Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২১ শুক্রবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

দেশের আমদানি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন পণ্য

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৪৩ AM আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৪৯ AM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক:

দেশের আমদানি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন পণ্য। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে নতুন জ্বালানি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)। আগামী এপ্রিল থেকে নতুন জ্বালানি আমদানি শুরু হবে বলে জানা যায়।এছাড়া দেশে শুরু হওয়া বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও আমদানি করতে হবে অনেক পণ্য। এসব কারণে বাড়বে বাণিজ্য ঘাটতি। বাড়বে ডলারের চাহিদাও। এর ফলে টাকার সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

বড় প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে ব্যাংকমুখি হতে হবে। ব্যাংক থেকে প্রচুর টাকা ধার নেবে সরকার। আর চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হওয়ায় আগে থেকেই আর্থিক খাতে কিছুটা অস্থিতিশীলতারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, আমানতের সুদহার কমছে। ফলে নতুন করে মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখছে না।

বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। এজন্য সরকারকে ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নেওয়া লাগবে। আর কয়েকমাস পর থেকে আমদানি পণ্যে নতুন পণ্য হিসেবে যুক্ত হচ্ছে এলএনজি। ফলে আমদানি খরচ বাড়বে। এতে ডলারের মূল্য বাড়বে। একইসঙ্গে সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের আমদানি অনেক বেশি হচ্ছে। সে তুলনায় রপ্তানি আয় হচ্ছে না। অন্যদিকে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিও খুব বেশি নয়। কয়েকমাস যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেড়ে যাবে। আর ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদের।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়েও কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। আর জুলাই থেকে ডিসেম্বর— এ ছয় মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাত দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬৯৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসে ৬১৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। একবছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। তবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অর্থাত্ পুরো বছরে আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম রেমিট্যান্স এসেছে। ২০১৬ সালে এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল। আর ২০১৭ সালের পুরো বছরে দেশে এক হাজার ৩৫৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।

পদ্ম-সেতুসহ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থ পরিশোধের কাজ শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পের অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারের অনেক টাকার দরকার হবে। আর সে টাকার সিংহভাগই আসবে ব্যাংক ঋণ থেকে। তাই সরকারের ব্যাংক ঋণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতদিন সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারি ঋণের বড় অংশ আসলেও এখন আসবে ব্যাংকের মাধ্যমে। ফলে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট থাকবে না। উল্টো ব্যাংকগুলোতে টাকার সঙ্কট হতে পারে। কেননা, আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় নতুন করে আমানত আসছে না। বেসরকারি খাতে কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানায় উত্পাদন শুরু হয়েছে। বেজা সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া বেসরকারি ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। দেশে আরও নতুন করে ১৯টি স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে জমি নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এগুলোর কাজ শুরু হলে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় টাকার উপরও চাপ বাড়বে।
Bootstrap Image Preview