Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ মঙ্গলবার, জুন ২০২৪ | ৪ আষাঢ় ১৪৩১ | ঢাকা, ২৫ °সে

বাঙালিদের নাগরিকত্বের জন্য নীতিমালা তৈরি করতে বলেছেন ইমরান

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৮ AM
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৮ AM

bdmorning Image Preview
সংগৃহীত ছবি


পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করা কয়েক হাজার বাঙালিকে নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বুধবার তিনি বলেন, অনাগরিকদের বিষয়টি আর উপেক্ষা করতে পারে না পাকিস্তান।

কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে বসবাস করছেন, এখানেই জন্ম নিয়েছেন ও বিয়ে করেছেন- এসব নাগরিকের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির জাতীয় পরিষদে মঙ্গলবার ইমরান খান বলেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশকে উপেক্ষা করে দেশ ভালো কিছু অর্জন করতে পারে না। করাচিতে একটি ব্রিফিংয়ে আমরা অবগত হয়েছি- রাস্তাঘাটে অপরাধে জড়িতদের একটি বড় অংশ হচ্ছে নাগরিকত্ব ছাড়াই পাকিস্তানে বসবাস করা লোকজন।

তিনি বলেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়া না হলে তারা স্কুলে যেতে পারবে না, চাকরি পাবে না, কাজেই অপরাধ ছাড়া তারা আর কি করতে পারে?

আর এভাবেই আমরা একটি অবহেলিত শ্রেণি তৈরি করেছি জানিয়ে ইমরান খান বলেন, কাজেই এ ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

সাবেক এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেন, কয়েক দশক ধরে তাদের অধিকার দেয়া হচ্ছে না, শোষণ করা হচ্ছে- এমনকি তাদের মজুরিও অর্ধেক করে দেয়া হয়েছে।

তিনি এটিকে মানবাধিকারের বিষয় হিসেবে নিয়েছেন জানিয়ে বলেন, আমরা মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি। কাজেই তাদের দেখভালও আমাদের করতে হবে।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও আফগান শরণার্থীদেরও নাগরিকত্ব প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। পাকিস্তানের করাচিতে আফগান শরণার্থী এবং আটকে পড়া বাঙালি অভিবাসীদের বাস সবচেয়ে বেশি।

করাচি হলো পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল শহর। এখানে দেড় কোটির বেশি মানুষ বসবাস করে। বিগত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক এবং অপরাধ কার্যক্রম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সড়ক সন্ত্রাসের মতো অপরাধগুলো।

এই নগরীতে ২০ লাখের বেশি আফগান শরণার্থী এবং বাঙালি অভিবাসী বসবাস করে। পাকিস্তানে ১৬ লাখ নিবন্ধিত এবং ১০ লাখের বেশি অবৈধ আফগান শরণার্থী রয়েছে।

ইমরান খানের এই ঘোষণা বিপুল পরিমাণ আফগান এবং বাঙালিদের জন্য সুখবর। বিশেষ করে বিহারীদের জন্য। কেননা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সময় প্রথবারের মতো তারা ভারত ছেড়ে বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে আসে। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তানে যায়।

করাচির লাখ লাখ বাঙালিকে পাকিস্তান এখনও তাদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেয়নি। এই বঞ্চনার সঙ্গে যতটা না রয়েছে জাতিসত্তার সম্পর্ক, তার চেয়ে বেশি রয়েছে পাকিস্তানের জটিল ইতিহাসের।

সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচির গভর্নর হাউসে এক নৈশভোজে ইমরান বলেন, অনেক আফগান এবং বাঙালি গত ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। এখানে তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্ম হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট দিতে পারব।

বাঙালি ও আফগান নাগরিকদের জাতীয়তার অনুমোদন দিয়ে প্রাদেশিক আইন এবং অধ্যাদেশ যুক্ত করা হবে। আর এখানে মূলত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিকেই।

পাকিস্তানে বসবাসরত বাঙালিদের অবস্থার বর্ণনা করে ইমরান খান বলেন, পুরো প্রজন্ম (বাঙালি এবং আফগান) এখানে জন্মগ্রহণ করেছে এবং বেড়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট নেই। যার কারণে তারা চাকরি পাচ্ছে না। যেটা শেষ পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধের দিকে ঠেলে দেবে।

Bootstrap Image Preview