Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ সোমবার, অক্টোবার ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ | ঢাকা, ২৫ °সে

চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা ঝুলালেন এসআই

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫০ PM আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫০ PM

bdmorning Image Preview


টাকা চাঁদা না পেয়ে পাবনার আমিনপুর থানার এক উপপরিদর্শক এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলিয়েছেন।

অভিযুক্ত ওই এসআই হলেন ইউসুফ। তার ভয়ে গ্রাম ছাড়া ভুক্তভোগী মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সী।

রফিকুল ইসলাম মুন্সী বলেন, আমিনপুর থানা পুলিশের কর্মরত এসআই ইউসুফ এলাকায় টাইগার ইউসুফ নামে পরিচিত। টাইগার ইউসুফের রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। টাইগার ইউসুফ এবং তার বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকতে হয় এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে।

কখনো মিথ্যা মামলায় আবার কখনো থানায় আটকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এসআই টাইগার ইউসুফ এবং তার বাহিনী।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে তার কাছে আমিনপুর থানার মুন্সী কামরুলের মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এসআই ইউসুফ। সেসময় কামরুল জানিয়েছিল যে, তোমার তো ব্যবসা বাণিজ্য ভালোই চলছে। তাহলে আমাদের কিছু দাও।

মুন্সী তখন জানায়, টাইগারের দুই লাখ এবং আমার ৬০ হাজার টাকা না দিলে ব্যবসায় করতে পারবে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে সে যাত্রায় রক্ষা পেলেও সম্প্রতি আবারও পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন আমিনপুর থানা এসআই ইউসুফ ওরফে টাইগার ইউসুফ।

দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ২ সেপ্টেম্বর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। দোকানে থাকা আমার বাবাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এসআই ইউসুফ।

রফিকুল ইসলাম মুন্সীর বাবা ধনি মুন্সী বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এসআই ইউসুফ আমাকে জোর করে দোকান থেকে বের করে নিজ হাতে তালা লাগিয়ে দেন। কারণ জানতে চাইলে এসআই ইউসুফ আমার ছেলে রফিকুল ইসলাম মুন্সীকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। যাওয়ার সময় তিনি হুমকি দিয়ে যান- টাকা না দিলে স্থায়ীভাবে দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে।

আমিনপুর বাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সেলিম মিয়া বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য একজন ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারেন না। যদি সেই দোকানে অবৈধ কিছু থাকে তবে একজন ম্যাজিস্ট্রেট, বাজার কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তা করতে হয়। আর রফিকুলের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ থাকলে বাজার কমিটি এতদিন অবশ্যই ব্যবস্থা নিতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দোকানি বলেন, রফিকুলের কাছে চাঁদা দাবির কথা এলাকার সবাই জানলেও এসআই ইউসুফের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে এসআই ইউসুফ যা করেছে তা অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

এদিকে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সী জানান, টাইগার ইউসুফের চাঁদা দাবিসহ দোকান বন্ধ করে দেয়ার প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, পাবনার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাইগার ইউসুফের বাহিনীর সদস্যরা তাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছে যে, টাইগারের কিছু হলে তোর লাশ পড়বে। এজন্য থানা থেকে ওসি সাহেব তাকে দোকান খোলার জন্য আহ্বান জানালেও তিনি টাইগারের বাহিনীর ভয়ে এলাকায় যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।

রফিকুলের আবেদন পাওয়ার পর পাবনার পুলিশ সুপার বৃহস্পতিবার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) ফরহাদ হোসেনকে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে আমিনপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. মইনুদ্দিন বলেন, বিষয়টি সহকারী পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন তদন্ত করছেন।

পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) ফরহাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এলাকায় আব্দুল গণি মন্ডল নামক প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে রফিকুলের। এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের ভার দেয়া হয় এসআই ইউসুফের ওপর।

ইউসুফ বিষয়টি মীমাংসার জন্য রফিকুলের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্ত এখন রফিকুল এসআইয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এজন্য রফিকুলকে আসতে হবে বা তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে। কিন্ত রফিকুল দোকানও খুলছেন না,আমাদের সঙ্গে কথাও বলছেননা।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী রফিকুল রফিকুল ইসলাম মুন্সী বলেন, গণি মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের আগেই টাইগার ইউসুফ তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। সেসময় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনায় আমি বেঁচে যাই।

কিন্ত ওই ঘটনার পর গণি মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে আমার বিরোধ শুরু হয়। এখন এসআই ইউসুফ এটিকে পুঁজি করে বলছেন, তখন আমাকে অপমান করেছিলি, এখন তোকে দেখে নিব। পাঁচ লাখ টাকা না হলে দোকান বন্ধ থাকবে। কাজেই জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

Bootstrap Image Preview