Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ০৬ বৃহস্পতিবার, আগষ্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭ | ঢাকা, ২৫ °সে

চীন সীমান্তে যুদ্ধবিমান নিয়ে গিয়েছে সামরিকবাহিনী: সর্বদলীয় বৈঠকে বসেছেন মোদী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২০, ০৭:৩৯ PM আপডেট: ১৯ জুন ২০২০, ০৭:৩৯ PM

bdmorning Image Preview


ভারত-চীন সংঘর্ষের পর গলওয়ান উপত্যকায় এবার যুদ্ধবিমান নামাতে শুরু করেছে ভারতীয় সামরিকবাহিনী। অন্যদিকে  চীনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সর্বদলীয় বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও শিবশেনার প্রধান ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী যাদব থেকারেসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। খবর এনডিটিভির।

খবরে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের আমন্ত্রণের সব দলের সভাপতিকে গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি, লালু যাদবের আরজেডি ও আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম-ও আমন্ত্রণ না পাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদে অন্তত ৫ সদস্য না থাকায় আলোচিত ওই দুই দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, গলওয়ান উপত্যকায় ঠিক কী ঘটেছিল, এখন কী পরিস্থিতি সীমান্তের, কী করতে চাইছে সরকার— এই সব বিষয়ই দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে আজকের ওই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, ধারণা রাজনৈতিক শিবিরের। যে সংঘাত শুরু হয়েছে সীমান্তে, তা নিয়ে ঠিক কী অবস্থান নিতে চলেছে ভারত, সেটা অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে এই বৈঠকের পরে।

দেশের সীমান্তে যখন বিপজ্জনক সঙ্ঘাতের পরিস্থিতি, তখন প্রধানমন্ত্রীর সর্বদল বৈঠকে এই দলগুলিকে কেন ডাকা হল না? এখানেও কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাওয়া হল? এমন প্রশ্ন তোলা শুরু হয়েছে ওই দলগুলির তরফে। কিন্তু সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যে মাপকাঠির ভিত্তিতে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দলকে, আরজেডি, আপ বা এআইএমআইএম সেই মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারছে না।

দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া দু'দিনের ঝটিকা সফরে লে ও শ্রীনগরের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি পরিদর্শন করার পরই এ তৎপরতা শুরু হয়।

এদিকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বিমানবাহিনীকে। যে কোনও রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফরওয়ার্ড বিমানঘাঁটিগুলিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ভারতীয় সামরিকবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

সোমবার রাতে গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনা সংঘর্ষে ভারতের দিকে এক কর্নেলসহ ভারতের ২০ সেনা সদস্য নিহত হন। তারপর থেকেই গলওয়ান উপত্যকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতের ওই সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায় একদিন পর। প্রথমে ভারতীয় সেনার এক কর্নেল এবং দুই জওয়ানের মৃত্যুর খবর জানা গেলেও পরে আরও ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া যায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, ভারতের দিকে কয়েক কিলোমিটার ঢুকে এসে অস্থায়ীভাবে আস্তানা গেড়েছে চীনের সেনা। সোমবার রাতের সংঘর্ষের পর দু'দেশের মধ্যে একাধিক বার মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাতেও চীনা বাহিনী ওই এলাকা ছাড়তে নারাজ। সেনা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বৈঠকের মাধ্যমে সেই সংকট কাটানোর চেষ্টা যেমন চলছে, একইভাবে সামরিক প্রস্তুতিও চলছে জোরালোভাবে।

মঙ্গলবার দিনভর টান টান উত্তেজনার পর বুধবার সকালেই লেহ বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে পরিদর্শনে যান বিমানবাহিনী প্রধান আর এক এস ভাদুরিয়া। সেখানে প্রায় সারা দিন

গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে আসেন। তার পর বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের ঘাঁটিতেও একইভাবে পরিদর্শন করেন তিনি। গোটা ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন।

Bootstrap Image Preview