযোগ পেলে সাথে সাথে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।কিন্তু মোখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও কোনো ভোক্তা যদি অভিযোগ করে তাহলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

জাতীয় ভোক্তা  অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক(গবেষোনাগার) প্রনব কুমার প্রামানিক বিডিমর্নিংকে বলেন,আমারা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। কোনো গ্রাহক এসে লিখিত অভিযোগ অথবা ভিডিও ধারণ করে অভিযোগ করলেও আমারা তা সাথে সাথে খতিয়ে দেখছি।আবার অভিযোগ প্রমাণ হলে জরিমানার ২৫ শতাংশ পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছেন অভিযোগকারীরা।

 ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সামস ক্যাফেকে নির্ধারিতের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রির দায়ে ২০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে একই অপরাধে ১০ হাজার, নোহা সার্ভিসিং কোম্পানিকে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাকে প্রতারিত করায় ২০ হাজার, সমতা ট্রেডার্সকে একই অপরাধে ২০ হাজার, পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় মিঠাইকে ২০ হাজার ও নিউ ফ্যামিলি ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, হাজির বিরিয়ানিকে ১০ হাজার টাকা,ক্যাফে সামসকে ২০ হাজার টাকা, শারমিন ইলেট্রনিক্সকে ১০ হাজার টাকা, দিল্লি শর্মাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৪০ ধারা অনুযায়ী,কোন ব্যক্তি কোন আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে কোন পণ্য, ঔষধ বা সেবা বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৪৪ ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তি কোন পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

শুধুমাত্র দেশি প্রতিষ্ঠানকে যে জরিমানা করা হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়।জরিমানার কবল থেকে বাদ যায়নি বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানও।অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।ইরানি পণ্যের সমাহার ও পাকিস্তানি বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Bootstrap Image Preview