Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ মঙ্গলবার, মে ২০২২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ঢাকা, ২৫ °সে

ব্রাজিল-পর্তুগালের মতো দুর্ভাগ্য কাদের

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪২ PM আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪২ PM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


 বেশিরভাগেরই চোখ পড়বে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়ের গ্রুপ ‘এইচ’ এর দিকে। কারও চোখে জার্মানি আর স্পেনের গ্রুপটিও ‘মৃত্যুকূপ’ উপাধি পাওয়ার দাবিদার।

আর সহজ গ্রুপ ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা মুচকি হাসতে পারেন। খুশি হবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, করিম বেনজেমার ফ্রান্সের সমর্থকেরাও।

দোহায় গতকাল ২০২২ বিশ্বকাপের ড্র হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তো এসব বিশ্লেষণ চলছে। কাতারে বিশ্বকাপের এখনো সাত মাসের বেশি বাকি, এখনো তো তিনটি দল চূড়ান্ত হওয়াও বাকি...এসব বিশ্লেষণের তাই আরও অনেক পর্ব বাকি। তবে ড্রয়ের অনুভূতি তাজা থাকার সময়ে বিশ্লেষণ তো চলবেই। তাতে প্রথমেই হয়তো বিবেচনায় আসে, ড্রতে কাদের লাভ হলো, কাদের ক্ষতি?

বড় দলগুলোর কয়েকটিকে নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।

 

ইংল্যান্ড: লাভবান

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে সহজ গ্রুপে পড়ার পর সেমিফাইনালেই উঠে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রতিভায় ঠাসা গ্যারেথ সাউথগেটের দল এবারও তেমন কিছুই করবে? গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের পর সে আশার পালে হাওয়া লাগার কথা। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জন্য একটা বড় হতাশার নাম, হয়তো সবচেয়ে বড় হতাশাই—১৯৫০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিল সে সময়ে ফুটবলে একেবারেই অখ্যাত যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম হলেও এবার বিশ্বকাপে এসেছে বাছাইপর্বে গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে। তিনটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পেত, চতুর্থ দল কোস্টারিকার সমান পয়েন্ট নিয়েও গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে যুক্তরাষ্ট্র জায়গা পেয়েছে দলে। গ্রুপের আরেকটি দল ইরান পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলে কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। চতুর্থ দলটি এখনো নিশ্চিত নয়, সেটি আসবে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ থেকে। জুনে সেই প্লে-অফে ওয়েলসের সঙ্গে খেলবে ইউক্রেন ও স্কটল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল। যে দলই আসুক, ইংল্যান্ডের কপালে ভাঁজ খুব বেশি বড় হওয়ার কথা নয়।

কাতার: দুর্ভাগা

স্বাগতিক হওয়ার কারণেই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে পারছে কাতার, তাতে গ্রুপটা একটু বেশিই কঠিন পড়ে গেল তাদের। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ শুরু, কিন্তু সেই ম্যাচটিই কাতারের জন্য ‘জিততেই হবে’ হয়ে যাচ্ছে! কারণ, পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ও এই মুহুর্তে তর্কসাপেক্ষে আফ্রিকার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল সেনেগাল। আর শেষ ম্যাচ তো কাতার খেলবে লুই ফন গালের অধীনে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে থাকা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

ফ্রান্স: লাভবান

১৯৩৮ বিশ্বকাপের ইতালি আর ১৯৬২ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন ফ্রান্সের। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো প্রতিভাবান, ভারসাম্যপূর্ণ দলও আছে। এমবাপ্পে, বেনজেমা, পগবা, গ্রিজমানদের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে শুয়ামেনি, কামাভিঙ্গাদের মতো উঠতি প্রতিভার দারুণ মিশেল। রক্ষণ, আক্রমণ, মাঝমাঠ—কোনো দিকেই প্রতিভার কমতি নেই।

এমন দলের বিশ্বকাপ স্বপ্নের পথে গ্রুপ পর্বের ড্র কাজটা আরও সহজ করে দিয়েছে। আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে উঠে আসা দলের সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু লে ব্ল-র। যেখানে প্রতিপক্ষ হবে পেরু, সংযুক্ত আরব আমিরাত আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দল। গ্রুপের কঠিন প্রতিপক্ষ বলতে শুধু ডেনমার্কই আছে। এর বাইরে গ্রুপের অন্য দল তিউনিসিয়া।

ব্রাজিল: দুর্ভাগা

২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপে যে তিন দলের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল, এবারও তার দুটি পড়েছে তাদের গ্রুপে। সার্বিয়া আর সুইজারল্যান্ড একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো দলও নয়। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সার্বিয়া নিজেদের গ্রুপে অপরাজিত থেকে সেরা হয়েছে, যে গ্রুপে ছিল পর্তুগাল। আর সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে এসেছে গ্রুপে ইতালিকে পেছনে ফেলে! গ্রুপের অন্য দল ক্যামেরুনও ছেড়ে কথা কইবে না কাউকেই!

তিতের দলকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একেবারে মনোযোগ আর সামর্থের পুরোটা দিয়ে খেলতে হবে।

বেলজিয়াম: লাভবান

এবার তবে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের দলটা কোনো শিরোপা জিতবে? এর পরের ইউরোর সময়ে এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনাদের বয়স হয়ে যাবে ৩৩, এবারের বিশ্বকাপই তাই কিছু করে দেখানোর শেষ সুযোগ। কানাডা, মরক্কো আর ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে গড়া গ্রুপ বেলজিয়ামের সে স্বপ্নকে আরেকটু জোরাল করবে।

পর্তুগাল: দুর্ভাগা

এত কসরত করে নিজের শেষ বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে এলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, এসে এমন গ্রুপে পড়তে হলো! বাছাইপর্বে গ্রুপ পর্বে শুধু সার্বিয়াই যা বলার মতো প্রতিপক্ষ ছিল পর্তুগালের, সেখানে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফ খেলতে হয়েছে রোনালদোদের। প্লে-অফ সামলে বিশ্বকাপে এসে এখন পর্তুগালকে পড়তে হচ্ছে উরুগুয়ে, ঘানা আর দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে। উরুগুয়ে দলের অনেক তারকাই ত্রিশের ডানে চলে এলেও নামে এখনো ভারি। সুয়ারেজ, কাভানিদের সঙ্গে রোনালদোর পাশে তরুণ প্রতিভাবানদের নিয়ে গড়া পর্তুগালের ম্যাচটি আকর্ষণ জাগাবে।

সন হিউং মিনের দক্ষিণ কোরিয়া গত বিশ্বকাপে জার্মানিকে বাড়ি পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে পারে। এই তিন দলই কম নয়, চতুর্থ দল হিসেবে ঘানাও ঢুকে পড়েছে। গ্রুপটাকে এমনি এমনিই তো মৃত্যুকূপ বলা হচ্ছে না!

আর্জেন্টিনা: লাভবান

রোনালদো যেখানে নিজের শেষ বিশ্বকাপে কঠিন এক গ্রুপে পড়েছেন, মেসির আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ গ্রুপই পেয়েছে। মেক্সিকোই পরীক্ষা নিতে পারে তাদের। তবে সেটি আবার চেনা প্রতিপক্ষ। তারওপর দলটার কোচ এখন আর্জেন্টিনাতে মেসিদেরই এক সময়ের কোচ জেরার্দো মার্তিনো। রবার্ট লেভানডফস্কির পোল্যান্ড প্রতিভাবান, কিন্ত বড় মঞ্চে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাজাগানিয়া নয়। আর বাকি থাকে সৌদি আরব, এবার এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ভালো করলেও দলটা মেসিদের সামনে কতটা কী করতে পারে, সংশয় আছে।

স্পেন: দুর্ভাগা

গ্রুপে জার্মানি আছে, এতটুকুই সম্ভবত যেকোনো দলের মাথাব্যথার কারণ হতে যথেষ্ট। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম অবশ্য ২০২০ সালের নভেম্বরে স্পেনের কাছে জার্মানির ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার উদাহরণ টেনে গর্বে বুক ফোলাচ্ছে, কিন্তু তখন জার্মানিতে নিজের দিন গুনছেন জোয়াকিম লো। তাঁর বদলে হান্সি ফ্লিক আসার পর জার্মানির ভয়ংকর গতির দুর্ধর্ষ পাল্টা আক্রমণের ফুটবল যে কোনো দলকেই ভয় দেখাবে।

গ্রুপে জাপানও আছে। এশিয়ান দলটা নিজেদের দিনে যে কারও পরীক্ষা নিতে পারে। অন্য দল আসবে প্লে-অফ থেকে। তবে কোস্টারিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে জয়ী দলকে নিয়ে স্পেন সম্ভবত খুব একটা ভাববে না।

 

Bootstrap Image Preview