Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২৬ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ | ঢাকা, ২৫ °সে

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে মাসে আয় প্রায় ২ লাখ টাকা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৩, ১২:২২ PM
আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৩, ১২:২২ PM

bdmorning Image Preview
ছবিটি প্রতীকী


২০০১ সাল থেকেই বাড়িতে কম্পিউটার নিয়ে আসে পরিবার। তখন টাইপিং থেকে শুরু করে কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখে আমি। ২০১৫ সালে আমি উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। সেসময় বেশ কিছু ব্লগ সাইট ঘাটাঘাটি করে জানতে পারি অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব। তবে কাজ গুলো কি রকম বা আদৌ কি আয় করা সম্ভব কিনা সে ব্যাপার বুঝে উঠতে পারছিলাম না।

তবে নিজের উপর বিশ্বাস ছিল কিছু একটা করতে পারবো। সেই আত্মবিশ্বাসে প্রতিনিয়তো সেলফ স্টাডি করতে শুরু করি। শেষমেশ পেয়েও গেলাম একটা সাইট যেখান থেকে ক্লিক করার মাধ্যমে, সাইডটি কিছু সেন্ট আমাকে দিবে। এরপর কাজ শুরু করে দিলাম। তবে আমি কখনো টাকার পরিমাণ নিয়ে ভাবিনি। আসলে কাজটা কী সেটা আরো বেশি করে জানতে আরো বেশি করে কাজ করতাম। তবে এই কাজের পাশাপাশি রিসার্চের কাজও করতাম। জানার আগ্রহ থেকে অনলাইন মার্কেটিং সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করলাম। ২০১৬ সালে আমি একটি মার্কেটপ্লেস নেটওয়ার্কে একাউন্ট তৈরি করি এবং কাজ শুরু করি।

দেখতে দেখতে আরো দেড় বছর পার হয়ে গেলেও সেখান থেকে আমার কোন অর্থ আসতো না। তবে এসব না ভেবে আমার কাজ ছিল এগিয়ে যাওয়া। নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল আমি এখান থেকেই টাকা উপার্জন করবো। সে সময় ফ্রিলান্সিং এর কাজ তেমন জনপ্রিয় ছিল না। আর কারো থেকে শিখবো কিংবা সাহায্য নিবো সেরকম বিশ্বাসযোগ্য কেউ ছিল না। এভাবে কাজ করে যাওয়ার ফলে একদিন আয় করতে শুরু করলাম। যা ছিল খুবই সামান্য , মাত্র ২.৫০ ডলার । তবে আমার খুশির কোন শেষ ছিল না। এরপর আমার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরো দৃঢ় মনোবল এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের স্কিল ডেভেলপ করা শুরু করে দেই এবং কাজ করতে থাকি। সেই সময় আমার মা আমাকে অনেক প্রেরণা ও সাহস দিয়েছে। শুধু যে উপার্জন করবো এজন্য নয়, এই কাজের প্রতি আমার ভালোলাগা দেখেই মা আমাকে দিনের পর দিন আরো উৎসাহ দিয়েছেন। এভাবে সময় যেতে থাকে এবং আমি আমার কাজের ক্ষেত্র বাড়াতে থাকি। তারপর নিজের নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বিদেশী বায়ারদের সাথে কাজ করা শুরু করে দেই। ফাইভার, আপওয়ার্ক এর মতো মার্কেটপ্লেসে কাজ করা শুরু করি। ইউএসএ এবং ইউকে এর কিছু পার্মানেন্ট ক্লাইন্ট ও পেয়ে যাই যাদেরকে আমি সার্ভিস দেওয়া শুরু করি। তখন অনেক কাজ থাকা সত্ত্বেও আমার সব কাজ একটা রুটিন এর ভিতরে চলে আসে। নিজের কাজ পাশাপাশি বায়ারদের কাজ মিলিয়ে বেশ ভালোই যাচ্ছিলো এবং একটা জিনিস খেয়াল করলাম উপার্জনের পরিধিটাও আস্তে আস্তে বাড়ছে।

অনেকেই ২০২০ সাল থেকেই আমাকে সফল ফ্রিল্যান্সার বলতো। তবে আমি নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সব সময় জানার চেষ্টা করতাম। কেননা অনলাইন এমন একটা সেক্টর যেখানে জানার এবং শেখার শেষ নেই। আমি মূলত, এফিলিয়েট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট,গুগোল এড, ফেসবুক এড, ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং (ওয়েব এনালিটিক্স, সার্ভার সাইড ট্রেকিং, ডেটা স্টুডিও) নিয়ে কাজ করে থাকি। সেই সাথে একজন সারটিফাইড ডিজিটাল মার্কেটার। এখন ২০২৩ সাল এবং আজো আমি নিজের স্কিল ডেভেলপ করার জন্য প্রতিনিয়ত শিখি। ভালো লাগা থেকেই কাজ করে যাচ্ছি এবং আলহামদুলিল্লাহ এখন মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা উপার্জন করতে সক্ষম আমি।

Bootstrap Image Preview