Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ সোমবার, ডিসেম্বার ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘আল- আমিনকে দেখার কেউ নেই’

মোঃ মেজবা উদ্দীন মিলন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৪৪ PM আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৩ PM

bdmorning Image Preview


অন্যায় হলো সেটা যা জেনে বুঝে শুনে কেউ করে থাকে।আর ভুল হলো না জেনে না বুঝে করা।একটা কথা আছে কেউ যদি ভুল করে আর সেই ভুল যদি সে বুঝতে পারে তাহলে তাকে ক্ষমা করে সুযোগ দেয়া উচিত।আর অন্যায় করলে তাঁর শাস্তি পেতেই হবে।তবে সেই শাস্তির শেষ আছে।যদি তাই হয় তাহলে জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলার আল-আমিন হোসেন কোন পাপের সাজা পাচ্ছেন? গত আড়াই বছর ধরে কোন পাপে পুড়ছেন?   

যদি আল-আমিন ভুল করে থাকেন তাহলে তাকে ভুল শুধরানোর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো।কিন্তু কোন সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না।উল্টো আরো দোষের বুঝা ঘাড়ে দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

যদি অন্যায় করে থাকেন তাহলে সেই অন্যায়ের সাজা এতো বড় হতে পারে না।পারে না তাঁর প্রতি এতো নির্মম হতে।জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই বড় বড় সাজা ভোগ করে আবার দলে ফিরছেন অনায়াসে।

কিন্তু কি দোষ আল-আমিনের?কি এমন করেছেন?যার জন্য তাকে এতো দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।জাতীয় দলের কথা বাদই দিলাম। দেশের মাটিতে সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও তাকে দলে রাখা হয়নি। যদিও এই প্রস্তুতি ম্যাচ গুলো খেলার দাবি রাখেন এই ডান-হাতি পেসার।

এই সব কথা শুনে অনেকেই আবার বলতে পারেন আল-আমিনের পারফম্যান্স কই? সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় লিগে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। তাঁর বোলিং অ্যাকশানেও এসেছে অনেক পরিবর্তন।ছিলেন এইচপির ক্যাম্পেও। সেখানেও বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন।সেই সময় এইচপি ক্যাম্পের কোচ জাফরুল এহসান আল আমিনের প্রসঙ্গে বলেছিলেন,আল-আমিন ভালো কন্ডিশনে আছে। তাঁর কোনও ইনজুরি নেই। আর যে সমস্যাটা তাঁর ছিলো, কিছু চাকিংয়ের সমস্যা ছিলো সেগুলো সে ওভারকাম করেছে। এখন ভালো জায়গায় সে বল করছে।'

হুট করে একটা খেলোয়াড়কে জাতীয় দল থেকে সরিয়ে দিলে তখন আর কিছুই করা থাকে না।কারণ ছাড়াই অকারণে যখন এতো বড় শাস্তি তখন সেটা মাথা পেতে নিয়েছেন তিনি। 

আল-আমিনকে যেন গভীর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যার নেই কোন কূল, কিনারা।অসহায়ের মত বাঁচার-আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু কেউ তাঁর ডাকে সাড়া দিচ্ছে না।

এখন আর তাকে বিসিবির দরকার নেই। প্রয়োজন যেন শেষ হয়ে গিয়েছে।তাই তাকে নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবতে চাই না নির্বাচকরা।তার উপর যে বোর্ডের কোন ছায়া নেই সেটা অনেক আগে থেকে বুঝা যাচ্ছিলো।

আল আমিনের লেগ-কাটার আর স্লোয়ার বল দেখে মুগ্ধ হয়নি এমন টাইগার ক্রিকেটপ্রেমী খুব কমই আছেন।টাইগার দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও বলতেন, বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানের জন্য আল-আমিন ভয়ংকর বোলার’।তাই তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’।

কিন্তু এই সব আজ শুধু স্মৃতি।আল-আমিনের কথা এখন আর কেউ মনে করতে চাই না।ভুলেই গিয়েছে এই নামে জাতীয় দলে কোন পেস বোলার আছেন।

নিয়তির নির্মম পরিহাসে আল-আমিন আজ হারিয়ে যেতে বসেছেন।মিষ্টি মুখের সেই হাসিটা আর নেই।বোবা হয়ে গিয়েছেন।যেন কোন কথা বলার ভাষাই তাঁর জানা নেই।

খেলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে বলেন, আমার কথা শুনে আর কি হবে ভাই’।একটা খেলোয়াড় কতটা অসহায় হলে এই ধরণের কথা বলতে পারেন সেটা আল-আমিনকে না দেখলে বুঝা যাবে না।সত্যিই জাতীয় দলের এই ধরণের একজন প্রতিভাবান বোলারের তিলে তিলে শেষ হওয়া দেখা যায় না।

সামনে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সব থেকে বড় আসর বিপিএল।আসন্ন আসরে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলবেন এই ডান হাতি পেসার।এখন নিজেকে আবার ফিরে পাবার জন্য কঠোর অনুশীলন করছেন।নিজেকে প্রমাণ করে আর একটি সুযোগ খুঁজছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি ৬ টেস্ট, ১৪ ওয়ানডে ও ২৫ টি-টোয়েন্টি খেলা আল আমিনের। মাঝে কয়বার জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অবশ্য ডাক পেয়েছেন। কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে চূড়ান্ত স্কোয়াডে আর ঠাঁই মেলেনি।

Bootstrap Image Preview