Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৯ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ | ঢাকা, ২৫ °সে

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে নাটক 'শ্রাবণ ট্র্যাজেডি' মঞ্চায়িত হবে আগামীকাল

বিডিমর্নিং : বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১১ PM আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৩ PM

bdmorning Image Preview
ফাইল ছবি


গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৮ আগামীকাল ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ মঞ্চায়িত হবে।

সংগঠনটির চল্লিশতম প্রযোজনা নতুন নাটক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার-পরিজনদের সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অজানা সত্য উদ্ঘাটনে গবেষণালব্ধ নাটক ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান রচিত এ নাটকের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফর্মেন্স স্টাডিস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশিক রহমান লিয়ন।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্য মীর জাহিদ হাসানের সূত্রে এ কথা জানা যায়।

দীর্ঘ নয় মাস গবেষণালব্ধ এ পাণ্ডলিপিতে জাতির জনককে হত্যার প্রত্যক্ষ পরিকল্পনাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়াদের অংশগ্রহণ ও কার্যকারণ উন্মোচিত হয়েছে- যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জানার অধিকার রয়েছে। একটি ভূ-খণ্ডের স্থপতি মহান নেতার হত্যাকারীদের চেনবার জানবার- ঘৃনা প্রকাশের অধিকার রয়েছে স্বাধীন নাগরিকগণের।

অসাম্প্রদায়িকতার মূর্তপ্রতীক- মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও সাধারণ মানুষের সাথে তার নিবীড় সম্পর্ক, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্র গঠনে তার সত্যনিষ্ট দুর্বার প্রচেষ্টা রচিত হয়েছে এ পাণ্ডলিপিতে।

মহান নেতার হত্যাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়া আর খুনীদের মূখোশ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করা এবং খুনীদের ও তাদের অনুসারীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার প্রত্যয় তৈরিতে ভূমিকা রাখবে এ নাট্য প্রযোজনা।

নাটকটির নেপথ্য শিল্পীরা হলেন- মঞ্চ, আলো, পোশাক ও আবহসঙ্গীত পরিকল্পনায় আশিক রহমান লিয়ন, এ্যানিমেশন ও আবহসঙ্গীত সম্পাদনায় কাজী মোহাইমিনুল হক, কোরিওগ্রাফি আমিনুল আশরাফ, পোস্টার ডিজাইন দেব্যেন্দু উদাস, রূপসজ্জা শিল্পী শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, টিকেট ব্যবস্থাপনায় সৈয়দ লুৎফর রহমান, প্রচার ব্যবস্থাপনায় সৈকত নাসির ও কাজী সাইফ আহমেদ, প্রকাশনা ব্যবস্থাপনায় কানাই চক্রবর্তী ও বুলবুল আহমেদ, সেট ও প্রপস ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন, প্রযোজনা ব্যবস্থাপক ইকবাল চৌধুুরী, মঞ্চ অধিকর্তা কবির আহামেদ, প্রযোজনা  সমন্বয়ক মো: শাহনেওয়াজ, প্রযোজনা অধিকর্তা মীর জাহিদ হাসান ও সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে আফজাল হোসেন।

নাটকটিতে অভিনয় করছেন কবির আহামেদ, ফারুক আহমেদ সেন্টু, মোঃ শাহনেওয়াজ, মনিরুল আলম কাজল, পলি বিশ্বাস, সামিউল জীবন, রাজিব হোসেন, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, তারেকেশ্বর তারোক, আহাদুজ্জামান কলিন্স, সুমাইয়া তাইয়ুম নিশা, আরাফাত আশরাফ, স্বপ্নিল, আজহার, পিয়াসী জাহান, কাজী তারিফ, তাজুল রনি, রেদোয়ান, সিয়াম রাব্বি, জুনায়েদ, নূর আকতার মায়া, রাফি, রিফাত হোসেন জুয়েল, ইকবাল চৌধুরী, মীর নাহিদ আহসান ও মীর জাহিদ হাসান।

কাহিনীর অনুকথা: ১৪ আগস্ট ১৯৭৫ রাত্রির দুপুর- বালুঘাট নির্মাণাধীন বিমানবন্দর। তখন শহরটির মাথার উপর একটি কালো রঙের সুগোল চাঁদ ঝুলছিল- আর তা থেকে বৃষ্টিবিন্দুর মত ফোটা ফোটা রাত্রি গড়িয়ে পড়ছিল খুনিদের চাখ আর চিবুকে। প্যারেডের নাম করে তাড়িয়ে আনা অপেক্ষ্যমান শতাধিক সেনার মুখোমুখি দাঁড়ায় দীঘল কালো ছায়াগুলো- ভয়ংকর জাতি বিনাশী শব্দে খুনী মেজরদের চোয়াল নড়ে উঠে- উচ্চারিত হয় ষড়যন্ত্রের সেই অংশটি- মাকড়ের জাল পেতে যার প্রতিটি শব্দ ধৃত হয়েছে। তাদের ক্রয়কারী বেনিয়া আর ভাড়াটে এজেন্ট রচনা করে দিয়ে গেছে যাদুময় কথার ইন্দ্রজাল। মিথ্যা ভাষণ যথাযথ আবেগ ববহার করে উচ্চারণ করতে পারলেই হলো- বিশ্বাস যোগ্যতার ত্ষেত্র প্রস্তুত। এক মুঠ মার্বেল চালানোর মতো কথাগুলো পূর্বেই ক্যান্টনমেন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ষড়যন্ত্র পাঠ শেষে আরম্ভ হয় খুনীদের অভিযাত্রা- ভোর তখন রাত্রির পেটেপীঠে লেগে থাকা ভ্রন। দোজখের দেয়াল সরে গিয়ে হিম অথচ অগ্নিময় আভায় উম্মোচিত হয় খুনীদের নড়াচড়া। দোজখের দেয়ালে আঁকা শাস্তিচিত্রের পাপীরা আড়মোড়া ভেঙে- মুখ ব্যাাদান করে চেয়ে আছে তারই প্রতিছায়ার দিকে। খুনী মেজর আর বিভ্রমে ভরা সেনাগন হত্যার হাতিয়ার আর বিকট শকট নিয়ে ছুটে চলেছে ধানমণ্ডি অভিমুখে- তাদের লক্ষ্য মানচিত্রের কাধে চাপিয়ে দেবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী লাশের বোঝা।

শ্রাবণ ট্র্যাজেডির কাহিনী বয়ানে সরাসরি ইতিহাস ও পেক্ষাপট ব্যবহার না করে ইতিহাসের চরিত্র সকল ও ঘটনার বর্তমান ব্যাখ্যামূলক প্রতিভঙ্গী রচিত হয়েছে। খুনীদের দাড় করানো হয়েছে রঙ্গমঞ্চের কাঁঠগড়ায়। এই অনুভব ব্যক্ত হয়েছে- প্রাণহরণ করা যায় চেতনা নয়। নাটকের অন্তে বঙ্গবন্ধু কোন এক চারণকবির গীতপয়ারে নাজারাথের যিশুর সমান্তরাল হয়ে উঠে। এক শহর মানুষের সম্মুখে ক্রুশ ঠুকে যাকে হত্যা করেছিল- হত্যাকারী। আর সেসমস্ত গ্লানিকর ক্লেদ থেকে- পুনরুউত্থিত হয়েছিল শহরে। তেমনি এক পুনরুত্থান রচিত হয় চারণকবির গানে- যেখানে আকাশ ব্যাপত আওয়াজ- জয় বাংলা।

শ্রাবণ ট্র্যাজেডি প্রসঙ্গ: সেও এক থই থই বৃষ্টি ঠাসা শ্রাবণের কাশফুল সাঁঝ- অগনিত মানুষের জামায় সুতা দিয়ে বাঁধা কালো ফিতা- তবে কালো নয়- কেবলই সিঁড়ির উপর মানুষটার সাদা পাঞ্জাবী লুঙ্গি আর জবার পাপড়ির মতো এক ছোপ রক্ত চোখে চিবুকে ভাসছিল। সিঁড়িতে লেগে থাকা এক ছোপ রক্ত- কী যে গাঢ়- কী যে অমলিন- কী যে কাল অতিক্রমী দাগ মনে হচ্ছিল- মনে হচ্ছিল এ দাগ কোন দিন মুছে যাবার নয়। মেঘের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শুধু এই পশ্ন মনে ভাসছিল- শ্রাবণ কতখানি শ্রাবণ হলে এ রক্তচিহ্ন মুছে দেওয়া যাবে?

শুরু হলো ইতিহাস পাঠ- সে এক জটিল ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। খুনী আর দোসররা দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকে হত্যার সব চিহ্ন মুছে দেবার সব রকম চেষ্টা করেছে। তবে ইতিহাস মাটি চাপা দেওয়া যায়না- ওর মাটি ভেদ করে নিজেকে দেখিয়ে দেবার দিব্য ক্ষমতা রয়েছে। শুধু এইটুকু বুঝি- পাকিস্থানী শাসনের নিধারুণ রোষে- একটি জাতি যখন ভাঙ্গনের কিনারে এসে দাঁড়ায় তখন প্রয়োজন হয়ে পড়ে এক দাপুটে দিব্য মানুষ আর তার অলৌকিক তর্জনীর। যার ডাকে আর ইশারায় বট পাতার ছায়ার তলে নিবীড় হয়েছিল এক ভূখণ্ড মানুষ। তিনি মধুমতির পূবাল বাতাস বুকে বহে নিয়ে শহরে এসেছিলেন- তার বুকের ছাতির ছায়ায় রেখে মানুষকে শিখিয়েছিলেন সংগ্রাম- তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

আমার বুকে চোখে সমুদ্র ফুসে উঠেছিল- মানুষটা যখন বাংলার মানুষের সামনে ভাষণ দিতেন- মনে হতো তার পরিবারের সাথে কথা বলছেন। যে মানুষটা কখনও বিশ্বাস করতে পারে নাই- ধান পাট আর ইলিশের দেশের কোন মানুষ তাকে হত্যা করতে পারে। কী যে জাদু আর বজ্রকণ্ঠ তার- পথে প্রান্তরে, খেতের আলে, শহরে, উঠানে তিনি যেখানে দাঁড়াতেন- গাঙের পাড় ভাঙ্গা উদ্বীপ্ত ঢেউের মতো শত শত মানুষের ভীড় জমে যেত- বোলতার চাক ভাঙ্গা গুঞ্জরিত মাছির মতো দিশেহারা মানুষ নতুন চাক বানাতে নতুন দিশার আশায় উপনীত হত নেতার কাছে। ক্ষমতার চেয়ার লুট করতে রাজনৈতিক আর সামরিক বেনিয়াদের হাতে বঙ্গবন্ধু আর তার পরিবারের মানুষদের খুন হয়ে যেতে হলো। ক্ষমতার মসনদের দীঘল ছায়ায় খুনী আর তার দোসররা আড়াল করলো তাদের শরীর।

শ্রাবণ ট্রাজেডি নাটকে সত্য বলার জন্য সেই সকল খুনীদের ধূসর অতীত থেকে তাড়িয়ে আনা হয়েছে বর্তমানের রঙ্গমঞ্চে। ক্ষমতার খই লোভী রাজনৈতিক সামরিক প্রভুদের ষড়যন্ত্রের সকল সুতা একটি একটি করে খুলে নিগুঢ় সত্য উন্মোচনের অভিপ্রায় রচিত হয়েছে নাটকটিতে। কোন প্রকার রাজনৈতিক অভিসন্ধি সিদ্ধির জন্য নয়- ইতিহাস পাঠের জটিল আর্বত থেকে নিরপেক্ষ সত্য রচনা করবার চেষ্টা করেছি। ১৬/০৮/২০১৭ তারিখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে শ্রাবণ ট্র্যাজেডি পাঠঅভিনয় ও অভিনয় শেষে পাঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকদের মতামত আমলে নিয়ে রচনাটি সংযুক্ত বিযুক্ত করেছি। আমরা মনে করি নাটক এমন একটি শিল্পমাধ্যম- যেখানে ক্রম অভিনয়ের মাধ্যমে শিল্প গড়নটির একটি পরিনত রূপ পরিগ্রহ করার সুযোগ থাকে- দর্শক শ্রোতার যেকোন ইতিহাস লদ্ধ যৌক্তিক মতামত আমি, নির্দেশক এবং মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় বিবেচনায় রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি।

Bootstrap Image Preview