Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৮ মঙ্গলবার, মে ২০২৪ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

ইশরাত ॥ হলি আর্টিজান ও জঙ্গীবাদ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২১, ১২:৪৯ PM
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২১, ১২:৪৯ PM

bdmorning Image Preview


বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।। মানুষের জীবন যেন আনন্দ বেদনার কাব্য। জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে নানা সুখের স্মৃতি। সেই সঙ্গে নানা বিষাদেও আবৃত থাকে মানুষের জীবন। আমাদের সকলের জীবনই যেন প্রাপ্তির আনন্দ আর হারানোর বেদনায় আচ্ছাদিত। এরপরও জীবন এগিয়ে চলেছে নীরবে, অতীতের অনেক বিষাদ আর আনন্দকে সাথী করে। প্রায়ই ফেলে আসা বছরগুলোয় ফিরে যাই। আজ মনে পড়ছে ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের কথা। এই দিনটিতে কেবল আমি নই, পুরো জাতি হয়েছিল বিষাদগ্রস্ত। সেদিনের কথাই আজ বলব।

মনে পড়ে, বেশ কিছুদিন যাবৎ চোখে ঝাপসা দেখছিলাম। ২০১৬ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহ। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভবত চব্বিশ বা পঁচিশ জুন তারিখে ডান চোখটির ক্যাটার‌্যাক্ট সার্জারি করাই। আজকাল অপারেশন বেশ সহজ। এক ঘণ্টার মধ্যেই সার্জারি শেষে বাসায় ফিরে আসি। শুরু হয় চোখে নিয়মিত ড্রপ দেয়ার পালা। চোখের এই ধরনের অপারেশনের রোগীকে এটি অব্যাহত রাখতে হয় মাসাধিককাল। পড়ার টেবিলে বসে মাথা নিচু করে কোনকিছু পড়া বা লেখাটাও বারণ ছিল। সুপ্রীমকোর্ট তখন সম্ভবত ছুটি ছিল। এভাবে ক’টা দিন কাটে।

১ জুলাই রাত নয়টার পর চোখে কালো চশমা পরে বিছানায় বসেই টেলিভিশন দেখছিলাম। আমার নিরাপত্তা রক্ষী আমাকে ফোনে বলে- ‘স্যার, গুলশানে জঙ্গীদেরকে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। গোলাগুলি হচ্ছে।’ আমার দুই মামা থাকতেন তখন গুলশানে। খবর পাই তারা নিরাপদে আছেন। ছোট ভাইয়ের অফিস বসুন্ধরায়। তবে ওর বাসা গ্রীন রোডে। কোন কারণে সে গুলশানের দিকে গেল কিনা খবর নিলাম। মেঝ ভাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছে। সে তখন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ এর দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিল। না, তারও গুলশানের রেস্তরাঁয় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এতসব চিন্তার মাঝে হঠাৎ মনে হলো নীলার কি খবর? আমি তার মাকে ফোন করি। আপা ফোন ধরেননি। নীলার বড় ভাইকে ফোন করি। কিন্তু সেও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি নীলা কোথায়। নীলা গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকত। তার মা তার ইমিডিয়েট বড় ভাই ইউসুফ আব্দুল্লাহর (মাসুম) সঙ্গে উত্তরায় থাকেন। সময় টিভিসহ আরও দু’একটি চ্যানেল হলি আর্টিজান রেস্তরাঁর কিছু অসমর্থিত খবর প্রচার করে যাচ্ছিল। এর মধ্যে আমার ছোই ভাই সাইফুল হাসান আমাকে জানায় নীলার ফেসবুক বন্ধুদের মাধ্যমে সে জানতে পেরেছে যে, নীলা হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জিম্মি হয়ে আছে। চমকে উঠি। উদ্বিগ্ন হই। সময় যাচ্ছে, রাত গভীর হচ্ছে। নীলার ফোন প্রতিবারই আনরিসিভ্যাবল সংকেত দিয়ে কেটে যাচ্ছে। শঙ্কা বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিদেশী চ্যানেলগুলোও বাংলাদেশে জঙ্গী হামলার খবর প্রচার করে। মেঝ ভাই সাজ্জাদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলি। সেও একই রকম খবর দিল। তারপরের ঘটনা দেশবাসী এবং বিশ্ব জানে। ঘটনাটি এক ভয়ঙ্কর বিষাদের।

হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জিম্মি হয়ে জঙ্গী হামলার ঘটনার শিকার সকলেই যেন আমাদের সবার আপনজন। সেই রাতের বর্বর জঙ্গী আক্রমণের শিকার ছিল আমাদের প্রিয় স্বজন নীলা। নীলা ছিল আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ভাগ্নি। হ্যাঁ, নীলাই ইশরাত জাহান বা ইশরাত আখন্দ। চার ভাই বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। বাবা আবদুল মজিদ আখন্দ নেত্রকোনার মদন থানার মানুষ। চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি তিনি লাইভস্টক ডিপার্টমেন্টে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার চাকরিস্থল ছিল ঢাকার তেজগাঁও ডেইরি ফার্মে। তখন থেকেই তিনি ঢাকায় অবস্থান করতে থাকেন।

ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন আমলেই তিনি চাকরি করেছেন। সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। তিনি ছিলেন একজন নিরেট সৎ মানুষের প্রতিচ্ছবি। সম্ভবত ১৯৪৬ সালে ইশরাতের মা আসিয়া খাতুনের সঙ্গে আঃ মজিদ আখন্দের বিয়ে হয়। আসিয়া খাতুন আমাদের সবার বড় বোন। তিনি আমার আপন ফুফাত বোন। চাচাত বোন হিসেবে তিনি সেকেন্ড কাজিন। তার একমাত্র বৈমাত্রেয় বোন আছেন, ময়মনসিংহে থাকেন। আমাদের বড় বোন বলতে তিনি, আর তার ভাই বলতে আমি ও আমার অন্য ভাইরা। দুলাভাই মাঝারি মাপের চাকুরে ছিলেন। তবে তার জ্ঞানের পরিধি ছিল অপরিসীম। তার ভদ্রতা ও শিষ্টাচার ছিল অনুকরণীয়। বর্তমান বিশ্বে ত্রিশ লক্ষাধিক লোক রিডার্স ডাইজেস্ট ম্যাগাজিনটি পড়ে। চল্লিশ দশকের মাঝামাঝিতে এই ফ্যামিলি ম্যাগাজিনটির পাঠক সংখ্যা কত ছিল জানি না। আমাদের দেশে কতজনই বা তখন এই ম্যাগাজিনের গ্রাহক ছিলেন! তবে শুনেছি সেই সময় থেকেই আব্দুল মজিদ এই ম্যাগাজিনের একজন নিয়মিত পাঠক ছিলেন। আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে তাঁকে দেখছি। একজন ডিসিপ্লিনড মানুষ বলতে যা বোঝায় আবদুল মজিদ আখন্দ ছিলেন তাই। দুলাভাই আমাদের খুব স্নেহ করতেন। ২০০২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। আঃ মজিদ ও আসিয়া খাতুনের তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। আমাদের বোন আসিয়া খাতুন ক’দিন আগে তার ৮৮ বছর পূর্ণ করেছেন। আপার বড় দুই ছেলেই আমার চেয়ে বয়সে বেশ বড়। আপা আমাদের তার ছেলেমেয়ের মতোই দেখেন। আপার ছেলেমেয়েরা প্রত্যেকেই ছিল মেধাবী। লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিল প্রত্যেকেই। বড় ছেলে মোঃ ওমর হায়াত আখন্দ পেশায় ছিল ইঞ্জিনিয়ার। সে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থার প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় ১৯৯৭ সালের ২৭ জুলাই হার্ট এ্যাটাকে কলকাতায় চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ আলী হায়াত আখন্দ বি.এ.ডি.সির এ্যাসিস্ট্যান্ট চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদ থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিজ ব্যবসার পাশাপাশি একটি গ্রæপ অব কোম্পানিজের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে কর্মরত। তৃতীয় ছেলে ড. মোঃ আব্দুল্লাহ ইউসুফ আখন্দ যুক্তরাজ্য থেকে পি.এইচ.ডি করে বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত। একমাত্র কন্যা ইশরাত জাহান (নীলা) মাস্টার্স পাস করে গ্রামীণ ফোনসহ বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানিতে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিল।

ইশরাত জাহান (নীলা) হলি অর্টিজান রেস্তরাঁয় নির্মম জঙ্গী আক্রমণে পৃথিবী থেকে অকালে প্রস্থানের সময় তঢণ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ নামের একটি বিদেশী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ডাইরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত ছিল। সে ছিল একজন উঁচুমানের চিত্রশিল্পী। ইশরাত তার অনেক মামা-চাচা ও আত্মীয়ের মধ্যে আমাকে খুব ভালবাসত ও শ্রদ্ধা করত। সে ব্যক্তিজীবনে ছিল খুবই বন্ধুবৎসল। প্রগতিমনা অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার এক পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর মনের মানুষ। ওর পরিবারে রয়েছে প্রাত্যহিক ধর্মচর্চার অনুশীলন। ধর্মান্ধ নয়, তবে ধর্মের প্রতি তারও ছিল অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু তার দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা ও বেশভুষায় সেটি সে প্রকাশ করত না। এতে ওকে কেউ অন্যরকমটি মনে করতেই পারেন। ইংরেজীতে একটি কথা আছে উড়হ’ঃ লঁফমব ধ নড়ড়শ নু রঃং পড়াবৎ। ঘুরিয়ে বললে বলা যায় অ নড়ড়শ ংযড়ঁষফ হড়ঃ নব লঁফমবফ নু রঃং পড়াবৎ.

নীলা আমার ভাগ্নি বলে বলছি না। ওর মধ্যে যে গুণাবলী সদা মূর্ত দেখেছি সে তার সবটুকু প্রকাশ করে যেতে পারেনি। অতটুকু সময়টা সে পেল না। মানুষের জন্য তার যে কল্যাণমূলক চিন্তা ছিল, তারও কোন কিনারা করার আগেই সে অকালে ঝরে গেল। ইশরাতের বন্ধুদের সঙ্গে আমার যখন কোথাও দেখা হয়েছে, তখন তারা অনেকেই আমাকে মামা বলে সম্বোধন করত, আর বলত ইশরাতের কাছে আপনার কথা শুনেছি। আমি বুঝতাম নীলা আমাকে কতটা ভালবাসে, কতটা শ্রদ্ধা করে।

হলি আর্টিজানের ভেতরে সেদিন কি তাণ্ডব ও বর্বরতা হয়েছিল, তা আমরা নিশ্চিতভাবে কেউই জানি না। অনেকে হয়ত অনেক রকম করে বলেন, এর ভিত্তি কি জানি না। তবে এটা সত্য যে, জঙ্গীবাদের সঙ্গে ইশরাত আপোস করার মানুষ ছিল না। হয়ত সেদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় জঙ্গীবাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিল। কারণ ও তো ছিল একজন সাহসী মেয়ে। এটাই তার বেলায় আন্দাজ করা যায়। সে হয়ত ওদেরকে এই বলে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিল যে, ঐ কর্মকাণ্ড তাদের সঠিক পথ নয়। এটি মানবতার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড। ইসলামী রাষ্ট্র বা হুকুমত এভাবে কায়েম করা যায় না। হয়ত সে বলেছিল আমাদের ধর্ম বা আমাদের নবী তাঁর কর্মকাণ্ডে তোমাদের এই নিষিদ্ধ পথ সমর্থন করেননি। সেদিনের ঐ জঙ্গীরা বয়সে ছিল তরুণ। ওদের মস্তিষ্ক এমনভাবে ওয়াশ করে বিকৃত করা হয়েছিল যে, এসব কথা শোনার সময় ও সুস্থ মানসিকতা ওদের ছিল না। তারা ইশরাতের ভাবনাপ্রসূত কোন কথাই হয়ত আমলে নেয়নি। তাই সেদিন গুলশানের হলি আর্র্টিজানে অন্যদের সঙ্গে ইশরাতকেও নির্মমভাবে একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল।

সম্ভবত ৩ জুলাই সিএমএইচে গিয়ে ইশরাতের বড় ভাই আলী হায়াত ও আমার মেঝ ভাই সাজ্জাদুল হাসান ইশরাতের মরদেহ শনাক্ত করে। পরে আর্মি স্টেডিয়ামে আমরা তিন ভাই ও আলী হায়াত ইশরাতের মরদেহ গ্রহণ করি। ইশরাত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। বন্ধনটি টেকেনি। সে কোন পিছুটান রেখে যায়নি। ওর ভাই ড. আব্দুল্লাহ ইউসুফের কর্মস্থল গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কবরস্থানে আমাদের প্রিয় নীলাকে সমাহিত করা হয়েছে। সেদিনের সেই স্মৃতি আজও কষ্ট দেয়।

সেদিন হলি আর্টিজানে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরে গেল। যে ছেলেগুলো এই দুর্ধর্ষ অমানবিক ঘটনাটি ঘটিয়েছে ওরাও কোন না কোন পিতা-মাতার সন্তান। এদের পিতা-মাতা নিশ্চয়ই এদেরকে এরূপ সর্বনাশা নারকীয় পথে যেতে উৎসাহিত করেননি। তবে অভিভাবক হিসেবে তাদের উচিত ছিল সন্তানদের প্রতি নিয়মিত নজর রাখা। জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উন্মাদনা কখনও, কোনকালে, কোন দেশে শান্তি আনেনি। ইসলামে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। আমার বিশ্বাস, অন্য কোন ধর্মেও জঙ্গীবাদ ও ধর্মীয় উন্মাদনার কোন স্থান নেই। যারা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে সদাসর্বদা ধর্মের নামে উস্কানি দেন, তারা যে ধর্মেরই হোক তারা প্রকারান্তরে দেশ ও জনগণের ক্ষতি সাধন করে চলেছেন। তারা মানবতার শত্রæ। এখন প্রয়োজন বৈশ্বিক সচেতনতা। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালে মনে হয় অনেক বিশ্ব নেতাই তাদের সঠিক কর্তব্য কাজটি করছেন না। তাদের অনেকেই চরম ধর্মীয় উগ্রবাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছেন। তাদের এ ধরনের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা নিঃসন্দেহে বিশ্ব শান্তির পথে অন্তরায়। তাদের ভাবতে হবে, বিশ্বকে সহিংসতামুক্ত রাখা কত জরুরী। এটি বুঝতে হবে যে, কেবল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানেই সভ্যতা ও মানবজাতির অস্তিত্ব নির্ভর করে।

ইশরাতের অনেক ধ্যান-ধারণা এখনও অমাকে নাড়া দেয়। ফিরে যাই তার অনেক ভাবনা ও সুবচনের মাঝে। ইশরাতের চিন্তা ছিল প্রগতির পথে মানুষকে আহŸান করা, জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমদৃষ্টিতে দেখা। হয়তবা ওর অনেক কথাই বলা হয়নি। বলতে পারেনি। আমার সঙ্গে দেখা হলে সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা বলত। দেখেছি, সমাজের নানা ধ্যান-ধারণার মানুষের উদ্ভট আচরণেও ব্যথিত হতো ইশরাত। কিছু কথা হয়তবা সে বলতেও পারেনি। মনে হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো বলাই চরিত্রের মতো ‘... কতগুলো ব্যথা বা কথা ছিল যা শুধু ওর একলারই’। সবশেষে প্রার্থনা করছি...মহান রাব্বুল আলামিন যেন ইশরাত আখন্দসহ হলি আর্টিজানে নিরস্ত্র অবস্থায় নারকীয় জঙ্গী হামলার শিকার নিহত সকলকেই শহীদের মর্যাদা দান করেন। তাদেরকে যেন জান্নাতবাসী করেন।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট, আপীল বিভাগ

Bootstrap Image Preview