Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৭ শনিবার, এপ্রিল ২০২৪ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা !

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২২ AM
আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২২ AM

bdmorning Image Preview


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিজানুর রহমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন স্থানীয়দের কাছে। এ সময় তাকে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আলাইপুর গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। 

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান উপজেলার আলাইপুর গ্রামের মকসেদ আলীর ছেলে ও ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি। 

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও আলাইপুর গ্রামের আলুকদিয়াপাড়ার মিজানুর দাসপাড়ায় এসে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতন করেছেন তিনি। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামের অমরেশ দাসের বাড়িতে যান মিজানুর। এ সময় অমরেশ তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শুয়েছিলেন।

হঠাৎ মিজানুর ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রীর শরীরে থাকা লেপ সরিয়ে নেয়। এ সময় টের পেয়ে অমরেশ মিজানুর রহমানকে উলঙ্গ অবস্থায় ধরে ফেলেন। এ সময় মিজানুর তাকে মারধর করতে থাকেন। অমরেশের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উলঙ্গ অবস্থায় ধরে ফেলেন। এ সময় তাকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে মিজানুর রহমানকে থানায় নিয়ে যায়।    

জানা গেছে, গত বছরের (২০২১) সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার আলাইপুর গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনকারী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীরা ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এরপর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমানের এমন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে সেই সময় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।  

এরপর ২০২১ সালের গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে আলাইপুর গ্রামে স্থানীয়দের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, কালীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা প্রশান্ত কুমার খাঁ, উজ্জ্বল অধিকারীসহ স্থানীয় নেতারা।

সভায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার নির্দেশ দেন- এখন থেকে আলাইপুর গ্রামের দাসপাড়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না মিজানুর। আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন করতে পারবেন না।

ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি ও তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে একটি কক্ষে শুয়েছিলেন। হঠাৎ মিজানুর রহমান তার শরীরের ওপর থাকা লেপ সরিয়ে নেয়। এ সময় তিনি তার স্বামীকে হাত দিয়ে ডাকেন। এ সময় মিজানুর উলঙ্গ অবস্থায় ছিল। মিজানুর জোরপূর্বক তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে চেয়েছিল। এ সময় সবাইকে চুপ করতে বলেন মিজানুর। কথা বললে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় তার স্বামী মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলেন। 

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী অমরেশ দাস বলেন, তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। এর আগেও মিজানুর তাদের ওপর নির্যাতন করেছে। মিজানুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোন্তাজ আলী জানান, রাতে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ধরা পড়ে মিজানুর। তিনি যাওয়ার আগেই পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। 

কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, আটক মিজানুর রহমানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

Bootstrap Image Preview