Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৪ সোমবার, জুন ২০২৪ | ১০ আষাঢ় ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

পদত্যাগের বিষয়ে ভেবে দেখতে চান ‘পল্টি দেওয়া’ সেই বিএনপির এমপি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৫ PM
আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৫ PM

bdmorning Image Preview


বিএনপি নেতাকর্মীদের ভোটে সংসদ সদস্য হলেও গত চার বছরে দলটিতে যোগ দেননি বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে 'পল্টিবাজ' হিসেবে আখ্যা পাওয়া বাবলু বিএনপি অনুরোধ করলে সংসদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি ভেবে দেখার কথা বলছেন।

ভোটের আগে ছিল না কোনো নামডাক। স্থানীয় পর্যায়ে ছিল না খুব একটা চেনাজানা। কিন্তু সেই মানুষটি এখন  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থানের সংসদ সদস্য। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য বাবলু বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটে বিজয়ী হলেও প্রতিশ্রুতি মতো এতদিনে দলে যোগ দেননি। অথচ বিএনপির সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগ করায় তিনিও এখন সংসদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেলে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা রোববার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিলেও রেজাউল করিম বাবলুকে এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও বগুড়া-৭ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘আমি বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। বিএনপি থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দেওয়া হলে বিবেচনা করব।’ 

যেভাবে এমপি হন বাবলু

রেজাউল করিম বাবলুর সংসদ সদস্য হওয়ার ঘটনাটি অনেকটা রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। বিএনপির ডাকসাইটে নেতারা যেখানে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে গেছেন সেই ভোটে বগুড়া-৭ আসন থেকে ট্রাক মার্কা প্রতীকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বাবলু।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলা। এ কারণে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে খালেদা জিয়া সংসদ নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। কিন্তু আসনটি ছেড়ে দিলে তার দলের পছন্দের প্রার্থী উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারেননি। সে কারণে বিএনপি থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোর্শেদ মিলটনকে। আর মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) আলতাব হোসেন।

বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিলটন উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র কার্যকর না হওয়ায় বাছাইকালে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। পরে তিনি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা ফিরে পাননি। আর এই সুযোগটি কাজে লাগান বর্তমান সংসদ সদস্য বাবলু। তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সমর্থন চান। বিজয়ী হলে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তখন বিএনপিও মহাজোট প্রার্থী আলতাব হোসেনকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে বেছে নেয়। তাকে ভোট দিতে নেতাকর্মীরা কাজ করেন। তারা ভোটারদের ধানের শীষের পরিবর্তে ট্রাক মার্কায় ভোট দিতে উৎসাহ দেন। ভোটের দিন বিএনপির ভোটাররা ট্রাক মার্কায় ভোট দিলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন বাবলু। কিন্তু সংসদে শপথ নেওয়ার পর তিনি আর বিএনপিতে যোগ দেননি। যা নিয়ে বিএনপির ভেতরে বাইরে সমালোচনাও ছিল।

গত শনিবার ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশ থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া–৬ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান। সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

একদিন পর গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পাঁচ সংসদ সদস্য। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ বিদেশে অবস্থান করায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার অসুস্থ থাকায় সংসদে উপস্থিত হননি। সে কারণে পাঁচজনের আবেদন গ্রহণ করেছেন স্পিকার। পরে অবশ্য হারুন ছাড়া বাকি ছয় এমপির আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটে জেতা রেজাউল করিম বাবলু পদত্যাগ করবেন কিনা সেটা সামনে আসে। যদিও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ করতে বিএনপি নেতারা পদত্যাগের আহ্বান জানালেও তারা সংসদে থাকছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

বিএনপির ভোটে জেতার পর প্রতিশ্রুতি মতো দলে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বাবলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভোটের আগে আমি নিজে থেকেই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিএনপি আমাকে সমর্থন দেয়। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আর কোনো প্রস্তাব আসেনি বলে যোগ দেইনি।’ 

রাজনৈতিক কৌশলের কারণে স্বেচ্ছায় বিএনপিতে যোগ দেননি জানিয়ে বাবলু বলেন, আমাকে বিএনপি থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলে বিবেচনা করব।

Bootstrap Image Preview