Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৩ শনিবার, জুলাই ২০২৪ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৭ PM
আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৭ PM

bdmorning Image Preview


চলতি অর্থবছরে জুলাই-আগস্ট দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কমেছে এক তৃতীয়াংশ। এ বছর ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের এই সময়ের চেয়ে ৭০৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে জুলাই-আগস্ট দুই মাসে ঋণ বিতরণ করার কথা ৩ হাজার ৬৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সেখানে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ২ হাজার ৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা কম ঋণ বিতরণ করেছে। তথ্যে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের হার সব চেয়ে কম। রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংক পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ শতাংশ বিতরণ করেছে।

অন্যদিকে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে লক্ষ্যমাত্রার ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ সব ব্যাংকের দুই মাসে বিতরণ করার কথা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা। পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচিতে ঋণ বিতরণও কৃষিঋণের আওতাভুক্ত।

তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি অনুপাতিক হারে কৃষি ঋণ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। যে সব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা নেই সে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককেও এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সুদ হার নির্ধারিত আছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণে যে সুদ হার সেই হার। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের এই কার্যক্রম শুরু করে।

এরপর থেকে প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান হারে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে হিসাবে গত বছর বিতরণ করা ঋণের সঙ্গে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা যোগ করে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসের তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে কর্মরত ৯ বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৭টি-আল ফালাহ ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ শুরুই করেনি।

এছাড়া দেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মধুমতি, সীমান্ত ব্যাংক এবং দ্য সিটি ব্যাংক বিতরণ শুরু করেনি। অন্যদিকে ঋণ বিতরণ শুরু করলেও তা সর্বনিু পরিমাণ-এমন ব্যাংকগুলো হল রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক ব্যাংক; বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

এসব ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের হার লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশ থেকে নিচে। অন্যদিকে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের সংখ্যা রয়েছে ৩টি। ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত বিডিবিএল, বিদেশি মালিকানাধীন এইচএসবিসি এবং প্রাইম ব্যাংক।

Bootstrap Image Preview