Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৭ বুধবার, এপ্রিল ২০২৪ | ৪ বৈশাখ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

বিজ্ঞানী হতে হলে নারীকে কতটা লম্বা পোশাক পরতে হবে?

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:২৫ PM
আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:২৫ PM

bdmorning Image Preview


শাহানা হুদা রঞ্জনা।। যখন এক শ্রেণীর ছেলেমেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কার্যের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বলে 'ছোট পোশাক পরে বিজ্ঞানী হওয়া যায়না, বরং নিজেকে পণ্য করা হয়' এবং পুরুষের হাতে ধরা আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকে,'ছোট পোশাক পরে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস করা বন্ধ করুন', তখন বুঝতে পারি যে, মানসিকভাবে আমরা কতটা স্থুলবুদ্ধির হয়ে গেছি। এত বিচিত্র ও অশিক্ষায় পরিপূর্ণ প্ল্যাকার্ড কোথাও, কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। 

প্রথমত কাপড়ের সাথে বিজ্ঞানচর্চার কোন সম্পর্ক আছে বলে শুনিনি। তাহলেতো বিশ্বের বড় বড় নারী বিজ্ঞানীরা সব আলখাল্লায় মোড়ানো থাকতো। আফগানি লেবাস ছাড়া কোন নারীই বিজ্ঞানী হয়ে উঠতে পারতো না। বিজ্ঞানী হতে গেলে পড়াশোনা ও গবেষণা করতে হয়, দৃষ্টিকে শাণিত করতে হয় এবং সর্বোপরি মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে হয়।

ছোট পোশাক, খাটো মানুষ, লম্বা পুরুষ বা নারী, আলখাল্লা বা হিজাব এসব কিছুই জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে পথে কোন অন্তরায় বা উপায় হতে পারেনা। শুধু বিজ্ঞানী বলে নয়, যে কোনো  পেশাতে যদি কেউ সফল হতে চায়, তাকে বিষয় বুঝে, পড়াশোনা শিখে, কাজটা দক্ষভাবে করতে হবে। এর সাথেও পোশাকের কোনো  সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে পুরুষকে 'সিডিউস করার বা প্রলুব্ধ করার' বিষয়টিও বেশ হাস্যকর ও পুরুষের নিজেদের জন্যও হীনমন্যতার পরিচায়ক। নারীকে স্বল্পবসনা দেখলেই যদি আপনি বা আপনারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তাহলে তো বিশ্বের অন্য কোনো আধুনিক দেশে পড়াশোনা ও কাজ করতে বা বেড়াতে যেতে পারবেন না।

কারণ সেসব দেশের নারী পুরুষ দুজনই আবহাওয়া অনুযায়ী, আরামপ্রদ পোশাক পরেন। সেখানে কেউ কারো পোশাকের দিকে ফিরেও তাকায় না। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশ থেকে কোনো পুরুষ গিয়ে যদি প্রথমেই প্রলুব্ধবোধ করেন, তাহলে তো খুব বিপদ। বিশেষ করে গণপরিবহনে, মার্কেটে, পথে, ইউনিভার্সিটিতে গিয়েতো হতভম্ব হয়ে যেতে হবে। তখনো কি এইসব ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষাকারী বাঙ্গালি পুরুষ ভাইরা প্ল্যাকার্ড হতে খাড়াইয়া পড়বেন? 

একটি কথা বলে রাখা ভালো যে বাংলাদেশে এক শ্রেণীর পুরুষের উত্তেজিত হয়ে যৌন হয়রানি করতে হলে ছোট পোশাক পরা নারী না হলেও চলে। এরা এতটাই বিকৃত ও অসভ্য মানসিকতার যে দুই মাসের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণী, বিবাহিতা নারী, হিজাব পরা বা সালোয়ার কামিজ পরা নারী কাউকেই ছাড় দেয় না। এমনকি নিয়মিত যৌনকর্মীর কাছে গিয়েও আশ মেটে না এবং সময় সুযোগ পেলে যৌনকর্মীকেও ধর্ষণ করে। 

২৫ আগস্ট ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে বাংলাদেশের শতকরা ৮৭ ভাগ নারী জীবনে অন্তত একবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। শতকরা ৫২ ভাগ ঘটনা ঘটেছে দিনের আলোতে। হয়রানির শিকার নারীর মধ্যে শতকরা মধ্যে শতকরা ৩৬ জন হয়েছে যৌন হয়রানির শিকার। অধিকাংশ নারীই গণ পরিবহনে সবচাইতে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই হয়রানির শিকার হওয়া সব নারী কি তবে ছোট পোশাক পরে পথে বেরিয়েছিলেন যে তাদের হেনস্তা হতে হয়েছে? 

কেউ কি বলতে পারেন কেন একটি দুধের শিশুকে বা ৪/৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়? তারা কীভাবে পুরুষকে সিডিউস করছে? কেন কুমিল্লার তনু, হিজাব পরেও ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে। কেন ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রীকে যৌন হয়রানির পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পুড়িয়ে মেরেছিল? কেন বেগমগঞ্জে গৃহবধুকে গণধর্ষণ করে লাইভ ভিডিও করা হয়েছিল? 

যাত্রীবাহী বাসে কেন নারী যাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন? এ ঘটনার মাত্র চার দিন পর মিনিবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। এর আগে ধর্ষকেরা সঙ্গে থাকা তাঁর স্বামীকে বাস থেকে ফেলে দেয়। জানি এসবের কোন উত্তর নেই। তবে ছোট বা আঁটসাঁট পোশাক পরার কারণে যে এনারা ধর্ষণের শিকার হননি, তা বলতে পারি।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রায় অর্ধেক ধর্ষণের। এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ধর্ষণের মামলা হয়েছে ৩ হাজার ৫২৩টি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'ধর্ষণ একটি সামাজিক সমস্যা।'

আমরা বলতে চাই ধর্ষণসহ নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন করাটা একদল পুরুষের 'মানসিক সমস্যা'। 

আবারও ফিরে আসি নারীর পোশাকের আলোচনায়। ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গত ১৮ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে গালিগালাজ ও মারধরের শিকার হন। তরুণীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত শিলাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 

কিন্তু শিলার জামিন আবেদনের শুনানিতে উচ্চ আদালত যে মন্তব্য করেন তা অনেককেই দুঃখিত ও বিস্মিত করেছে। হাইকোর্ট বলেছেন, 'গুলশান-বনানীর মতো এলাকায়ও কোনো মেয়ে এ ধরনের পোশাক পরে রাস্তায় বের হয় না। সেখানে গ্রামের মতো একটি জায়গায় পাবলিক প্লেসে এরকম পোশাক পরা স্বাধীনতা হতে পারে না। কোন অনুষ্ঠানেও এধরণের পোশাক দৃষ্টিকটু।' 

'হাইকোর্ট' অবশ্য যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন তবে সেটা রায়ে উল্লেখ্য না থাকলে কার্যকরী হবে না বা আদেশ বলে গণ্য হবে না। 

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে হাইকোর্টের এই মন্তব্যকেই বেছে নিয়ে যে কোন সময়ে, যে কোন নারী, যে কারো হাতে হেনস্তার শিকার হতে পারেন। আকাট মূর্খ এবং অসভ্য মানুষরা মনে করতে পারে যে এই মন্তব্যকে ব্যবহার করে নারীকে নিপীড়ণ করা আইনসঙ্গত হবে। যেমনটা বেছে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র-ছাত্রী। এরা উচ্চ আদালতের সেই মন্তব্য লেখা ব্যানার নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছে। 

এসব কারণেই আদালতের এই মন্তব্য আলোচনার দাবি রাখে। মহিলা পরিষদ বলেছে, নারীর পোশাক নিয়ে উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ জনপরিসরে নারীর স্বাধীন চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। যে স্থানে নারীর ব্যক্তি অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হরার কথা, সেখানে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। গুরুত্বপূর্ণ  দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির নারীর মানবাধিকারের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্য পক্ষান্তরে নারীর ন্যায়বিচার পাওয়াকে অসম্ভব করে তুলবে।

মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময়ে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষায় ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রায় ও নির্দেশনা প্রদান করে আসছেন। তবে একজন বিচারপতির সাম্প্রতিক এ বক্তব্য এসব অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালত যে প্রশ্ন রাখেন 'সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কি না?' এই বক্তব্যটি নারীর প্রতি অগ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যমূলক মনে করেন এমএফএস এর চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল। তিনি আদালতের এ হেন পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। সংস্থাটি বলেছে, আদালতের এমন পর্যবেক্ষণে পোশাকের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তা জেন্ডার সংবেদনশীলতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

নারী অধিকার সংগঠনগুলোর এই আশংকা কিন্তু মিথ্যা নয়। কারণ এইতো কিছুদিন আগে স্লিভলেস পোশাক পরা তরুণীর ছবি তোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার দ্বারা ফটোগ্রাফারকে হেনস্তা করার ঘটনাটি শুনে মনে হলো আমরা মধ্যযুগের কোনো সমাজে বিচরণ করছি। সেই শিক্ষিকা ও তার সহকর্মীদের মতে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে ছবি তোলাটা পর্নোগ্রাফির পর্যায়ে পড়ে। তারা এও মনে করছেন স্লিভলেস পোশাক পরা আর 'নুডনেস' একই জিনিস।

এই ঘটনা জানার পর হঠাৎ মনে হলো ফেসবুকে প্রচলিত অত্যন্ত অশ্লীল ও নারীকে নির্যাতন করার তথাকথিত ভিডিও গেমের কথা। এই গেমগুলো লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে, বলা যায় এই ভিডিওগুলো আমাদের সমাজের কিছু মানুষের মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হচ্ছে। অথবা বলতে পারেন মানুষের মনোজগতকে নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক করে তোলার জন্যই এগুলো তৈরি করা হচ্ছে। সেই ভিডিওগুলোতে নারীকে যেভাবে মন্দ বলে দেখানো হয় ও হেনস্তা করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকা ও তার সঙ্গের লোকেরা ঠিক সেইভাবেই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। 

ফেসবুকে এসব অশ্লীল ভিডিও গেইম, নরসিংদী রেলস্টেশনে ছাত্রীকে হয়রানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে শিক্ষিকা কর্তৃক একজন ছাত্রীকে অপমান করা এবং সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে আসা তথ্য 'দেশীয় পর্নোগ্রাফি অশ্লীলতার চাইতেও বেশি ব্যবহৃত হয় নারীকে অপমান ও নির্যাতন করার জন্য' সব একই সুতায় বাঁধা বলে আমি মনে করি।

খুব দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে যে বাংলাদেশের পর্ণ মুভির কনটেন্ট ঠিক করে দিচ্ছে যে এই সমাজে কে 'ভালো মেয়ে', আর কে 'মন্দ মেয়ে'? এই 'ভালো' বা 'মন্দ' নারীর সঙ্গে সমাজ কী আচরণ করবে সেটাও নির্ধারণ করছে এই খাতটি। অর্থাৎ ডিজিটাল পর্নোগ্রাফির জগৎ এবং এইসব অশ্লীল ভিডিও সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে এক ধরনের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বাংলাদেশে একটা বড় অংশের দর্শক এইসব দেখে শুধু অশ্লীলতা আস্বাদনের জন্য নয়। এর চাইতেও বেশি দেখে নারীকে নিন্দা, নির্যাতন ও অপমান করার জন্য। নারীকে নিপীড়নের উপায় খুঁজে বের করার এবং নারীর পিঠে 'মন্দ মেয়ের তকমা' লাগানোর জন্য।

গবেষণা বলছে একটি মেয়ে যখন খোলামেলা বা পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরে, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মেলামেশা করে, নিজের মতামত প্রকাশ করে, ছেলেদের সঙ্গে বাইরে বের হয় সেই মেয়েদের নানাভাবে হেয় করা হয় এবং তাদের প্রতি অপমানজনক আচরণ করা হয়, এমন ধারণা পোষণ করেন ৮১ ভাগ উত্তরদাতা। শতকরা ৬৪ জন মানুষ মনে করে এইসব মেয়েদের প্রতি কটূক্তি, সমালোচনা, তির্যক মন্তব্য ও অপমানজনক আচরণ করাই যায়। যা নরসিংদীর ঘটনায় আদালতের মন্তব্য কেন্দ্রিক আশংকাকে আবারও সত্য প্রমাণিত করেছে।

নারী সম্পর্কে নেটদুনিয়াতে যেসব অবমাননাকর কনটেন্ট প্রচারিত হচ্ছে, তা দেখছে বা গ্রহণ করছে অসংখ্য মানুষ। গেম নামের এইসব অশ্লীল প্রডাক্ট সহজে পাচ্ছে মানুষ। এখানে নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য বা কনটেন্ট এর উপর ভিত্তি করে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা। এইসব অনলাইন গেমে নারীর প্রতি অবমাননাকর যে ইমেজ দেখানো হয়, তা সমাজে প্রচলিত 'মন্দ মেয়ে'র ইমেজকে আরও শক্তিশালী করে। কারণ খেলাচ্ছলে তারা দেখাচ্ছে নারীর প্রতি টিটকারি, অবমাননা, প্রতিশোধ সবই যুক্তিসঙ্গত।

যেহেতু আমাদের সমাজের শিক্ষিত, অশিক্ষিত ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ মনে করে এই 'মন্দ মেয়ে'র মতো আচরণ সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ সেটা অন্য ছেলে-মেয়েদের নষ্ট করে ফেলবে, তাই 'মন্দ মেয়ে'র মতো আচরণ যারা করে, তাদের সেটা থেকে বিরত রাখা জন্য তাকে হেয় করা, মারধর করা, মন্দ বলা ও তাদের প্রতি অপমানজনক আচরণ করা সমাজের জন্য উপকারী। সেই ধরনের কিছু ভ্রান্তধারণা থেকেই অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব হচ্ছে সমাজে ইনক্লুশনের সংস্কৃতি চালু করার কথা বলা, নারী যেন পথে ঘাটে নিরাপদে, যার যার মতো পোশাক পরে চলাফিরা করতে পারেন, সেই দিকে দৃষ্টি দেওয়া। ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক পরিসরে কে কী পোশাক পরবে তা প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। পোশাক নিয়ে ভাবার চেয়েও জরুরি হচ্ছে মনকে পরিস্কার করা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলানো। 

পত্রিকায় পড়লাম, পর্বতজয়ী ওয়াসফিয়া নাজরীন বলেছেন, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেয়ে একজন নারীর পক্ষে ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা করা কঠিন। 

একজন নারীকে বাংলাদেশের পাবলিক প্লেসে চলাচল করার সময় কতটা চাপ সহ্য করতে হয় তা জানি। এমনকি ওয়াসফিয়া যখন একটি মোবাইল ফিন্যানসিয়াল সার্ভিস কোম্পানিকে কাজের জন্য একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিয়েছিলেন, তখন তাকে বলা হয়েছিল, ভদ্র পোশাক পরে ছবি দেওয়ার জন্য। করণ 'টি-শার্ট' পরা ওয়াসফিয়ার ছবি তাদের কাছে 'যথেষ্ট ভদ্র' মনেহয়নি।

এতসব ঘটনার পরও বলবো পোশাকের ভিত্তিতে নারীকে 'ভাল মেয়ে' বা 'মন্দ মেয়ে'র তকমা এঁটে দেয়ার এই সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হোক বাংলাদেশ। 

লেখাটি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড থেকে সংগৃহীত।। 

Bootstrap Image Preview