Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, জুন ২০২৪ | ৪ আষাঢ় ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

কৃষকের কার্ড নিয়ে ধান দিতে এসে গ্রেফতার আ’লীগ নেতা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ PM
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩ PM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত


বগুড়ার কাহালুতে কৃষকের কার্ড সংগ্রহ করে সরকারি খাদ্য গুদামে নিজেদের ধান সরবরাহ করতে এসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মেয়াদি কারাদণ্ড দিয়েছেন। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কাহালু উপজেলার সাকোহালী গ্রামের মৃত মনতাজুর রহমানের ছেলে ও সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুদ্দোহা খান (৪৫), তার সহযোগী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৪০) ও দলগাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩০)।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, কাহালু সদর খাদ্য গুদামে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। লটারির মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ জন কৃষককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ জন কৃষককে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ১৫৮ জন কৃষক ১৫৮ টন ধান সরবরাহ করেছেন। বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দোহা খান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন ২ টন ধান খাদ্য গুদামে নিয়ে যান। তারা লটারিতে নির্বাচিত দু’জন কৃষকের নামে ধান সরবরাহের চেষ্টা করেন।

গোপনে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুদুর রহমান পুলিশ নিয়ে খাদ্য গুদামে অভিযান চালান। এ সময় সামছুদ্দোহা খান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সামছুদ্দোহার কাছে ৫০টি ও ইসমাইলের কাছে ৪-৫টি কার্ড পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি আদেশ অমান্য করায় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় সামসুদ্দোহাকে এক মাসের ও ইসমাইলকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম জেল দেন।

এ সময় খাদ্য গুদামের প্রাচীর টপকে পালানোর সময় ৪টি কার্ডসহ রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে দুই মাসের জেল দেন।

কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত তিন ব্যবসায়ীকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, সামছুদ্দোহা খান সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাছুদুর রহমান কৃষকের কার্ড নিয়ে ধান বিক্রি করতে আসা তিন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, লটারিতে নাম উঠা প্রকৃত কৃষক নির্ভয়ে খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারবেন। কোনো ফড়িয়া, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী প্রকৃত কৃষকের ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Bootstrap Image Preview