Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৪ শুক্রবার, জুন ২০২৪ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

জঙ্গি ছিনতাই: আতঙ্কে আছেন দীপনের বাবা-স্ত্রী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৬ AM
আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৬ AM

bdmorning Image Preview
ছবি সংগৃহীত


ছেলে হত্যার চূড়ান্ত বিচারের আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকার মধ্যে হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা করে দুই জঙ্গির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের পরিবারে। পুরান ঢাকার আদালত এলাকা থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দিনেদুপুরে এভাবে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়াকে অস্বাভাবিক ঘটনা বলছেন ফয়সল আরেফিনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। আরেফিন দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান জলিও জানালেন আতঙ্কের কথা।

রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুরে পুরান ঢাকার আদালত এলাকা থেকে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় নিয়ে দীপনের স্ত্রী বলেন, আমি শকড। কোনোভাবেই হিসাব মেলাতে পারছি না যে এ ধরণের ঘটনা কীভাবে সম্ভব। এটা খুবই ভয়ের ব্যাপার।

তিনি আরও বলেন, এটা শুধু আমার জন্য ভয়ের জায়গা না, এটা পুরো দেশের জন্যেই একটা ভীতিকর ঘটনা। এই জঙ্গিরা যে শুধু আমাকেই মারতে পারে তা নয়। আপনাকেও মারতে পারে, যে কাউকে মারতে পারে।

দীপনের বাবা লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, এটা বিস্ময়কর। বিষয়টি আতংকের। তাদের গ্রেফতারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে খবর দেখলাম। দেখা যাক কী হয়।

এর আগে, রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়সংলগ্ন ঢাকার সিজেএম আদালত ফটকের সামনে থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির এবং মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ছিনিয়ে নেন তাদের কয়েকজন সহযোগী।

একটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে সহযোগীরা হাজতখানা পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তারা দুটি মোটরসাইকেলে রায়সাহেব বাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যান।

পলাতক জঙ্গিদের ধরতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। দশ লাখ করে দুজনকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে তারা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য সীমান্তেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 

এদিকে আদালত এলাকা থেকে এভাবে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিদিন এই আদালতে যে পরিমাণ আসামি আনা হয় সে তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম বলে জানা গেছে।

দীপনের বাবা বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটি (জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়া) তো খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। যারা ছিনিয়ে নিয়েছে, তারা খুবই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে বলে মনে হয়। আর যে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন, তারা হয়তো এতটা সতর্ক ছিলেন না। এখন সরকারপক্ষ থেকে চেষ্টা করছে তাদের (পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি) ধরতে। দেশে আইনের শাসন বহাল রাখার জন্য দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের নীতির কথা অনেক আগে থেকে শুনে আসছি। তো এসব ব্যাপারে সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দরকার আরও বেশি সতর্ক হওয়া। 

Bootstrap Image Preview